1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ১৮ মাস মেয়াদে চলতি মূলধন ঋণ!

করোনাভাইরাসে কৃষি খাতের ক্ষতি মোকাবেলায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ স্কীমের নাম কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম। এ তহবিল থেকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে চলতি মূলধন ঋণ পাবেন কৃষকরা। এ ঋণের মেয়াদ হবে ৬ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৮ মাস বা দেড় বছর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্যকালে করোনাভাইরাসে কৃষি খাতের ক্ষতি মোকাবেলায় কৃষকের জন্য ৫০০০ কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরই কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের উদ্দেশ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন ও পরিচালনার নীতিমালা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনেসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে পড়েছে। দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের কৃষি খাত। এই খাতে পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে দেশের সার্বিক কৃষি খাত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।

সেজন্যই কৃষি খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণে ইচ্ছুক তফসিলি ব্যাংকসমূহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষর করবে। চুক্তির মাধ্যমে এই স্কিমের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে ব্যাংকগুলো।

চলতি বছরে গ্রাহকদের অনুকূলে ঋণ বিতরণ পূর্বক মাসিক ভিত্তিতে পুনঃঅর্থায়নের জন্য আবেদন করতে হবে। ব্যাংক সমূহের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ও সব ক্ষমতার ভিত্তিতে কৃষিঋণ বিভাগ কর্তৃক ব্যাংকসমূহের অনুকূলে তহবিল বরাদ্দ করা হবে। তবে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণের পর বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে পর্যায়ক্রমে তহবিলের সমপরিমাণ অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বিদ্যমান কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালায় বর্ণিত বিধিবিধানসমূহ অনুসরণপূর্বক ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের আলোকে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে বিবেচনা করবে এবং প্রতিটি ঋণের জন্য পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করবে। ব্যাংকগুলো পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের তারিখ হতে অনধিক ১৮ মাসের (১২ মাস + গ্রেস পিরিয়ড ৬ মাস) মধ্যে আসল এবং সুদ (বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ১% সুদ হারে) পরিশোধ করবে।

আর ব্যাংকগুলো গ্রাহক পর্যায়েও ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ঋণ গ্রহণের তারিখ হতে ১৮ মাস (৬ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ)। এ স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক হতে নির্ধারিত ১ শতাংশ সুদ হারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৪%। এই সুদ হার চলমান গ্রাহক এবং নতুন গ্রাহক উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

ঋণ বিতরণের খাত : শস্য ও ফসল খাত ব্যতীত কৃষির অন্যান্য চলতি মূলধন নির্ভরশীল খাতসমূহ যেমন মৌসুম ভিত্তিক ফুল ও ফল চাষ, মৎস্য চাষ, পোল্ট্রি, ডেইরি ও প্রানিসম্পদ খাত ঋণ পাবে। তবে, কোনো একক খাতে ব্যাংকের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ঋণের ৩০% এর বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারবে না।

এ ছাড়া যে সব উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান কৃষকের কাছ থেকে উৎপাদিত কৃষিপণ্য ক্রয় করে সরাসরি বিক্রয় করে থাকে তাদেরকেও এ স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণের জন্য বিবেচনা করা যাবে। তবে, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কোনো উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারবে না।

এই স্কিমের আওতায় বিতরণকৃত ঋণের অর্থ এর কোনো অংশের সদ্ব্যবহার হয়নি জানতে পারলে বাংলাদেশ ব্যাংক সমপরিমাণ অর্থের ওপর নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত ২ শতাংশ সুদসহ এককালীন জরিমানা করবে। তথ্যসূত্র: কালেরকন্ঠ।

More News Of This Category