1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

শিশুসন্তানের জন্য হাহাকার নরডিক দেশগুলোয়

নরডিক দেশগুলোকে একসময় উচ্চ শিশুজন্মহারের উদাহরণ হিসেবে দেখা হতো। দেশগুলোয় গত কয়েক বছরে শিশুজন্মহার ক্রমে হ্রাস পেতে শুরু করেছে। জন্মহার হ্রাস পাওয়ার ফলে দেশগুলোর বহুদিনের লালিত কল্যাণ রাষ্ট্রের মডেল হুমকির মুখে পড়েছে। করদাতাদের ওপর ভিত্তি করেই কল্যাণ রাষ্ট্রের মডেল নির্মিত।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী আরনা সোলবার্গ নববর্ষের শুভেচ্ছা বক্তৃতায় বলেন, সামনের দশকগুলোতে আমাদের মডেলটি সমস্যার মুখে পড়বে। কারণ কল্যাণ রাষ্ট্রের বর্ধনশীল ব্যয় বহন করার মতো মানুষের সংখ্যা ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে। নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডে ২০১৭ সালে শিশুজন্মহার দেশগুলোর ইতিহাসের সর্বনিম্নে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালে নারীপ্রতি শিশুজন্মহার দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৪৯ থেকে ১ দশমিক ৭১।

দেশগুলোর জনসংখ্যার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য নারীপ্রতি শিশুজন্মহার প্রয়োজন ছিল ২ দশমিক ১। মাত্র কয়েক বছর আগেও দেশগুলোতে এ হারের কাছাকাছি অবস্থা বজায় ছিল।

অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ট্রুড ল্যাপগার্ড জানান, ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর নরডিক দেশগুলোতে শিশুজন্মহার কমতে শুরু করেছে। আর্থিক সংকট কেটে গেলেও শিশুজন্মহার এখনো পড়তির দিকেই রয়েছে।

কোপেনহেগেন থেকে নর্থ ক্যাপ এবং হেলসিংকি থেকে রেকিয়াভিক সর্বত্র জনসংখ্যাতত্ত্বে দুটি বিষয় দেখা যাচ্ছে: বড় পরিবারের সংখ্যা ব্যাপক কমে যাচ্ছে এবং নারীরা প্রথম সন্তান নেয়ার আগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন।

নরডিক দেশগুলোর জন্মহার কমার পেছনে একক কোনো ব্যাখ্যা নেই। তবে এ সমস্যার পেছনে আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং আবাসন ব্যয় বৃদ্ধিকেই দায়ী করছেন অনেকে।

জন্মহার কমার ফলে দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদে যে সমস্যাটি দাঁড়াবে তা হলো, দেশগুলোতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাবে। ফলে করদাতার সংখ্যাও হ্রাস পাবে এবং কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা বহাল রাখতে তহবিল ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

সুইডেনে সন্তান জন্মের সময় মাতা-পিতা উভয়ে ৪৮০ দিন পর্যন্ত ছুটি পেয়ে থাকেন। কল্যাণ রাষ্ট্র হওয়ার ফলেই এ দীর্ঘ ছুটি সম্ভব হয়েছে। এছাড়া দেশগুলোতে নাগরিকদের নানা সুবিধা প্রদান করা হয়।

শিশুজন্মহার বাড়াতে অর্থনীতিবিদরা বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। নরওয়ের এক অর্থনীতিবিদ প্রত্যেক সন্তান জন্মদানের পর নারীদের ৫ লাখ ক্রোনা (৫৮ হাজার ৫৫০ ডলার) পেনশন বাবদ প্রদানের পরামর্শ দিয়েছেন। আরেক অর্থনীতিবিদ বলছেন, ৫০ বছর বয়সী কোনো নারীর যদি একটিও সন্তান না থাকে, তবে তার কাছ থেকে ১ মিলিয়ন ক্রোনা ক্ষতিপূরণ নিতে হবে। যদিও সন্তানের পেছনে রাষ্ট্রের অনেক ব্যয় বহন করতে হয়।

More News Of This Category