1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে বানিজ্য সুবিধা পেলেও বিনিময়ে সুবিধা দেয় না

চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের সমাধান হয়নি। এর মধ্যেই ভারতীয় পণ্যে আমদানি শুল্কছাড়ের সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে কয়েক দফা টুইটও করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ওয়াশিংটন জানাল, ভারত বাণিজ্য-সংক্রান্ত স্পষ্ট প্রস্তাব দিলে আলোচনার রাস্তা খোলা রয়েছে। তেমনটা হলে নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সূত্রে এই খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যেসব দেশের সঙ্গে বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের ব্যাপারে দুটি নীতি গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক, আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ও নানা সুবিধা প্রত্যাহার করে চাপ বাড়ানো। দুই, তারপর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি করার লক্ষ্যে দেশগুলোকে আলোচনার টেবিলে টেনে আনা।

যেমন চীনের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি পৌঁছেছে ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে। সে দেশের পণ্যেও উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তারপর শুরু হয়েছে বাণিজ্য বৈঠক। এবার ভারতের ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে তারা। লক্ষ্য, দেশটিতে তাদের পণ্যের রপ্তানি আরও বাধাহীন করা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক পদস্থ কর্মকর্তার বক্তব্য, ‘ভারতের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সহযোগী হিসেবে আমরা গর্বিত। কিন্তু এখানে নিয়ন্ত্রণবিধি যে রকম কঠিন, তাতে মার্কিন সংস্থাগুলোর ব্যবসা করতে সমস্যা হচ্ছে। বাণিজ্যই দুই দেশের সম্পর্কে প্রধান হতাশার জায়গা। তবে ভারত প্রয়োজনীয় প্রস্তাব দিলে আলোচনার রাস্তা খোলা।’

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাণিজ্য সুবিধা পেলেও বিনিময়ে তারা সুবিধা দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পণ্যে ভারত উচ্চ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। এ ছাড়া ভারত অনেক ক্ষেত্রেই বাজার সীমিত করে রেখেছে বলে তাদের অভিযোগ। গত এক বছর নয়াদিল্লির সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু তাদের তরফ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া যায়নি।

তারপরই কয়েকটি ভারতীয় পণ্যের বিনা শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুবিধা (জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স বা জিএসপি) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরেও একই রকম কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তুলে নেওয়া হয়েছিল অন্তত ৫০টি পণ্যের বিনা শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির সুযোগ। অন্যদিকে ভারতের বাণিজ্যসচিব অনুপ ভাধোয়ান বলেন, জিএসপি প্রত্যাহার করা হলে ভারতের ১৯ কোটি ডলারের মতো ক্ষতি হবে, যা আদতে তেমন কিছু নয়।

১৯৭০-এর দশকে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি বা অগ্রাধিকারমূলক বাজার-সুবিধা চালু করে। আর ভারত যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী।

ওই সময় ভারতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশের মতো। এ বছর ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যকে হটিয়ে সে জায়গায় চলে যাচ্ছে তারা। সে কারণে ট্রাম্প বলছেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন দরকার। যেসব দেশ এখন আর উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নেই, তাদের কেন যুক্তরাষ্ট্রে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দেওয়া হবে; বিশেষ করে তারা যদি পাল্টা সুবিধা না দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে ভারত। ডব্লিউটিওতে যাওয়ার পাশাপাশি আরেকটি সুযোগ হলো রপ্তানি শিল্পকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া। এ ছাড়া ২৯টি মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের কথাও ভাবছে তারা। তবে এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ছয়বার পেছানো হয়েছে।

ডব্লিউটিওর সালিস দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তাই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত বলে মনে করেন অনেকে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য স্বীকার করেছে, গত বছর অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি বাড়ায় ভারতের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে প্রায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

More News Of This Category