1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

মোটর পার্টসের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে নেই কর্তৃপক্ষ, ঠকছে ক্রেতা!

দেশের মোটর পার্টস বাজারের আকার ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ বাজার আরো বিস্তৃত হচ্ছে। কিন্তু এসব পার্টসের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। ফলে মানহীন পার্টস কিনে একদিকে ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাও।

বাজারে মোটর পার্টসের দাম তদারকির জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছামাফিক দামে বিক্রি করছেন এসব সরঞ্জাম।মোটর পার্টসের আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বাজারে গাড়ির যেসব পার্টস বিক্রি হচ্ছে তার প্রায় শতভাগই আমদানিকৃত। এসব পার্টস মূলত চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ও তাইওয়ান থেকে আমদানি করা হয়।

বাস, ট্রাক, লরি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, হিউম্যান হলার, ইজিবাইক, রিকশা, ভ্যান, বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন গাড়ির টায়ার, টিউব, ব্রেক সু, ইঞ্জিন অয়েল, ব্যাটারি থেকে শুরু করে যাবতীয় পার্টসই আমদানিনির্ভর। আমদানিকৃত এসব পার্টসের দাম ও মান যাচাইয়ের কোনো সুযোগ দেশে নেই। ফলে মানুষ মানহীন পার্টস কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। অন্যদিকে স্বল্পমূল্যে আমদানিকৃত পণ্য চড়া দামে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

রাজধানীর রসুলবাগ এলাকার মেসার্স আওলাদ হোসেন অটোমোবাইলসের স্বত্বাধিকারী আওলাদ হোসেন জানান, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া মোটর পার্টসের আসল-নকল নিরূপণ করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কারো নেই। চীন, তাইওয়ান ও ভারত থেকে এমন সব পার্টস তৈরি হয়ে আসছে, যা দেখে কারো পক্ষেই আসল-নকল শনাক্ত করা সম্ভব নয়।

এ কারণে ভোক্তাদের পাশাপাশি নিয়মিত ক্রেতা হারানোর ভয়ে বিড়ম্বনায় রয়েছেন বিক্রেতারাও। গাড়ি মেরামতের সময় যন্ত্রাংশের মূল্যসহ কোটেশন দাখিল করতে হয়। কিন্তু একই পার্টস একেক স্থানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে তারা বিভ্রান্তিতে পড়ছেন।

বাংলাদেশ মোটর পার্টস ও টায়ার-টিউব ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি মাহবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, দেশে মোটর পার্টসের ব্যবসা ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে এ খাতের বাজার ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এসব যন্ত্রাংশ মূলত ভারত ও চীন থেকে আসে। গাড়ির পার্টসগুলো আসল হলে গাড়িটি দীর্ঘদিন সচল থাকে। পাশাপাশি এক্ষেত্রে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও কম থাকে। সবদিক বিবেচনায় এসব মোটর পার্টসের গুণমান দেখভালের বিষয়টিতে সরকারের নজর দেয়া উচিত।

বংশালের একাধিক মোটর পার্টস ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় বিক্রি হওয়া মোটরসাইকেল পার্টসগুলোর অধিকাংশই আসে যশোর থেকে। এর অধিকাংশই দেশে ঢুকছে শুল্ক ও কার ফাঁকি দিয়ে। আর দেশে প্রবেশের পর এসব পণ্যের দামও নেয়া হচ্ছে মূল দামের কয়েকগুণ বেশি। সব ধরনের পার্টস প্যাকেটজাত হয়ে বিক্রি হলেও সেগুলোর গায়ে কোনো মূল্য লেখা নেই। ফলে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছেন।

পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতা থাকায় সীমিত লাভ করলেও খুচরা পর্যায়ে তা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। আর মান নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় উচ্চমূল্যে যন্ত্রাংশ কিনেও প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। রাজধানীর চানখারপুলের মোটরসাইকেল মেরামতকারী রাসেল আহমেদ বলেন, মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ কিনে অধিকাংশ ক্রেতাই প্রতারিত হচ্ছেন। আসল প্যাকেটে ভরে চড়া দামে নকল পণ্য বিক্রি করছেন অনেক ব্যবসায়ী। ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে ক্রেতাকে।

মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী আনিস উদ্দিন বলেন, প্রায়ই মোটরসাইকেলের টিউব লিকেজ হচ্ছে। কিছুদূর চালানোর পর পুরো টিউবই ফেলে দেয়া হচ্ছে। এ টিউবের দাম স্থানভেদে আলাদা। ২৫০ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম রাখা হচ্ছে। শুধু টিউবই নয়, অন্যান্য যন্ত্রাংশও ভিন্ন ভিন্ন দামে কিনতে হচ্ছে। অথচ চড়া দামে কিনলেও ব্যবহারে স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে আর ছুটতে হচ্ছে মেরামতের জন্য।

সার্বিক বিষয়ে বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক তাহের জামিল বলেন, মোটর পার্টসগুলোর গুণমান কিংবা মূল্য দেখভাল করা উচিত। এজন্য বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিকে (বিআরটিএ) দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে কারিগরি ও জনবল সহায়তা বাড়াতে হবে। তথ্যসূত্র: বনিকবার্তা।

More News Of This Category