1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

মেশিন লার্নিং বদলে দিতে পারে আপনার ব্যবসায়ের ভাগ্য!

বর্তমান সময়ে মেশিন লার্নিং খুবই আলোচিত একটি শব্দ। সহজ কথায়, মেশিন লার্নিং হচ্ছে কোনো মেশিনকে বা কোনো সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশেষ কিছু নির্দেশনার মাধ্যমে বিশেষ কিছু কাজ শিখিয়ে সেই কাজগুলো প্রতিনিয়ত করে নেওয়া। মেশিন লার্নিং ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন, নেটফ্লিক্স, ফেসবুক ও গুগল মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে আমাদের পছন্দ ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী আমাদের পছন্দ মোতাবেক বিভিন্ন সেবাসমূহের সাজেশন দিচ্ছে।

এগুলো তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা ইন্টারনেটের বিষয় গেলো। কিন্তু মেশিন লার্নিং যদি কোনো কারখানার ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে যোগ করা হয় তাহলে সেই কোম্পানির উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একটি কোম্পানি শুধুমাত্র উৎপাদনের দিকে নজর দিলেই চলবে না, সেই সাথে তাদেরকে মানের দিকেও নজর দিতে হবে। যেহেতু মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব, সেহেতু প্রতিটি কোম্পানি আশা করবে ,মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে যেন পণ্যের কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট করা যায়।

প্রশ্ন হচ্ছে, বাস্তবিক কী মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট করা সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব এবং ইতিমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশেই কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্টের কাজে মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার হচ্ছে। এই নিবন্ধে আলোকপাত করবো, কীভাবে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে পণ্যে ত্রুটি কমানোর পাশাপাশি কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্টের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়।

মেশিন লার্নিং যেভাবে কাজ করে: যেহেতু মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্টের কাজ করা হবে, তাই সবার আগে জেনে নেওয়া দরকার মেশিন লার্নিং কী এবং এটা কীভাবে কাজ করে। মেশিন লার্নিংয়ে মূলত অ্যালগরিদম বা হিসাবনিকাশের কিছু ক্রমধারা ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ডেটা থেকে নির্দিষ্ট কিছু কাজ শিখে সেই কাজগুলো করে থাকে।

এতে যন্ত্রপাতির পারফরম্যান্স বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। প্রেডিকশন জেনারেটিং মডেল প্রতিনিয়ত ডাটা আউটপুটের উপর নির্ভর করে আপডেট হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত পরিশোধিত বা পরিমার্জিত হচ্ছে। মেশিন লার্নার প্রকৃত আউটপুটের সাথে সম্ভাব্য আউটপুটের সাথে তুলনা করে তথ্যসমূহ থেকে প্যারামিটার তৈরি করে থাকে।

মেশিন লার্নিং অ্যাপ্লিকেশন: মেশিন লার্নিং শুধুমাত্র বর্তমান সময়ের কোনো আলোচিত শব্দ নয়। সেই সাথে মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানি ব্যবহার করে উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। উৎপাদনের কাজে বেশকিছু মেশিন লার্নিং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই অ্যাপ্লিকেশনগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

কোয়ালিটি কন্ট্রোল: যন্ত্রপাতিকে বেশকিছু ভিজুয়াল ডাটার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য এবং পণ্যে ত্রুটির বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে সে অনুযায়ী কাজ করানো যায়। পণ্যের বিভিন্ন উপাদানের ডাটা বিশ্লেষণ মাধ্যমে কোম্পানি খুব সহজে বুঝতে পারবে, পণ্যের কোন অংশটি মান অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং সেইসাথে খুব সহজেই নিশ্চিত হতে পারে উৎপাদনের কোন ধাপে ত্রুটি ঘটেছে। এর মাধ্যমে খুব সহজে এবং অল্প সময়ের মধ্যে কোনো কোম্পানি তাদের উৎপাদিত পণ্যসমূহের মান নিশ্চিত করতে পারে।

প্রেডিকটিভ মেইনট্যান্স: যন্ত্রপাতি একটানা ব্যবহার করার কারণে অনেক সময় সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে কোম্পানির পণ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে কোনো যন্ত্রপাতি ঠিক কতটুকু কাজ করার পর কোন সময়ে বিরতি দিতে হবে, সেটি নির্ধারণ করা যায়। উৎপাদনে এ ধরনের মেশিন লার্নিং ব্যবহারের ফলে কোম্পানির যন্ত্রপাতির কর্মদক্ষতা প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সেইসাথে পণ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মান বজায় থাকে।

প্রোডাকশন অপটিমাইজেশন: আধুনিক কোম্পানিগুলোতে ম্যানুফ্যাকচার বা পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উন্নততর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় বা সর্বোচ্চ উৎপাদনের জন্য সম্ভাব্য সবটুকু সুবিধা কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়। এটিই হচ্ছে প্রোডাকশন অপটিমাইজেশন। প্রোডাকশন অপটিমাইজেশনের জন্য বর্তমানে মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার হচ্ছে। মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং নির্ভরযোগ্য যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে যথাসময়ে পণ্য উৎপাদন করা যায়। সেই সাথে আউটপুট মনিটর করে সেটা প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নেয়া যায়।

খরচ কমানোর কাজে মেশিন লার্নিং: বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী ফোর্বসের মতে, মেশিন লার্নিং ব্যবহার করলে কোম্পানির পণ্য ৪ শতাংশ কম নষ্ট হয়। এছাড়া কোনো অর্ডারের জন্য পণ্য তৈরির উদ্দেশ্যে কাঁচামাল নির্দিষ্ট মাপে কাটার পর সেই অর্ডার কোনো কারণে বাতিল হলে যে ক্ষতি হয়, সেটা পুরো ২০ শতাংশ কম হয় মেশিন লার্নিং ব্যবহার করলে। ফলে কোম্পানির বিভিন্ন দিক দিয়ে খরচ কম হয় এবং পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কম হয়।

সাপ্লাই চেইন ইন্টিগ্রেশন: সাপ্লাই চেইন ইন্টিগ্রেশন বলতে বোঝায় উৎপাদক এবং সরবরাহকারীর মধ্যে সমন্বয়। মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে এটি খুব সহজেই করা যায়। মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদক এবং সরবরাহকারী আরো ভালোভাবে পরিকল্পনা করতে পারে এবং কাঁচামালের অভাব দেখা দেওয়ার সাথে সাথে সরবরাহকারী দ্রুত সেটা ডেলিভারি দিতে পারে। ফলে উৎপাদনে কোনো সমস্যা হয় না। মেশিন লার্নিংয়ের এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহারের কারণে কাজে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, পণ্যে কম ত্রুটি থাকে, সেই সাথে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ক্রেতাও সন্তুষ্ট হন।

বিগ ডেটা এবং কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের ভূমিকা: বিগ ডেটা বলতে বর্তমানে কোম্পানিগুলোর আগের চেয়ে যে আরো বেশি ডেটা সংগ্রহ করাকে বোঝায়। কিন্তু অনেক কোম্পানি মনে করছে, এই ডেটা বা তথ্যসমূহ সঠিকভাবে প্রক্রিয়া করতে না পারলে সেগুলো অর্থহীন এবং অপ্রয়োজনীয়। এখান থেকেই মূলত মেশিন লার্নিংয়ের উদ্ভব। মেশিন লার্নিং একইসাথে বিগ ডাটা বা বড় ধরনের তথ্যসমূহকে নিয়ন্ত্রণ করার পাশপাশি এটা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দিয়ে থাকে।

মূলত কোম্পানির প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণ মানসম্পন্ন ডাটার প্রয়োজন হয় এবং সেই ডাটাগুলো কোম্পানির উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সংযোগ ঘটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ না করে কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (কিউএমএস) এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়; যেমন, ইকুইপমেন্ট মেইনট্যান্স, অপ্রচলিত কাঁচামাল, কারেক্টিভ অ্যাকশন বা সংশোধনী ক্রিয়া, কোয়ালিটি রেকর্ডস, ক্রেতার অভিযোগ, কোয়ালিটি সম্পর্কিত এই তথ্যসমূহ একত্রিত করে, কিউএমএসকে কোম্পানির অন্যান্য ক্ষেত্রের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে হয়।

সেই ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ঝুঁকি, অর্থ এবং লজিস্টিক বিষয়ও থাকে। কোয়ালিটি সম্পর্কিত তথ্যের সাথে পুরো কোম্পানির সংযোগ ঘটানোর মাধ্যমে কোম্পানির বর্তমান অবস্থা খুব সহজে বুঝতে পারা যায়। সেই সাথে কোয়ালিটির সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর পাওয়া সহজ হয়। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

More News Of This Category