1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে পারবে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা তত্পর। এ মাধ্যমের অপব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন করছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র। তাই অপব্যবহার ও অবৈধ লেনদেন বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নানা কড়াকড়ি আরোপ করছে। আর এ কড়াকড়িতেই বিকল্প এ লেনদেনের পরিমাণ কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ ও দৈনন্দিন গড় লেনদেন কমে গিয়েছে। এর আগের দুই মাসেও লেনদেনের পরিমাণ কমে গিয়েছিল। সে হিসাবে বলা যায়, ধারাবাহিকভাবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। যদিও এ ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট ও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা বেড়েছে।

তথ্যমতে, মোবাইল ব্যাংকিং চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ছয় কোটি ৬৭ লাখ গ্রাহক নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সক্রিয় বা সচল হিসাব রয়েছে তিন কোটি ১৪ লাখ। লেনদেনের পরিমাণ কমলেও বাড়তে শুরু করেছে সক্রিয় হিসাব। কোনো হিসাব থেকে টানা তিন মাস লেনদেন না হলে তা নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।

হিসাবে দেখা গেছে, গত মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৩০ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। আগের মাসে এর পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। অর্থাত্ এক মাসে ১২ শতাংশের উপরে লেনদেনের পরিমাণ কমে গিয়েছে। এ সময়ে দৈনন্দিন গড় লেনদেন ৯ শতাংশ কমে গিয়েছে। গতমাসে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বেতন প্রদান কমেছে ৫১ দশমিক ৮০ শতাংশ। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বেতন প্রদান করা হয়েছে ৩৯৮ কোটি টাকা। আগের মাসে যা ছিল ৮২৭ কোটি টাকা। একইভাবে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কমেছে ৩ শতাংশ, মার্চেন্ট পেমেন্ট কমেছে ১৭ শতাংশ ও পিটুপি ট্রানজেকশন কমেছে ১৩ শতাংশ। এছাড়া ক্যাশ ইন কমেছে ১৪ শতাংশ এবং ক্যাশ আউট কমেছে ১১ শতাংশ।

জানা গেছে, ২০১১ সালের মার্চে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রথমবারের মতো দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে। এ পর্যন্ত ৫৯টি ব্যাংকের মধ্যে ২৮টি ব্যাংককে এই সেবা চালুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ২০টি ব্যাংক সেবাটি চালু করতে পারলেও পরবর্তী সময় দুইটি ব্যাংক সেবাটি বন্ধ করে দেওয়ায় এখন ১৮টি ব্যাংক এ সেবা দিচ্ছে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে প্রথম এ সেবার নিবন্ধিত গ্রাহকসংখ্যা এক কোটি ছাড়ায়।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী, বর্তমানে একজন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (এমএফএস) গ্রাহক তার ব্যক্তিগত হিসাবে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার স্থিতি রাখতে পারবেন। এর আগে তিন লাখ টাকার বেশি স্থিতি রাখা যেত। গত বছরের ১১ জানুয়ারি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) অপব্যবহার রোধে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়, একজন ব্যক্তি যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একটিমাত্র হিসাব রাখতে পারবেন। যাদের একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব চলমান রয়েছে, তা দ্রুত বন্ধ করে দিতে হবে। কোনো মোবাইল হিসাবে পাঁচ হাজার টাকা বা তার তদূর্ধ্ব নগদ অর্থ জমা বা উত্তোলনে গ্রাহককে পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ডের ফটোকপি প্রদর্শন করতে হবে, যা এজেন্ট তার রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করবেন।

এমনকি রেজিস্টারে গ্রাহকের স্বাক্ষর বা টিপসই সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো এজেন্ট এই ধরনের কার্যাদি যথাযথভাবে সম্পন্ন না করলে বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে এজেন্টশিপ বাতিল করারও নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া ওই নির্দেশনায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় দৈনিক ও মাসিক লেনদেনের সীমা আরও কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়।

ওই নির্দেশনা অনুসারে, একজন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক একবারে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। আগে এ হার ছিল ২৫ হাজার টাকা। এখন থেকে গ্রাহক দৈনিক দুইবার এবং মাসে ১০ বার এ সেবা নিতে পারবেন, যা আগে ছিল দৈনিক তিনবার এবং মাসে ১০ বার। একইসঙ্গে দৈনিক জমার সীমাও পরিবর্তন করা হয়েছে।

এতে এখন থেকে দিনে সর্বোচ্চ দুই বারে ১৫ হাজার টাকা করে পাঠানো যাবে, যা মাসে সর্বমোট ২০ বারে এক লাখ টাকার বেশি হতে পারবে না। আগে দিনে পাঁচ বারে ২৫ হাজার টাকা এবং মাসে সর্বোচ্চ ২০ বারে দেড় লাখ টাকা করে জমা করা যেত। এছাড়া একটি মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে টাকা জমার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই হিসাব থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকার বেশি নগদ উত্তোলন করা যাবে না। নতুন প্রজ্ঞাপনে এসব নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। তথ্যসূত্র:ইত্তেফাক।

More News Of This Category