1. uddoktarkhoje@gmail.com : uddoktarkhoje :

শিক্ষিত বেকারদের চাকরী দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা

চাকরির লোভনীয় অফার দিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। তবে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের ৩০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গতকাল রাতে র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে এমন তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, সম্প্রতি নতুন নতুন কৌশলে সাধারণ জনগনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণীর পেশাদার প্রতারক চক্র। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৩০ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- মো. বেলায়েত হোসেন (২৭), মো. শরীফ (২৪), মো. সাইফুল ইসলাম (২৮), একরামুল হাসান (২৫), মো. গোলাম কিবরিয়া (৩৮), মহাইমিনুল ইসলাম (৩০), মো. সজিব শেখ (২৫), মো. তারেক (২৫), মিঠুন বিশ^াস (২৪), ফয়সাল আল মাহমুদ (২৩), মো. শফিকুল ইসলাম (২২), সুমন সরকার (২১), শান্ত চন্দ্র মিত্র (২১), রেজভী আহম্মেদ (১৯),

মহসীন হোসেন (২১), লিটন দাশ (২৩), মো. হালিম মিয়া (২৩), সুমন চাকমা (২৩), মেহেদী হাসান (২২), আজিজুর রহমান (২৫), আমজাদ হোসেন (২৪), পলাশ হোসেন (২১), মো. মোশারফ হোসেন (২২) মো. আজাদ খান (২২), মো. মমিনুর রহমান (২১), কনক মালাকার (২০), সজীব বিশ্বাস (২০), মো. সুমন হোসেন (২২), ইমরান মোল্লা ও শফিকুল ইসলাম (২১)।

র‌্যাব আরো জানায়, গ্রেফতাকৃতদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নানাবিধ নথিপত্র ও সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তারা প্রতারণা বিভিন্ন কৌশল র‌্যাবকে জানায়।

টার্গেট বেকার যুবক: র‌্যাব জানায়, প্রতারকচক্রের প্রতিটি সদস্য প্রতারণাকে তাদের পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে। এ জন্য তাদের এ সংগঠনের একটি সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। এরা নিজেদেরকে ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। এরা প্রতারক চক্রের মাঠ পর্যায়ের কর্মী।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেকার যুবকদেরকে চাকরি প্রদানের লোভনীয় অফার দিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসে। ভিকটিমদের বলা হয় একমাসের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করেই চাকরি পাওয়া যাবে। এছাড়াও ভিকটিমদের চাকরির বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধার ব্যাপারে লোভনীয় অফার দেওয়া হয়।

ভিকটিমকে প্রলুব্ধ করে এবং তথ্যাদি সংগ্রহ করে প্রতারক চক্রের অফিস কার্যালয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়। এই টার্গেটে সংগ্রহকরাই মূলত নিজেরাও পূর্বে প্রতারিত হয়েছে। টাকা বিনিয়োগ করে এবং বিনিয়োগকৃত টাকা উদ্ধারের প্রলোভনে পড়ে নিজেরাও প্রতারনার সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করে।

ভাইভা অফিসার: র‌্যাব জানায়, টাগের্টকৃত ডিস্ট্রিবিউটর এবং মাকেটিং অফিসারের মাধ্যমে সদস্যদেরকে ভাইভা অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যরা তাদের ভাইভা নেয় এবং তাদের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

যেভাবে টাকা হাতিয়ে নেয় তারা: প্রথমে একটি অফিস ভাড়া করে একজন অর্ভ্যতনা কক্ষে একজন ভূয়া লোক বসানো হয়। পরে অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদে লোক রাখা হয়। পরে অফিসের আবহ তৈরী হয়। পরে ভিকটিমের কাছ থেকে জোনাল ম্যানেজার টাকা সংগ্রহ করে। পরে ওই টাকা জোনাল ম্যানেজার ওই টাকা এজিএমের মাধ্যমে জিএমের কাছে পৌঁছায়। পরে এজিএম ও জিএমের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। এরপর ভিকটিমকে ডিস্ট্রিবিউটর বা মার্কেটিং অফিসারের অধীনে ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়।

প্রশিক্ষক: এখানে ভূয়া প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে ভিকটিমদের এক মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়ার নাম করে আটকে রাখা হয়। যখন ভিকটিম বুঝতে পারে তারা প্রতারিত হয়েছে; তখন প্রতারক চক্রের কাছে দেওয়া টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার দাবি করা হয়। তবে ভিকটিমের এমন দাবিতে প্রতারক চক্র তাদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং তাদের মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। পরবর্তীতে রাতারাতি প্রতারক চক্র অফিস গুটিয়ে তাদেরকে রেখে পালিয়ে যায়। প্রশিক্ষদের মধ্যে রুম সুপার ম্যাস ম্যানেজার বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল নিয়োগ দেওয়া থাকে।

ডায়মন্ড এবং সিলভার: র‌্যাব জানায়, প্রতারক চক্রের মধ্যে যে সকল সদস্য ৫০ জনের অধিক সদস্য সংগ্রহ করে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠাতে পারে তাদেরকে ডায়মন্ড উপাধি দেওয়া হয়। এছাড়া ২৫ থেকে ৩০ জন সদস্য সংগ্রহকারিকে সিলভার পদবী প্রদান করা হয়। এ ব্যাপারে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, গ্রামের মধ্যশিক্ষিত বেকার ও নিরীহ যুবকদের চাকুরি দেওয়ার নাম করে প্রায় এক হাজারের বেশি চাকরি প্রত্যাশি প্রতারণার শিকার হয়েছে।

তাদের দেওয়া তথ্যমতে ওই প্রতারক চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে ২০৩ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০ হাজার ৮০০ টাকা করে মোট ১ কোটি ৩ লাখ ১২ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

More News Of This Category