মোটর সাইকেলের হেলমেট তৈরীর লাভজনক ব্যবসা!

আপনি যদি কম টাকায় উৎপাদনমুখী ব্যবসা করতে চান তাহলে শুরু করতে পারেন হেলমেট তৈরী ব্যবসা। হেলমেট একটি অন্যতম উপকারী ও বহুল ব্যবহৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শহর, নগর কিংবা গ্রাম সর্বত্রই মোটর সাইকেলে বা বাই সাইকেলে আরোহীদের জন্য হেলমেট অত্যাবশ্যকীয় একটি নিরাপত্তা সরঞ্জাম।

তাই বহুল ব্যবহৃত ও চাহিদার শীর্ষে থাকা এ পণ্যটি তৈরী করে যে কোন সৃজনশীল উদ্যোক্তা নিজেকে সেবামূলক এই ব্যবসাটিতে সম্পৃক্ত করতে পারেন। হেলমেট তৈরী ব্যবসা শুরু করার জন্য স্বল্প বিনিয়োগই যথেষ্ট। এটি একটি মেশিন নির্ভর উৎপাদন ব্যবসা।

এই শিল্পের প্রধান কাচাঁমাল প্লাষ্টিক, কাচঁ, ফোম ও অন্যান্য সহজলভ্য উপাদানের সমন্বয় ঘটিয়ে সহজেই উৎপাদন করা যায় হেলমেট। তবে আদর্শ সাইজ ও যথেষ্ট নিরাপত্তা দিতে সক্ষম এমন হেলমেট তৈরী করাই বাঞ্ছনীয়। এছাড়াও গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন সাইজ এবং কালারের প্রতিও লক্ষ্য রাখতে হবে।

সরকারী বিধি মোতাবেক বর্তমানে সকল বাইক আরোহী এবং সঙ্গীদেরও হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক হওয়ায় এর চাহিদা ও ব্যবহার ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। হেলমেট তৈরীর জন্য কারিগর ও শ্রমিক নিয়োগ করে বহুলোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বিশেষ কোন যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না।

শুধুমাত্র স্ট্যান্ডার্ড মানের হেলমেট তৈরীর অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট। সততা ও কর্মনিষ্ঠা এ ব্যবসাটিতে সফল হওয়ার একমাত্র হাতিয়ার। আপনার নিকটস্থ বাজার বা মার্কেটে এই ব্যবসাটি শুরু করা যেতে পারে। আপনি চাইলে নিজের বাড়িতে একটি উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। হেলমেট তৈরী ব্যবসা শুরু করতে আনুমানিক ১ লক্ষ টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পুজিঁ বিনিয়োগ করতে হতে পারে।

প্লাষ্টিকের হেলমেট তৈরীর প্রক্রিয়াটি একটি মেশিন নির্ভর শিল্প। প্রথমেই হেলমেট তৈরীর উপযুক্ত করে প্লাষ্টিক কেটে নিতে হবে। তারপর এই প্লাষ্টিকটিকে আবার মেশিনের সাহায্যে হেলমেটের আকৃতি প্রদান করতে হয়। এরপর এর উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার জন্য জেল কোটিং ব্যবহার করতে হয়। তারপর হেলমেটের সামনে দিকে ফাইবার গ্লাস লাগিয়ে নিলেই পরিপূর্ণ হেলমেট তৈরী হয়ে যায়। শুরু করার আগে যেকোন হেলমেট তৈরী কারখানা পরিদর্শন করে নেওয়া উচিত।

সাধারণত মোটর সাইকেল চালকরাই হেলমেটের প্রধান ভোক্তা হয়ে থাকেন। তাছাড়া বর্তমানে চালকদের সঙ্গীরাও হেলমেট ব্যবহারে সচেতন হয়ে উঠছেন। গাড়ির পার্টস বিক্রির দোকানে, শো- রুমে এমনকি ওয়ার্কশপেও এটি পাইকারী দরে বিক্রি করা যায়। তাছাড়া বিভিন্ন ডিজাইনের হেলমেট অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন।

হেলমেট তৈরী ব্যবসা শুরু করতে উদ্যোক্তাদের বিশেষ কোন যোগ্যতার প্রয়োজন না হলেও তবে মেশিন পরিচালনায় দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ দিতে হবে। সঠিকভাবে মার্কেটিং করতে পারলে সহজে ব্যবসায় লাভের মুখ দেখবেন।

একটি ভালমানের হেলমেট তৈরী করতে সাধারণত ৪০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে থাকে। আর বিক্রির সময় একটি হেলমেটের দাম পড়ে ৮০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। ক্ষেএ বিশেষ লাভ কমবেশী হতে পারে।

SHARE