1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

মাত্র দুই জন থেকে চার হাজার কর্মীর প্রতিষ্ঠান

বিমানবন্দর সড়কের পাশেই একটি সুউচ্চ ভবনে জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডের অফিসে খুঁজে পেতে কষ্ট করতে হয়নি। আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে অফিসে প্রবেশ করতেই কর্মব্যস্ত চোখ আটকে যায়। সবাই ব্যস্ত যার যার মতো করে। প্রতিষ্ঠানটি সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিন্স মজুমদারে রুমেই কথা হয় শুরু থেকে আজকের অবস্থানে আসা প্রসঙ্গে। চলুন শুনি জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিন্স মজুমদারের মুখেই।

শুরুর কথা: আমি ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী আদনান ইমাম মিলে জেনেক্স ইনফোসিস শুরু করি ২০১২ সালে। তখন দেশের বিপিও এবং আইটি সার্ভিস সেক্টরটা তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। আমাদের দেশের তুলনায় ভারত ও ফিলিপাইন এ সেক্টরে অনেক এগিয়ে। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের অনুপ্রাণিত করেছিল তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টর নিয়ে কাজ করার। দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টর হতে পারে বড় একটি হাতিয়ার। সেই চিন্তা থেকেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা।

এ সেক্টরে আসার কারণ: আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল কর্মসংস্থান সমস্যা। আবার দেশেই অনেক কাজ রয়েছে, তবে রয়েছে দক্ষতার অভাব। দেশেই যদি কারও কম্পিউটারে দক্ষতা থাকে। তাহলে তাকে এক মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো যায়। আমাদের এখানে খুবই দ্রুত প্রযুক্তি ক্ষেত্রে জনবল তৈরি করা সুযোগ রয়েছে। সে কারণে আমরা এ সেক্টরে কাজ করছি এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে অবদান রাখছি।

লক্ষ্য আকাশ ছোঁয়া: আমাদের কোম্পানি শুরু হয়েছিল দু’জন কর্মী দিয়ে। তখন বনানীতে ছোট্ট একটা অফিস ছিল আমাদের। এখন আমাদের কর্মী সংখ্যা চার হাজারের বেশি। বিপিও এবং আইটি সার্ভিসের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির অনেক শাখাতে আমরা এখন কাজ করছি। ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবতা আমাদের দ্রুত এগিয়ে যেতে সাপোর্ট করেছে।

বিশ্বে বাংলাদেশের প্রধানতম আইটি কোম্পানি হিসেবে পরিচিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। প্রতিষ্ঠার পর আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় মাইলস্টোন ছিল রবি আজিয়াটার সঙ্গে কাজ শুরু করা। রবির কাজটা পাওয়ার পরই আমাদের কর্মী সংখ্যা তরতর করে বাড়তে থাকে। এক বছরের মাথায় ৭০০ কর্মী হয়ে গিয়েছিল। আমাদের এগিয়ে যাওয়া তখন থেকেই শুরু।

শিক্ষার্থী হাতে হাত রেখে: বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো চাকরির সুযোগ ছিল না আগে। আমরা এ ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই কাজের সুযোগ করে দিয়েছিলাম তখন। এ সিন্ধান্তটা আমাদের জন্য খুবই কাজে দিয়েছিল। বর্তমানে আমাদের কোম্পানির কর্মীর মধ্যে অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করছে।

ফলে শিক্ষার্থীরা চাকরি সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা নিয়ে শিক্ষা জীবন শেষ করতে পারছে। আমরা চাকরি দেয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি শিক্ষার্থীরা এখানে কাজ করতে করতে অনেক ভালো চাকরির জন্য নিজেকে তৈরি করতে পারছে। এখানে আমাদের একটা সুবিধা আছে।

আমরা যখন শিক্ষার্থীদের চাকরিতে নিচ্ছি তখন কম হলে তাকে তিন বছরের জন্য আমরা খুব ভালোভাবে পাই। এবং পাস করার পর উচ্চতর পদে যোগ্যতা অনুযায়ী আমাদের প্রতিষ্ঠানেই কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এ নিয়োগগুলো করার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাজ করা আরও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

৩০ হাজার মানুষকে চাকরি: জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেছে এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। এখানে ৩০ হাজার একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা। কিন্তু এ ৩০ হাজার মানুষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরও কয়েক লাখ মানুষ। এ সুযোগটি যদি না পেত তাহলে এ মানুষগুলোর খারাপ পথে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকত। নারীর ক্ষমতায়নে আমরা কাজ করছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ৪৮ শতাংশ নারী কাজ করে।

কর্মীকে দক্ষ করা: আমাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণ করানো হয়। ভবিষ্যতে যেন তারা কোথায় আটকে না যায়, সে জন্যই এ প্রশিক্ষণ। শিক্ষার্থীরা এ প্রশিক্ষণের পর আরও বেশি ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এটা তাদের সারা জীবনের একটা অর্জন। এর মধ্যে জেনেক্স একাডেমিতে আমরা দক্ষ জনবল তৈরিতে কাজ করছি। জেনেক্স একাডেমির মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ এখন উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত করানো হচ্ছে এবং সেখানে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।

বর্তমানে কী করছি: জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড ২০১২ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। এখন প্রতিষ্ঠানটির ছয়টি বিজনেস ইউনিট রয়েছে। বিপিও এবং আইটি সার্ভিসের পাশাপাশি, কন্টাক্ট সেন্টার, সিস্টেমস ইন্টিগ্রেশন এবং মেইন্টেনেন্স, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, রোবটিক প্রসেস অটোমেশন, ক্লাউড মাইগ্রেশন, সাইবার সিকিউরিটি সলিউশন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি সেবা দিয়ে থাকে কোম্পানিটি। এর মধ্যে জেনেক্স অ্যাকাডেমিতে আমরা দক্ষ জনবল তৈরিতে কাজ করছি।

কোম্পানির গ্রাহক: জেনেক্স ইনফোসিস মূলত বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে। ২৫টির বেশি বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় ও বিদেশি খ্যাতনামা কিছু প্রতিষ্ঠান।

সহযোগী: গ্রিড অ্যান্ড রেড টেকনোলজিস লিমিটেড নামে জেনেক্সের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান আছে। গ্রিন অ্যান্ড রেড (জিএনআর) একটি স্বতন্ত্র কোম্পানি হিসেবে ২০০৯ সালে নিবন্ধিত হয়ে ব্যবসা শুরু করে। জেনেক্স ইনফোসিস ২০১৫ সালে গ্রিন অ্যান্ড রেডকে অধিগ্রহণ করে। গ্রিন অ্যান্ড রেডের মূল ব্যবসা হচ্ছে স্থানীয় ওয়েবসাইটগুলোয় বিজ্ঞাপন সরবরাহ করা, যা গুগল অ্যাডসেন্সের মতো করে ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত হয়। এ ছাড়া কোম্পানিটি নেটওয়ার্ক সলিউশনস, সফটওয়্যার সলিউশনস, গ্রাফিক ডিজাইনসহ নানা ধরনের সেবা দিয়ে থাকে।

যাদের হাত ধরে: জেনেক্স ইনফোসিসের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন চৌধুরী ফজলে ইমাম। তিনি আইপিই গ্র“পের চেয়ারম্যান। অনিবাসী এ বাংলাদেশি প্রায় ৪০ বছর নোভার্টিসসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিতে উচ্চতর পদে কাজ করেছেন। জেনেক্স ইনফোসিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী আদনান ইমাম যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্টেন্ট।

তিনি লন্ডনে বিনিয়োগ ব্যাংক মেরিল লিঞ্চে দায়িত্বশীল পদে কাজ করেছেন। তিনি ২০০৯ সালে বাংলাদেশে ফাইন্যান্স, ট্রেডিং, তথ্যপ্রযুক্তি, রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা শুরু করেন। জেনেক্স ইনফোসিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিন্স মজুমদার ২২ বছরেরও বেশি সময় তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে কাজ করছেন।

More News Of This Category