1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :
সফলতার গল্প :

লেখাপাড়া শেষে গরুর খামারে কোটিপতি তিন ভাই

গরুর খামারে সফল হয়েছেন কর্ণফুলীর তিন ভাই। আমাদের দেশে গরু পালন একটি লাভজনক পেশা। গরুর খামার করে অনেকেই আবার সফলতার মুখ দেখছেন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের শাহমীরপুর গ্রামের ওবাইদুল ছালামের বসতঘরে একখণ্ড জমিতে একটি বাছুর নিয়ে শুরু করেন ডেইরি খামার।

পড়ালেখা শেষ করার পর চাকরির জন্য কারো দ্বারস্থ হননি তারা। মোহাম্মদ জাকারিয়া, মোহাম্মদ শওকত আলী খোকন ও মোহাম্মদ লিয়াকত আলী করিম তিন লাখ টাকা বিনিয়োগ করে পিতার রেখে যাওয়া গরুর বাছুর নিয়ে সেই ডেইরি খামারের এখন সম্পদের পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা।

এই উপজেলার কয়েক শতাধিক গরুর খামারের মধ্যে অন্তত প্রায় ১০০ খামারে বায়োগ্যাস প্রকল্প আছে। এসব খামার অনেক গ্রামের জীবনচিত্র পাল্টে দিয়েছে। শিক্ষিত যুবকরাও এখন এমন খামার করতে এগিয়ে আসছেন। ফলে দিনে দিনে বাড়ছে খামারের সংখ্যা। কিছু সমস্যা থাকলেও খামার করে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প এখন কর্ণফুলীর ঘরে ঘরে।

সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৮ সালে একটি গরুর বাছুর নিয়ে রিজিয়া ডেইরি ফার্ম শুরু করেন ওবাইদুল ছালামের ছেলে মোহাম্মদ জাকারিয়া, মোহাম্মদ শওকত আলী খোকন ও মোহাম্মদ লিয়াকত আলী করিম। ১১ বছরের ব্যবধানে এখন প্রায় ৬০টি গরু নিয়ে উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ডেইরি ফার্মের মালিক তারা।

তাদের খামারে গরুর পাশাপাশি রয়েছে ছাগল, ভেড়া, মুরগির খামার। প্রতিদিন এ ফার্ম থেকে উৎপাদন হয় ২০০ লিটার দুধ। প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ টাকা করে। এ খামার থেকে প্রতিমাসে এখন লাখ টাকার উপরে লাভ হয়। এ ছাড়াও তাদের স্বপ্ন ছিল ভিন্ন কিছু করার বর্তমানে এ স্বপ্নেরই বাস্তবরূপ তাদের খামার। এখান থেকে দুধ, জৈব সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করে তিন ধরনের আয় করছেন এ পরিবারটি।

রিজিয়া ডেইরি ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী লিয়াকত আলী করিম বলেন, বিভিন্ন ব্যাংকের সহযোগিতায় তিন লাখ টাকা লোন নিয়ে ও ২০০৮ সালে বাবার রেখে যাওয়া ১টি গরুসহ ৫টি গরু দিয়ে আমাদের ডেইরি খামারের যাত্রা শুরু করি। সে থেকে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে স্থাপন করা হয় বায়োগ্যাস প্লান্ট।

যেখান থেকে উৎপন্ন হচ্ছে বায়োগ্যাস।বায়োগ্যাস প্লান্টে উৎপন্ন মিথাইল বায়োগ্যাসে চলছে পারিবারিক রান্নাবান্নার কাজ।পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন বাড়িঘরেও বাণিজ্যিকভাবে গ্যাসের সংযোগ প্রদান করছি।গ্যাস উৎপাদনে ব্যবহৃত গোবর উর্বর জৈব সার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়াও গরুর খামারে উৎপাদিত দুধ-মিষ্টি ও এ জাতীয় বিভিন্ন উপাদান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

উৎপাদিত দুধ নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে শহরে ও পাশের বিভিন্ন উপজেলায় নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এ খামারে বর্তমানে ১৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। এ সাফল্যে আজ বাবার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। পরিশ্রম আর সততায় ব্যবসায় সফল হওয়া সম্ভব।

স্থানীয় চেয়ারম্যান দিদারুল আলম বলেন, তারা তিন ভাই সফল খামারি। তারা যেভাবে অল্প সময়ে অধিক লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন একটি অনুকরণীয় হতে পারে। আমি নিজেই এ খামার পরিদর্শন করেছি। যুবকরা এ ধরনের খামার করে সহজেই নির্ভরশীল হতে পারে। মূলধন এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যাই না, শুরু করাটাই জরুরি।

কর্ণফুলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মককর্তা শামসুল তাবরীজ জানান, তারা তিন ভাই বাংলাদেশের অন্য যুবসমাজের জন্যও আদর্শ হতে পারে। তারা তাদের খামারে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করে ব্যবসার উন্নতি করছে। শিক্ষিত বেকাররা চাইলেই এ ধরনের খামার করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

More News Of This Category