1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

ব্যবসা সহজ করতে সিঙ্গাপুরকে মডেল মানছে বাংলাদেশ

ব্যবসা সহজ করতে সিঙ্গাপুরকে অনুসরণ করতে চায় বাংলাদেশ। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য-প্রক্রিয়া মসৃণ করতে সিঙ্গাপুরকেই মডেল মানছে বাংলাদেশ। সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানির সময়কাল, নথিপত্র—এসব বিষয়ে সিঙ্গাপুরকে ভিত্তি ধরে ব্যবসা সহজ করার সূচকে নিজেদের এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ।

এসব কাজ করতে কয়েক মাস আগে সরকার ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব নজিবুর রহমানের নেতৃত্ব কমিটি গঠন করে। এই কমিটি কাস্টমস ও বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধির কিছু উপসূচকে সিঙ্গাপুরকে ভিত্তি করে বাংলাদেশের লক্ষ্য ঠিক করেছে। গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এসব লক্ষ্য ঠিক করা হয়।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ব্যবসা সহজ করার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম। আর সিঙ্গাপুর আছে দ্বিতীয় স্থানে। সিঙ্গাপুরে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সময়, খরচ কত হয়, সেটাকে বিবেচনায় এনে বাংলাদেশ এসব খাতে লক্ষ্য ঠিক করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি ও এ কে খান গ্রুপের পরিচালক আবুল কাসেম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সহজ করতে হলে বন্দরসুবিধা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। বন্দরগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থাপনায় আনা উচিত।’ তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরকে মডেল ধরা একটি ভালো উদ্যোগ। বন্দর কার্যকর হলে আমদানি-রপ্তানির খরচও কমে আসবে।

আবুল কাসেম খান আরও বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ ভালো করলেও ব্যবসা সহজ করার সূচক ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে যাচ্ছে। ১০ বছর আগেও ব্যবসা সহজ করা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো ছিল। এই সময়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ খুব বেশি উন্নতি করতে পারেনি।

বৈঠকের কার্যপত্র অনুযায়ী, রপ্তানির ক্ষেত্রে সীমান্ত বা বন্দরের আনুষঙ্গিক কাজকর্ম সম্পন্ন করতে এখন গড়ে ১৬৮ ঘণ্টা বা ৭ দিন সময় লাগে। সিঙ্গাপুরে লাগে ১০ ঘণ্টা। বাংলাদেশের জন্য এই সময়সীমার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ৩৬ ঘণ্টা। রপ্তানির চালানের জন্য সীমান্তে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে খরচ হয় ৪০৮ মার্কিন ডলার। সিঙ্গাপুরে খরচ হয় ৩৩৫ ডলার। তাই বাংলাদেশে এই খরচ চালান প্রতি ২০০ ডলারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

বাংলাদেশে রপ্তানির নথিপত্র নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হয় ১৪৭ ঘণ্টা। সেখানে সিঙ্গাপুরে লাগে মাত্র ২ ঘণ্টা। বাংলাদেশও ২ ঘণ্টায় এসব কাজ শেষ করতে চায়। এ দেশে রপ্তানির নথিপত্র তৈরি করতে বর্তমানে খরচ হয় ২২৫ ডলারের মতো। সেই খরচ কমিয়ে এখন ১০০ ডলারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে এ খরচ মাত্র ৩৭ ডলার।

আমদানির ক্ষেত্রে সীমান্ত বা বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে বর্তমানে গড়ে সময় লাগে ২১৬ ঘণ্টা বা ৯ দিন। সিঙ্গাপুরে এ ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সময় লাগে মাত্র ৩৩ ঘণ্টা। বাংলাদেশ এখন ৪ দিনে এসব কার্যক্রম শেষ করতে চায়। বাংলাদেশে সীমান্ত বা বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে খরচ হয় ৯০০ ডলার, যা সিঙ্গাপুরে লাগে মাত্র ২২০ ডলার।

বাংলাদেশ চায় ২০ থেকে ৪০ ফুট কনটেইনারের খরচ যেন ১৮০ থেকে ২১০ ডলারের মধ্যেই থাকে। আমদানির সময় নথিপত্র নিয়ে এ-টেবিল ও-টেবিল দৌড়ে কাজ করতে ১৪৪ ঘণ্টা বা ৬ দিন সময় চলে যায়। অথচ সিঙ্গাপুরে লাগে মাত্র ৩ ঘণ্টা। এখন এসে এসব কাজকর্ম শেষ করতে ১ দিনের বেশি সময় নিতে চায় না বাংলাদেশ। পাশাপাশি আমদানির নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণের খরচ ৩৭০ ডলার থেকে কমিয়ে ৫০ ডলারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরে খরচ হয় মাত্র ৪০ ডলার।

অন্যান্য
পণ্য রপ্তানিতে বিল অব এক্সপোর্টে রপ্তানিকারকের ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) ব্যবহৃত হয়। সভায় সুপারিশ করা হয়, রপ্তানি ফরমের পরিবর্তে বিআইএন ব্যবহার করে রপ্তানি কার্যক্রম ও মূল প্রত্যয়নের বিষয়ে সময় কমানো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে রপ্তানি ফরম বাতিল করা যেতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে। তথ্যসূত্র: প্রথমআলো।

More News Of This Category