1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

মহামারীর মধ্যেও ২৪ ঘণ্টা উৎপাদনে রয়েছে চীনের কারখানাগুলো।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেও ২৪ ঘণ্টা উৎপাদনে রয়েছে চীনের প্রযুক্তি পণ্য নির্মাণ কারখানাগুলো। এর মধ্যে হুয়াওয়ে জানিয়েছে, গতকাল থেকে তারা কারখানা চালু করেছে। এছাড়া একাধিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীনা চান্দ্রবর্ষের ছুটিতেও কারখানা বন্ধ করেনি বলে জানা গেছে। যদিও এরই মধ্যে ৩৬১ প্রাণ হরণকারী করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার প্রতিরোধে কলকারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে চীন সরকার। খবর রয়টার্স।

চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ে টেকনোলজিস জানিয়েছে, নববর্ষের ছুটি শেষে তারা আবার কারখানা চালু করেছে। সেলফোনসহ বিভিন্ন কনজিউমার ডিভাইস ও টেলিকম সরঞ্জাম উৎপাদন অব্যাহত আছে। তাছাড়া কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিকভাবেই চলছে বলে দাবি করছেন হুয়াওয়ের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামাদি প্রস্তুত করে, এমন বেশ কয়েকটি কারখানার উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার। সরকারি এ সিদ্ধান্তের আওতায় হুয়াওয়ের কারখানাও ছুটির পর পূর্ণোদ্যমে চালু হলো। হুয়াওয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছে, মূলত গুয়াংদং প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দংগুয়ানে অবস্থিত কারখানাগুলোয় বেশির ভাগ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে নানা বাধার মুখে পড়েছে চীন। এ কারণে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চেইনে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে লক্ষ্যে অনেক কারখানা ছুটির মধ্যেও উৎপাদন অব্যাহত রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছে। ভাইরাস মহামারী সত্ত্বেও বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শিল্প-কারখানা চালু রাখার ঝুঁকি নিচ্ছে সরকার।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইয়ানিজ মেমোরি টেকনোলজিস (ওয়াইএমটিসি) নিশ্চিত করেছে যে তারা একদিনের জন্যও উৎপাদন বন্ধ রাখেনি। যদিও করোনাভাইরাসের উত্পত্তিস্থল বলে ধারণা করা হচ্ছে সেই উহান শহরেই এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কারখানা অবস্থিত।

কোম্পানির একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, এ মুহূর্তে ওয়াইএমটিসির উৎপাদন একদম স্বাভাবিকভাবে চলছে। মুখপাত্র আরো দাবি করেন, এখন পর্যন্ত কারখানার একজন কর্মীও ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। তাছাড়া সতর্কতা স্বরূপ কারখানার ভেতরে বিশেষ ধরনের পৃথককরণ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে পার্টিশন ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, কারখানাটি চীনা নতুন চান্দ্রবর্ষের ছুটিতেও উৎপাদন বন্ধ করেনি। এদিকে সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল (এসএমআইসি) ছুটির মধ্যেও উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি পোস্টে তারা জানিয়েছে, উৎপাদন অব্যাহত রাখতে নববর্ষের আগেই তারা একটি বিশেষ কর্মী গ্রুপ তৈরি করেছে। এ কর্মীদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সরকারি সব নীতি মেনেই তারা কাজ করছে।

পোস্টে বলা হয়, বছরে ৩৬৫ দিন ও দৈনিক ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কারখানা চালু রাখার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো পণ্য পৌঁছে দেয়ার টার্গেট পূরণে এছাড়া এসএমআইসির আর কোনো বিকল্প পথ নেই। তিয়ানজিন, শেনঝেন, বেইজিং ও সাংহাইতে এ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কারখানা রয়েছে। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ৩৬১ জন। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২০৫ জনে। তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা

More News Of This Category