রড-সিমেন্টের মূল্যবৃদ্ধি অযৌক্তিক!

রড-সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) নেতারা। তাঁরা বলছেন, হঠাৎ করে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক আবাসন ব্যবসায়ী নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে চাইছেন। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তর অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। দুর্ভোগে পড়বেন ক্রেতারা। সংকট উত্তরণের পথে থাকা আবাসন খাত আবারও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে বলে মনে করেন নেতারা।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিহ্যাব নেতারা। এতে যৌথভাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের প্রথম সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, পরিচালক কামাল মাহমুদ, শাকিল কামাল চৌধুরী প্রমুখ।

রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, বর্তমানে ৬০ গ্রেডের প্রতি টন রড ৬৮ হাজার থেকে ৭০ হাজার এবং ৪০ গ্রেডের প্রতি টন রড ৫৩ হাজার থেকে ৫৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও ৬০ গ্রেডের রড ৫৯ হাজার থেকে ৬০ হাজার এবং ৪০ গ্রেডের রডের বাজারমূল্য ছিল ৫০ থেকে ৫১ হাজার টাকা। আর এক বছর আগে ৬০ গ্রেডের রড ৫২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার এবং ৪০ গ্রেডের রডের বিক্রি হয়েছে ৪২ থেকে ৪৩ হাজার টাকায়। তার মানে এক বছরের ব্যবধানে প্রতি টন রডের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে।

আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ‘রডের পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির সিমেন্টের দাম বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ইটের দাম প্রতি হাজারে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এই সময়ে সিমেন্টের ওপর কোনো ধরনের কর আরোপ করা হয়নি। বাড়েনি কাঁচামালের দাম। তাহলে এই মূল্যবৃদ্ধি কেন?’

রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী বলেন, কোনো রকম যুক্তি ছাড়াই রড-সিমেন্টের দাম বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, গত চার-পাঁচ বছরে ফ্ল্যাটের দাম ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সংশোধন হয়েছে। ক্রেতাদের ধারণা ছিল হয়তো দাম আরও কমবে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফ্ল্যাটের দাম আর না কমার সম্ভাবনাই বেশি। বরং নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় কোনো কোনো প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, রড-সিমেন্টের দাম আগের অবস্থায় না ফিরলে ফ্ল্যাটের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, নুরুন্নবী চৌধুরী বলেন, রড-সিমেন্টের দাম বাড়ায় প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাট নির্মাণে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রড, সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর দাম কমিয়ে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থান নেওয়ার দাবি করেন রিহ্যাব নেতারা।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ডটকম।

SHARE