1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে!

অধিকাংশ তরুন উদ্দ্যোক্তাদের মধ্যে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হব এরকম স্বপ্ন প্রায়শই ঘুরপাক খায়। এজন্য অনেকেই উচ্চশিক্ষিত হয়ে চাকরীর পেছেনে না ছুটে ব্যবসার দিকে লক্ষ্য স্থির করছেন। বর্তমান সময়ে লোভনীয় ব্যবসা গুলোর মধ্যে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা অন্যতম। অনেকে আবার নিজের শখের বসে ব্যবসা শুরু করেন। যে কারনে শুরু করুক না কেন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া তাদের মুল লক্ষ্য।

মানুষের চাহিদা ও পছন্দের বিষয়টা মাথায় রেখে অনেক উদ্দ্যোক্তা এই ব্যবসা বেছে নিচ্ছেন। তাছাড়া, মানুষ এখন এত বেশি সৌখিন আর বাইরে সময় কাটাতে চায় যা কয়েক বছর থেকে অনেক বেশি বেড়ে গেছে। সব শ্রেনীর মানুষ তার পরিবার ও প্রিয় মানুষকে নিয়ে সময় কাটাতে চায়। এজন্য তারা রেস্টুরেন্টকে বেছে নেয় সময় কাটানো এবং খাবার উপভোগ করার জন্য।

এজন্য মানুষের চাহিদার দিক বিবেচনা করে অনেকেই রেস্টুরেন্ট খুলে বসে থাকেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিমান কাস্টমার পান না। রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করার পূর্বে আপনাকে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে তাহলে এই ব্যবসায় লাভবান হতে পারবেন।

পরিবেশ যাচাই করা: যেকোন ব্যবসা শুরু করার আগে সবচেয়ে যে বিষয়টি বেশি প্রয়োজন সেটি হল সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। আপনি যেখানে রেস্টুরেন্ট করতে চাচ্ছেন সেখানকার পরিবেশ ভালভাবে স্টাডি করুন। পরিবেশ বলতে সেখানকার ভৌগোলিক অবস্থান, কত দ্রুত আপনি ব্যবসা বিস্তার করতে পারবেন, আপনার প্রতিযোগিদের সংখ্যা, প্রতিযোগিদের ব্যবসা প্লান, তারা কোন বিষয়গুলো ব্যবসায় আনে নি কিন্তু খুবই গুরুতবপূর্ণ।

একটা ব্যবসার সফলতা তার ভৌগোলিক অবস্থা ও পরিবেশের উপর নির্ভর করে। আপনার প্রথমে মার্কেট রিসার্চ করা উচিত এবং একটি উত্তম জায়গা নির্বাচন করা। পারফেক্ট জায়গা যোগাযোগ ব্যবস্থা, টার্গেট কাস্টমার, কাস্টমারদের ফাইনান্সসিয়াল অবস্থা, তাদের রুচি, চাহিদা ও সামর্থের উপর নির্ভর করে।

অন্য ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলা: অন্য ছোটখাট ব্যবসায়ীদের সাথে ক্রেতা, ক্রেতাদের অবস্থা, তাদের ব্যবসায়ী পদ্ধতি, টার্গেটেড ক্রেতা, কাঁচামাল সম্পর্কে ধারনা নেন। প্রয়োজনে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন এবং কিভাবে এসব চ্যালেঞ্জ তারা ওভারকাম করে তা জেনে নেন।

মার্কেট এনালাইসিস করা: আপনার টার্গেটড ক্রেতা ঠিক করন এবং এখানকার মানুষ বেশি কোন ধরনের খাবার পছন্দ করে। তাদের খাবার ধরন যেমন তারা কি নিয়মিত রেস্টুরেন্ট খায় না মাঝে মাঝে খায় তা এনালাইসিস করুন। অধিকাংশ কাস্টমার যে ধরনে খাবার পছন্দ করে তা আপনার মেনুতে রাখুন। একটি স্পেশাল আইটেম রাখুন যেটি খুবই সুস্বাদু ও কাস্টমারদের কাছে প্রিয় মনে হয়।

একটি নির্দিষ্ট নিস ঠিক করুন। যেমন- চাইনিস ফুড, ইটালিয়ান পাস্তা, ফ্রেশ সীফুড এরকম বিভিন্ন নিস থাকলে তা কাস্টমারদের কনফিউসিং এ ফেলে দেয়। যে এই রেস্টুরেন্টু আসলে কি জন্য ফেভারিট বা বিখ্যাত। এজন্য নির্দিষ্ট একটি নিসের দিকে ফোকাস করুন। যেখানে ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন সেখানকার ভৌগোলিক অবস্থা যাচাই করুন। সেখানে ধনী, মধ্যবিত্ত না গরিব শ্রেণীর মানুষ বসবাস করে। তারা কোনটা পছন্দ করে ফাস্ট ফুড না সাধারণ খাবার।

কোন ধরনের মানুষ আসার সম্ভাবনা বেশি-প্রফেশনাল, স্টুডেন্ট, ট্যুরিস্ট না বিদেশী। এক এক পেশার মানুষের চয়েস আলাদা। যারা প্রফেশনাল এবং ফ্যামিলি নিয়ে আসবে তারা অবশ্যই ফুড কোয়ালিটি বেশি গুরুত্ব দিবে। কোন ধরনের রেস্টুরেন্ট করতে চান তা অবশ্য ভাবতে হবে। বিভিন্ন ধরনের রেস্টুরেন্ট রয়েছে যেমন- ফাস্ট ফুড, মিড স্কেল রেস্টুরেন্ট, আপস্কেল রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি। ভৌগোলিক অবস্থা, পরিবেশ, মার্কেট, কাস্টমার প্রভৃতি দিক বিবেচনা করে আপনার জন্য একটি পারফেক্ট রেস্টুরেন্ট চয়েস করুন।

কনসেপ্ট এনালাইসিস: ব্যবসা শুরু করার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই একটি কনেসেপ্ট এনালাইসিস করতে হবে। অর্থাৎ আপনার রেস্টুরেন্টের একটি সুস্পষ্ট ভিশন থাকতে হবে। আপনার রেস্টুরেন্ট কি ধরনের এবং কোন জাতীয় ফুড অফার করে তা কাস্টমারদের কাছে সুস্পষ্ট হতে হবে।

যেমন আপনার দাদি চিকেন ফ্রাইড পছন্দ করে সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই ট্রেডশনাল ফুড কনসেপ্ট থাকতে হবে। আপনি যদি ইটালিয়ান ফুড অফার করেন তাহলে কাস্টমার থাকবে না। লোকেশনের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেন, আপনার রেস্টুরেন্ট যদি নদী বা সাগরের পাশে হয় তাহলে সবসময় সতেজ এবং টাটকা মাছ অফার করেন।

বাজেট নির্ধারন: প্রত্যেক বিজনেস শুরু করার জন্য প্রথমে স্টার্ট আপ করার জন্য কিছু ক্যাপিটাল প্রয়োজন হয়। আপনার মোটামুটি কত টাকা খরচ হতে পারে তার একটি সাম্ভাব্য বাজেট তৈরি করুন। বাজেট লোকেশন, বিজনেস স্কেল, প্রোপার্ট, যন্ত্রপাতি ইত্যাদির উপর নির্ভর করে।
আপনি প্রথমে ছোট থেকে শুরু করেন এবং রেপুটেশন বাড়ানোর জন্য কিছু মেনু সিলেক্ট করুন এবং আস্তে আস্তে আপনার ব্যবসা বর্ধিত করুন। আপনি প্রথমে কিছু সুসবাদু খাবার এবং পানীয় দিয়ে শুরু করেন।

রেস্টুরেন্ট বিজনেস ফুড কোয়ালিটি উপর ভিত্তি করে প্রচার ও প্রসার ঘটে। তাই সবসময় ফুড কোয়ালিটি ধরে রাখুন। কাস্টমারদের গড় বেতন এনলাইসিস করুন। এটি আপনার সঠিক বিজনেস প্লাস তৈরি করতে সাহায্য করবে। প্রথম ছয় মাস আংশিক মুনাফা নিয়ে কাস্টমারদের আকর্ষন করেন।

ব্যবসার পরিকল্পনা তৈরি করা: একটা ব্যবসা সফল করতে হলে আপনাকে সুন্দর একটি ব্যবসা পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। পৃথিবীর অনেক সফল ব্যবসায়ী ও উদ্দ্যোক্তা ব্যবসা পরিকল্পনাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। একটি বিজনেস প্লান হল ব্যবসা করার আউটলাইন। বিজনেস প্লাস কিছু দিক বিশেষভাবে হাইলাইট করে। যেমন-

ব্যবসার আইডেন্টিটি বা রেস্টুরেন্ট আইডেনটিটি, ফুড আইটেম, লোকেশন, আপনার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। সব ধরনের খরচ সম্পর্কে ধারনা দেয়। লিজ, কর্মচারীদের বেতন, আসবাসপত্র, যন্ত্রপাতি প্রভৃতি খরচ। একটি নির্দিষ্ট মার্কেট স্ট্রাটেজি নেন এবং আপনার টার্গেট কাস্টমারদের আকর্ষণ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের স্ট্রাটেজি নেন।

আপনার প্রতিযোগিদের তালিকা তৈরি করেন এবং তাদের সাথে কিভাবে মার্কেটে টিকে থাকবেন তার জন্য যথাযথ স্ট্রাটেজি ও মার্কেট ও বিজনেস পলিসি গ্রহন করেন। একটি কাস্টমার ফেন্ডলি মেনু তৈরি করুন কি ধরনে স্পেশাল ফুড আপনি পরিবেশন করবেন তার তালিকা তৈরি করুন। খরচ বিবেচনা করে অবশ্যইমেনুর প্রাইস নির্ধারন করবেন।

ডিজাইন: একটি রেস্টুরেন্টের আউটলুক এবং ভিতরটা অনেক বেশি আকর্ষনীয় করার জন্য সুন্দর ডিজাইন তৈরি করতে হবে। ভাল খাবারের সাথে সুন্দর ডিজাইন সমন্বয় করতে পারলে সহজে কাস্টমার ধরে রাখা যায়। তাছাড়া মানুষ একটি রেস্টুরেন্ট শুধুমাত্র খাওয়ার জন্য যায় এমন কিন্তু না, সবাই চায় এমন একটি মার্জিত ও সুন্দর পরিবেশ যেখানে কিছু সময় পার করা যায়।

খোলা জায়গা রাখা: মানুষ সবসময় এমন জায়গা পছন্দ করে যেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাস আছে। সুতরাং রেস্টুরেন্টর সাইট নির্ধারনের সময় এমন জায়গা নির্ধারন করা যেখানে কাস্টমারদের জন্য প্রয়োজনীয় আলো বাতাস থাকবে।

ফান্ডিং: ধরে নিলাম আপনি একটি বিজনেস প্লান তৈরি করছেন। এখন আপনার প্রয়োজন হল ফান্ডিং। একটি রেস্টুরেন্ট তৈরি করার জন্য আপনার কয়েক লাখ টাকা প্রয়োজন। এখন টাকা পাবেন কোথায়- আপনার নিজস্ব ফান্ড থেকে শুরু করতে পারেন। আপনি কোন বিজনেস পার্টনার ঠিক করতে পারেন।

আপনার বিজনেস প্লান তার সাথে শেয়ার করে তার কাছ থেকে ফান্ড সংগ্রহ করতে পারেন অথবা তার সাথে পার্টনারশিপ চুক্তি করতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই পার্টনারশিপ চুক্তির ডকুমেন্ট রাখবেন। ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারেন।

ফুড সিকিউরিটি: খাবারের মান ও ধরন সবসময় বজায় রাখতে হবে। বাসি, পচা খাবার যাতে না থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ফুড কোয়ালিটি নিয়ে কাস্টমারদের সাথে বিতর্ক বাধতে পারে এমন খাবার পরিবেশন করা যাবে না। ফুড কোয়ালিটি ও রান্নার কোয়ালিটি ভাল মানের হতে হবে। এজন্য আপনি একজন ভাল মানের কুক রাখতে পারেন। কারন, রান্নার উপকরন যতই ভাল হোক না কেন রান্না সুস্বাদু না হলে কাস্টমার থাকবে না। সুতরাং এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

কাস্টমার স্যাটিসফেকশন: বর্তমান সময়ে কাস্টমাররা খাবার রান্না ও পরিবেশ নিয়ে কিছুটা সন্দিহান থাকে। রান্না কোথায় হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার তৈরি হচ্ছে কিনা এ নিয়ে দ্বিধাদন্দে থাকে। তাই কাস্টমারদের কাছে আপনার রান্না ও খাবারের পরিবেশ তুলে ধরলে তারা বেশি সন্তুষ্ট হবে। এজন্য সিসি টিভি ক্যামেরা দ্বারা রেস্টুরেন্টের সার্বিক চিত্র তুলে ধরলে অধিক কাস্টমার পাওয়া যাবে।

পার্কিং সুবিধা: রেস্টুরেন্টে পার্কিং সুবিধা রাখতে হবে। অনেক কাস্টমার আসবে যারা গাড়ি নিয়ে আসবে তাই কাস্টমারদের জন্য পার্কিং সুবিধা প্রদান করতে হবে। ভাল পার্কিং সুবিধা থাকলে কাস্টমাররা তাদের গাড়িগুলো পার্ক করতে ফলে বিক্রি ও বেড়ে যাবে। ধরন, আপনার রেস্টুরেন্ট ভাল খাবার পরিবেশ করা হয় কিন্তু পার্কিং সুবিধা নেই, এক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি যদি গাড়ি নিয়ে আসে তাহলে আপনার রেস্টুরেন্ট খেতে পারবে না। কারন আপনার রেস্টুরেন্ট কোন পার্কিং সুবিধা নেই। সুতরাং, বর্তমান সময়ে রেস্টুরেন্ট পার্কিং সুবিধা থাকা আবশ্যক।

প্রোডাক্ট রিভিউ: বর্তমান সময়ে মানুষ কোথায় খেতে যাবে সেখানে কোন ধরনের খাবার অফার করা হয় এগুলো অনলাইনে দেখে নেয়। ভাল রিভিউ পাওয়ার জন্য আপনাকে সুন্দরভাবে আপনার রেস্টুরেন্টকে উপস্থাপন করতে হবে। তাছাড়া কোন খাবারের রিভিউ যদি ভাল থাকে তাহলে অন্য কাস্টমাররা ও আকৃষ্ট হবে।

More News Of This Category