1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

রপ্তানিকারক হিসেবে একজন উদ্যোক্তা যে সব সুবিধা পাবেন

রপ্তানি উন্নয়নের জন্য সরকার বিভিন্ন প্রকার সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। প্রয়োজনবোধে সুযোগ-সুবিধার পরিধি বাড়াতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। রপ্তানিকারক হিসেবে এসকল সুযোগের সদ্ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি একদিকে যেমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উন্নতি করতে পারে অপরদিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করার গৌরব অর্জন করতে পারে।

রপ্তানিকারকগণকে নিম্নোক্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে: ন্যুনতম ৮০% রপ্তানিমুখী চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ১০০% রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে ঘোষনা প্রদান করা। ন্যুনতম ৮০% রপ্তানিমুখী অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ১০০% রপ্তানিমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। এক্সপোর্ট ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীম (ইসিজিএস) এর পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সহযোগীটা প্রদান করা।

আমদানি নির্ভর রপ্তানিমুখী শিল্পের খাত বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রদান করা। বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ডিউটি ট্র্যাক প্রাপ্তির সুবিধা প্রদানের দ্বারা রপ্তানিকারকদের সহায়তা প্রদান করা। আকাশপথে ফলমূল ও শাকসবজি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত সকল পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত হারে বিমান ভাড়ার সুবিধা প্রদান করা। রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদেশী এয়ারলাইন্স কার্গো সার্ভিসের সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য রয়্যালিটি প্রত্যাহার করা।

কৃষি পণ্যসহ দেশীয় কাঁচামালের দ্বারা প্রস্তুতকৃত মূল্য-যোজিত পণ্যের রপ্তানিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে রপ্তানির বিপরীতে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। ইএক্সপি ফরম ও শিপিং বিল দাখিল সাপেক্ষে এলসি ব্যতিত বায়িং কন্ট্রাক্ট, চুক্তি, পারচেজ অর্ডার কিংবা এডভান্সড পেমেন্ট ভিত্তিতে রপ্তানির সুযোগ প্রদান করা। ফ্যাশন ইন্সটিটিউট স্থাপন করা।

গ্রে কাপড় আমদানির সুবিধা প্রদান করা। রপ্তানি শিল্পের কাঁচামাল আমদানির বিধি-নিষেধ শিথিল করা। রেয়াতী হারে বীমা প্রিমিয়াম।
পণ্য জাহাজীকরণের জন্য ওয়েভর প্রদান করা- রপ্তানি পণ্য পরিবহনে অহেতুক বিলম্ব পরিহারের উদ্দেশ্যে ওয়েভর প্রাপ্ত ক্ষেত্রসমূহ ব্যতিরেকে অন্যান্য ক্ষেত্রে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের জন্য ওয়েভর আবেদন প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওয়েভর প্রদান করা হয়। এছাড়া রপ্তানি পণ্য দ্রুত পরিবহণের সুবিধার্থে কেউ যদি বিমান চার্টার করতে চান তাহলে সরকারের পক্ষতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সর্বোচ্চ ও বিশেষ অগ্রাধিকার-ভুক্ত খাতের অন্তর্ভুক্ত পণ্যের জন্য বিভিন্ন প্রকার সুবিধা প্রদান। শাক-সবজি ও অন্যান্য পচনশীল পণ্য রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বিমান বুকিং সুবিধা প্রদান করা। প্রত্যাহার অযোগ্য এবং সুদৃঢ় রপ্তানি ঋণপত্রের/বিক্রয় চুক্তির বিপরীতে শতকরা ৯০ ভাগ পর্যন্ত রপ্তানি ঋণ প্রদানের সুবিধা প্রদান করা।

কাঁচামাল ক্রয়/আমদানির সুবিধার্থে অভ্যন্তরীণ/বৈদেশিক ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র খোলার সুবিধা প্রদান করা। রপ্তানিকারকদের বিদেশ সফরের জন্য প্রাপ্য বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে ক্রেডিট কার্ড প্রদান করা। রপ্তানিমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির সুবিধা প্রদান করা। রপ্তানিকারকগণ কর্তৃক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ প্রদান করা। রপ্তানি-যোগ্য পণ্যের উন্নয়ন, বহুমুখীকরণ, বাজার উপযোগী-করণ ও বিপণন সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল গঠন করা।

সাবকন্ট্রাক্টিং ভিত্তিক রপ্তানিতে উৎসাহ ও সুবিধা প্রদান করা। রপ্তানি পণ্যের নমুনা প্রেরণের ক্ষেত্রে বর্ধিত হারে বার্ষিক সীমা নির্ধারণ করা।রপ্তানি ঋণের মেয়াদকাল ১৮০ দিন হতে ২৭০ দিন বর্ধিতকরণ। কর অবকাশ প্রদান। তৈরী পোষাকের প্রতি ক্যাটাগরিতে শুল্ক-মুক্তভাবে নমুনা আমদানির প্নুমতি প্রদান। পণ্য উন্নয়ন নমুনা আমদানির সুবিধা বৃদ্ধি।

আমদানিকারক ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সুবিধা প্রদান। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রাদান। রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো কর্তৃক জাতীয় রপ্তানি প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় রপ্তানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান। ফ্ল্যাট রেট ভিত্তিতে ডিউটি ড্র-ব্যাক প্রাপ্তির সুবিধা প্রদান।
রপ্তানী আয়ের ক্ষেত্রে আয়কর হ্রাস করা। আন্তর্জাতিক দরপত্রের অধীনে বৈদেশিক মুদ্রায় স্থানীয় প্রকল্পানাধীনে সরবরাহকৃত পণ্যকে প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হিসেবে গণ্যকরণ এবং সকল রপ্তানির সুযোগ-সুবিধা প্রদান।

কৃতি রপ্তানিকারকদের অনুকূলে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান করা। রপ্তানি সাফল্যের মাপকাঠিতে নির্বাচিত রপ্তানিকারকদের বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান। রপ্তানি সহায়ক সার্ভিসের উপর ভ্যাট প্রত্যর্পণ সহজ করে দেওয়া। রপ্তানী শিল্পের ক্ষেত্রে বণ্ড সুবিধা। অন্ট্রাপো ও পুনঃপ্রাপ্তির সুযোগ প্রদান। বেদেশে আন্ত্ররজাতিক বাণিজ্য মেলা ও একক প্রদর্শনী আয়োজন এবং অন্যন্য বাজার উন্নয়ম কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ। এইসকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা একজন সফল রপ্তানিকারক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন। তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস।

More News Of This Category