1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

মা ও গৃহিণীদের ঘরে বসে আয় করার সেরা সব উপায়!

বর্তমান সময়ে মা এবং গৃহিণীরাও ঘর সংসারের দিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু কাজ করে আয় করতে চান। এতে নিজের পছন্দের জিনিসপত্র কেনা থেকে শুরু করে মাঝে মাঝে নিজের স্বপ্নের দিকেও হাত বাড়ানো যায়। বিয়ের পর মা এবং গৃহিণীদের ঘর সংসারের পাশাপাশি অন্য কোনো কাজ করার সময় ও ধৈর্য থাকা সত্ত্বেও কাজের অবস্থান ও রিকোয়ারেমেন্টের জন্য কাজ করা সম্ভব হয়ে উঠে না।

আজকে আমি এই আর্টিকেলে এমন কিছু আয় করার পদ্ধতির কথা বলবো যেগুলোর মাধ্যমে মা এবং গৃহিণীরা খুবই কম সময়ে ঘরে বসেই কাজ করে আয় করতে পারবেন। এখানে উল্লিখিত বেশ কিছু কাজকে, আপনি চাইলে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবেও ধরে রাখতে পারবেন। চলুন তাহলে জেনে আসা যাক, এমন কিছু আয় করার পদ্ধতি সম্পর্কে যেগুলোর মাধ্যমে একজন মা কিংবা গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও আপনি ঘরে বসে কাজ করে আয় করতে পারবেন।

অ্যাডভার্টাইজিং: আপনার যদি একটি ব্লগ থাকে, তাহলে আপনি সেই ব্লগে গুগল অ্যাডসেন্স, মিডিয়া ডট নেট, ইনফোলিংকসের মতো অ্যাডভার্টাইজমেন্ট যুক্ত করে সেখান থেকে আয় করতে পারেন। যদি আপনি অ্যাডভার্টাইজমেন্টের ক্ষেত্রে এসব অ্যাডভার্টাইজমেন্ট অ্যাজেন্সি থেকে অ্যাপ্রুভাল না পান তাহলে আপনার ব্লগে ট্র্যাফিক বৃদ্ধি করার পর, অ্যাড স্পেস বিক্রি করার মাধ্যমেও আয় করতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার: যদি আপনি মার্কেটিং সম্পর্কে অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন তাহলে একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে আয় করা শুরু করতে পারেন। একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার মূলত বিভিন্ন ধরণের অ্যাফিলিয়েট অ্যাজেন্সি (অ্যামাজন, ক্লিকব্যাংক ইত্যাদি) থেকে বিভিন্ন পণ্যের মার্কেটিং করে থাকেন। এক্ষেত্রে পণ্যটি যদি মার্কেটারের হাত ধরে বিক্রি হয় তাহলে মার্কেটার বেশ কিছু অর্থ পাবেন।

আর্টিস্ট: আপনি যদি আঁকতে পছন্দ করেন কিংবা টাইপোগ্রাফির মতো কাজগুলোতে আপনার আগ্রহ থাকে তাহলে একজন আর্টিস্ট হিসেবেও ঘরে বসে কাজ করা শুরু করতে পারেন। আপনি চাইলে অ্যাকুয়েন্টের মতো বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এই ধরণের কাজ খুঁজতে পারেন কিংবা নিজেই ঘরে বসে অনলাইনে আর্ট, পেইন্টিং, টাইপোগ্রাফি ইত্যাদি বিক্রি করতে পারেন।

অথর: আপনি যদি লিখতে পছন্দ করেন তাহলে নিজে নিজেই ঘরে বসে যেকোন বিষয়ের উপর বই লিখতে পারেন। বই লেখার পর সেটাকে পিডিএফ ভার্সনে কনভার্ট করে বিভিন্ন ধরণের ডিজিটাল মার্কেটে (গামরোড, ফেচঅ্যাপ, সেলফি ইত্যাদি) সেটা বিক্রি করতে পারেন অথবা অনলাইন ইকমার্স শপ তৈরি করে সেখানেও নিজের বই বিক্রি করতে পারেন।

বেইবি প্ল্যানার: আপনি যদি শিশুদের খুব পছন্দ করে থাকেন তাহলে একজন বেইবি প্ল্যানার হিসেবেও কাজ শুরু করতে পারেন। অনেক পরিবার রয়েছে যেখানে শিশুদের ঠিকমত যত্ন নেয়া হয় না বা যত্ন নেয়ার মতো কেউ থাকে না। সেক্ষেত্রে আপনি সেসব পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুদের যত্ন নিতে পারেন এবং ঘণ্টাভিত্তিতে কাজ করে আয় করতে পারেন। এমন অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে আপনি একজন বেইবি প্ল্যানার হিসেবে কাজ খুঁজতে পারবেন।

ব্লগার: আপনি যদি টুকটাক লিখতে পছন্দ করেন তাহলে একজন ব্লগার হিসেবেও বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারবেন। যেকোনো কাজের পাশাপাশি প্রত্যেকদিন মাত্র কয়েক ঘন্টা সময় দিয়েই আপনি মাসে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকার বেশি আয় করতে পারবেন। ব্লগার হিসেবে আয় করার জন্য আপনার প্রত্যেক দিন কমপক্ষে হাজারের উপর ট্র্যাফিক থাকা বাধ্যতামূলক।

কেক বেকার: আপনি যদি বিভিন্ন ধরণের রেসিপির পাশাপাশি কেক, চকলেট, বিস্কিট ইত্যাদি তৈরি করতে পছন্দ করে তাহলে আপনি অনলাইনে অনেক ধরণের বেকিং ব্যবসা খুঁজে পাবেন যেখান থেকে বিভিন্ন ধরণের বেকিং করার মাধ্যমে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারবেন। বর্তমানে মা এবং গৃহিণীদের জন্য এই ধরণের বেকিং ব্যবসা খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কনসালটেন্ট: আপনি কি নির্দিষ্ট কোনো বিষয় সম্পর্কে দক্ষ? যদি আপনার নির্দিষ্ট কোনো বিষয় সম্পর্কে ভালো ধারণা ও দক্ষতা থেকে থাকে তাহলে আপনি একজন কনসালটেন্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনি নিজের তৈরি করা পোর্টফোলিওতে কনসালটেন্ট হিসেবে নিজেকে অ্যাডভার্টাইজ করতে পারেন অথবা ফাইভার কিংবা আপওয়ার্কের মতো সাইটে অনলাইন কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ খুঁজতে পারেন।

কপিরাইটার: যদি আপনার ক্রিয়েটিভ কোনকিছু লেখার দক্ষতা থাকে তাহলে একজন কপিরাইটার হিসেবে অনলাইন কাজ খুঁজতে পারেন। কপিরাইটার মূলত টিভি কমার্শিয়াল, বিজ্ঞাপন, বিজনেস আইডিয়া, প্রমোশনাল অ্যাড ইত্যাদি লিখে থাকেন। ফাইভার, আপওয়ার্কের মতো অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে কপিরাইটিংয়ের অনেক ধরণের কাজ রয়েছে।

ক্র্যাফটার: যদি আপনি বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজে পারদর্শী হয়ে থাকেন কিংবা বিভিন্ন ফেলনা জিনিসপত্র দ্বারা ক্রিয়েটিভ কোনোকিছু তৈরি করতে পারেন তাহলে আপনি একজন ক্র্যাফটার হিসেবে অনলাইনে কাজ খুঁজতে পারেন। ফাইভার কিংবা ইনডিডের মতো অনেক ওয়েবসাইটে আপনি এই ধরণের কাজ খুঁজে পাবেন অথবা আপনি এটসি, ১০০০ মার্কেটারসের মতো ওয়েবসাইটে নিজের জিনিসপত্রের ছবি তুলে নিজের অনলাইন শপ তৈরি করে কাজ শুরু করতে পারেন।

এডিটর: যদি আপনার ভাষাগত দক্ষতা থেকে থাকে তাহলে আপনি একজন এডিটর হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা কিংবা ব্লগে কাজ পেতে পারেন। বর্তমানে অনেক ব্লগ ও অনলাইন পত্রিকা রয়েছে যারা এডিটরের কাজ দিয়ে থাকে। এরকম কিছু ব্লগ ও পত্রিকার এডিটরের কাজ আপনি ইনডিডের মতো ওয়েবসাইটে খুঁজে পাবেন।

ইভেন্ট প্ল্যানার: প্রত্যেকটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট গ্রুপে একজন অথবা দুইজন ইভেন্ট প্ল্যানার থাকেন, যারা মূলত ইভেন্টে সরাসরি উপস্থিত না থেকে তাদের আইডিয়া, ক্রিয়েটিভিটি ও বুদ্ধি দ্বারা ইভেন্টের প্ল্যানিং তৈরি করে থাকেন। এক্ষেত্রে আপনিও একজন ইভেন্ট প্ল্যানার হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন। ইভেন্ট প্ল্যানারের কাজের জন্য আপনাকে ইনডিডের মতো ওয়েবসাইটে কাজ খুঁজতে হতে পারে কিংবা আপনি চাইলে নিজেই একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ তৈরি করে সেখানে ইভেন্ট প্ল্যানার হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

More News Of This Category