1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

রাতারাতি কোটিপতি থেকে দেউলিয়া!

সাধারণ মানুষ থেকে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। সৌজন্যে, লটারি। আবার মাত্র কয়েক বছরেই প্রাসাদোপম বাড়ি থেকে ফুটপাথে এসে দাঁড়াতে হয়েছে তাঁদের। সাধারণ মানুষ থেকে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। সৌজন্যে, লটারি। আবার মাত্র কয়েক বছরেই প্রাসাদোপম বাড়ি থেকে ফুটপাথে এসে দাঁড়াতে হয়েছে তাঁদের। কারণ? বেহিসেবি জীবনযাত্রা। কোটিপতি থেকে দেউলিয়া হওয়া এমনই কয়েকজনের কথা।

বিলি বব হ্যারেল জুনিয়র
লটারির মূল্য: তিন কোটি ১০ লক্ষ ডলার: প্রাসাদ থেকে ফুটপাথে পৌঁছতে মাত্র দু’বছর সময় নিয়েছিলেন এই মার্কিন নাগরিক। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯। লটারির টিকিট কেনা ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস। কিন্তু ১৯৯৭ সালে টেক্সাসের ‘লোটো’ লটারির টিকিট কিনেই ভাগ্য ফিরেছিল তাঁর। যদিও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। লটারি জেতার আনন্দে আমেরিকাতেই বিশাল একটা র‌্যাঞ্চ কিনেছিলেন বিলি। সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। এছাড়াও, আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় একাধিক অ্যাপার্টমেন্টও কেনেন তিনি। বন্ধুদের ধার দিয়ে টাকা ফেরত না নেওয়া, পার্টি, নেশা— ফুর্তির সমুদ্রে গা ভাসিয়ে দেন বিলি। ব্যস, আর কী! ১৯৯৯ সালে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে বাধ্য হন তিনি।

মাইকেল ক্যারল
লটারির মূল্য: ৯০ লক্ষ ৭০ হাজার পাউন্ড: সালটা ২০০২। মাত্র ১৯ বছর বয়সে কোটিপতি বনে গিয়েছিলেন পেশায় সাফাইকর্মী মাইকেল। কিন্তু, মাত্র ১০ বছরের মধ্যে পুরো টাকাটাই উড়িয়ে দেন তিনি। মাইকেলের আর্থিক অবস্থা এমন জায়গায় এসে দাঁড়ায়, যে পেটের তাগিদে স্থানীয় কুকি প্রস্তুতকারক সংস্থায় কাজ নিতে হয় তাঁকে। কিন্তু কেন এমন অবস্থা? শোনা যায়, বেপরোয়া জীবনযাপনের কারণেই নাকি এমন অবস্থা। বিপুল পরিমাণ অর্থ জেতার পর ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক প্রাসাদোপম বাড়ি কিনেছিলেন তিনি। পার্টি করে এবং ড্রাগ আর সোনার গয়না কিনেই সব অর্থ ব্যয় করে দেউলিয়া হয়ে যান মাইকেল।

লিসা আরক্যান্ড
লটারির মূল্য: ১০ লক্ষ ডলার: বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে লটারির টিকিট কিনেছিলেন লিসা। কিন্তু, সম্ভবত একেই বলে কপাল! ১০ লক্ষ মার্কিন ডলারের লটারির প্রথম পুরস্কারটাই জিতে যান ম্যাসাচুসেটসের এই বাসিন্দা। তবে সেই টাকা বেশিদিন রাখতে পারেননি। লটারি জয়ের আনন্দে বিশাল বাড়ি কেনেন লিসা। ছুটি কাটাতে বন্ধুদের নিয়ে ইউরোপ পাড়ি দেন। সেখান থেকে ফিরে এসে রেস্তোরাঁর ব্যবসা শুরু করেন তিনি। কিন্তু সেই ব্যবসা চলেনি। বেহিসেবি খরচ করে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পুরস্কারের সব টাকা শেষ করে ফেলেন তিনি। শেষমেশ বন্ধ করে দিতে হয় রেস্তোরাঁর ব্যবসাও।

উইলি হার্ট
লটারির মূল্য: প্রায় ৩০ লক্ষ ডলার: একে তো ড্রাগের নেশা। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিবাহবিচ্ছেদের মামলা। এই দুইয়ের মাঝে পড়েই দেউলিয়া হয়েছিলেন মিশিগানের বাসিন্দা উইলি। কিন্তু বিচ্ছেদ কেন? শোনা যায়, লটারি জয়ের পর উইলির উদ্দাম জীবনযাত্রা মেনে নিতে পারেননি তাঁর স্ত্রী। অনেকবার বুঝিয়েও কাজ হয়নি। শেষে উইলির জীবন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁর স্ত্রী। স্থানীয় আদালতে বিচ্ছেদের মামলা দায়েরও করেন। দীর্ঘদিন চলেছিল সেই মামলা। এখন নাকি মিশিগানের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কাজ শুরু করেন উইলি।

জেরাল্ড মুজওয়াগন
লটারির মূল্য: এক কোটি ডলার: শুধু পার্টি করেই বিপুল অর্থ শেষ করে ফেলেছিলেন কানাডার বাসিন্দা জেরাল্ড! এক কোটি কানাডিয়ান ডলার জয়ের আনন্দে একখানা পেল্লায় ম্যানসন কিনেছিলেন তিনি। শখ করে সেই বাড়ির নাম রেখেছিলেন ‘পার্টি প্যাড’। বন্ধুদের সঙ্গে ফুর্তি-আমোদ লেগেই থাকত জেরাল্ডের নতুন বাড়িতে। শেষমেশ, ২০০৫ সালে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেন জেরাল্ড। পেটের তাগিদে স্থানীয় কারখানায় শ্রমিকের কাজ নেন তিনি। একবার কানাডার একটি সংবাদপত্রে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেরাল্ড বলেছিলেন, ‘‘বেহিসেবি খরচের স্রোতে গা ভাসিয়েই এই অবস্থা।’’ যদি সে কথাটা জেরাল্ড আগে বুঝতেন!

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

More News Of This Category