1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

ব্যবসা করছেন, আয়ও ভালো কিন্তু টাকা আপনার হাতে থাকছে না!

ধরুন, ব্যবসা করছেন, ভালো আয় হচ্ছে, কিন্তু টাকা আপনার হাতে থাকছে না। সাধারণ বোধবুদ্ধিতে মনে হতে পারে, সেটা কেমন কথা। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে। যুক্তরাজ্যের মিড ওয়েলস অঞ্চলে এমনই এক সংকটে পড়েছিলেন হিলটপ হানির স্বত্বাধিকারী স্কট ডেভিস। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘সত্যি জানতাম না, টাকা কোথায় যাচ্ছিল, অথচ এমন নয় যে উপার্জন হচ্ছিল না।’ এই সমস্যার সমাধান করার পরই কেবল তিনি ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হন।

২০১১ সালে মিড ওয়েলসে মধুর এই খামার গড়ে তোলেন স্টক ডেভিস। এর আগে এক কয়লা কারখানায় কাজ করেছেন তিনি। ফলে ব্যবসা সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান ছিল না তাঁর। ব্যবসা বলতে তিনি শুধু একটি ব্যাপারই বুঝতেন—যত দামে পণ্য উৎপাদন করবেন, তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হবে। বিক্রি হচ্ছিলও ভালো, কিন্তু একসময় খেয়াল করলেন, এত বিক্রির পরও তিনি যেন নগদ অর্থের সংকটে ভুগছেন।

এরপর তিনি খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করেন, ব্যবসায় টাকা কীভাবে আসে আর সেখান থেকে তা কীভাবেই বা যায়। দেখলেন, ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার আগেই তাঁকে সরবরাহকারীদের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। নতুন ব্যবসায় এসেছেন, সরবরাহকারীদের সঙ্গে তেমন সখ্য হয়ে ওঠেনি, সে জন্য সরবরাহকারীরা তাঁকে টাকা পরিশোধে তেমন একটা সময় দিতেন না। অর্থাৎ সব কেনাকাটাই করতে হতো নগদে। কিন্তু নিজের বেলায় ঘটত ঠিক তার উল্টো। ক্রেতারা তার কাছ থেকে পণ্য নিয়ে বলত, দুই মাসের আগে টাকা পরিশোধ করা যাবে না।

বিপত্তি সেখানেই ঘটত। স্কট ডেভিস বলেন, ‘যেমন কেউ ৫ হাজার জার মধুর অর্ডার দিল, সরবরাহকারীদের কাছ থেকে নগদ টাকায় তা কিনতে হচ্ছে, কিন্তু ক্রেতা টাকা দিচ্ছেন দুই মাস পরে। এর মধ্যে অন্য কেউ বড় অর্ডার দিলে বিপদ। বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে মধু সংগ্রহ করতে হবে, কিন্তু টাকা পড়ে আছে ক্রেতাদের হাতে।’

এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক কৌশলে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হয় স্কটকে। তিনি তখন সরবরাহকারীদের সঙ্গে নতুন করে দেনদরবার শুরু করেন, অর্থ পরিশোধে সময় আরও বাড়ানো যায় কি না। সরবরাহ আবার কমানো যাবে না, ফলে এক উভয়সংকটের মধ্যে পড়েন তিনি। তখন সরবরাহকারীদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়। তিনি তখন বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ না করে এক সপ্তাহ পরে অর্থ পরিশোধ করতে চান। তবে সরবরাহকারীরা বেঁকে বসেননি, তাঁরাও ব্যাপারটা বুঝতে পারেন।

তাঁরা তখন ভাবলেন, স্কট তো দুই বছর ধরে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ পরিশোধ করেছেন। ফলে এখন এক সপ্তাহ পরে করলে সমস্যা কী। এরপর সেই সময়টা এক সপ্তাহ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এক মাস ও এমনকি দুই মাস পর্যন্ত গড়ায়। এতে স্কটের হাতে অতিরিক্ত অর্থ আসে। এতে তিনি হাতেনাতে ফল পান। তাঁর ব্যবসার বার্ষিক টার্নওভার এখন ১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন দোকান ও সুপারশপে এখন তাঁর উৎপাদিত মধু বিক্রি হয়।

স্কট ডেভিস কর্মঠ মানুষ। তরুণ উদ্যোক্তাদের তিনি নানা পরামর্শ দেন। তবে তিনি মানেন, ব্যবসার শুরুতে একজন তরুণ উদ্যোক্তার তেমন সুযোগ থাকে না। তখন বাধ্য হয়েই সরবরাহকারীদের স্বল্প মেয়াদে অর্থ পরিশোধ করতে হয় এবং ক্রেতাদের কাছে দীর্ঘ মেয়াদে টাকা ফেলে রাখতে হয়। তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।




More News Of This Category