ডলার সংকটে যশোরের ব্যাংকগুলো

যশোরে অধিকাংশ ব্যাংকে এখন ডলারের সংকট চলছে। ফলে ভারতীয় ভিসা পেতে আগ্রহী ব্যক্তিরা ডলার এনডোর্স (ব্যাংকের সিলযুক্ত অনুমোদন) করাতে পারছেন না। আর ডলার এনডোর্স করাতে না পারলে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র আবেদন জমা নেয় না।

এদিকে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে পাঁচ মাস আগে চালু করা ডলার এনডোর্সমেন্ট বুথটিও ডলারসংকটের কারণে ১০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে চিকিৎসা ও ভ্রমণ ভিসা পেতে আগ্রহীরা বিপাকে পড়ছেন।

যশোরের ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের একটি সূত্রমতে, চিকিৎসা ও ভ্রমণ ভিসা পেতে প্রতিদিন অন্তত ৮০০ মানুষ আবেদন করেন। এ জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ হাজার ডলারের চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসা ভিসার জন্য ডলার এনডোর্স করাটা বাধ্যতামূলক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোরে সোনালী, জনতা, ইসলামী, উত্তরা ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ডলার বেচাকেনা করে। কিন্তু তাদের বেশির ভাগই চাহিদা মেটাতে পারছে না। ফলে ভিসার জন্য আবেদন করতে গিয়ে মানুষকে ব্যাংক থেকে ব্যাংকে দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে।

যশোর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক স্বপন বোস জানান, তিনি সোনালী, উত্তরা, ইসলামী ও ওয়ান ব্যাংক ঘুরে কোথাও ডলার পাননি। যে কারণে তাঁর শ্বশুরের মেডিকেল বা চিকিৎসা ভিসার আবেদন জমা দিতে পারেননি।

ইসলামী ব্যাংকের যশোর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডলার এনডোর্সমেন্টের প্রতিবেদন প্রতিদিন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হয়। কার কাছে ডলার বিক্রি করছি, তাকে তো চিনতে হবে। এ জন্য হিসাব খুলতে বলা হচ্ছে।’

সোনালী ব্যাংক যশোর করপোরেট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) দিব্যেন্দু দাস বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকে ডলার নেই। তবে ডলার থাকলে যে কাউকে দেওয়া হয়।’ উত্তরা ব্যাংকের যশোর শাখার ব্যবস্থাপক গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘চার মাস ধরে আমার ব্যাংকে ২০ ডলার পড়ে রয়েছে।

প্রধান কার্যালয় থেকে শাখায় কোনো ডলার দেওয়া হয়নি।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের যশোর কার্যালয়ের সুপারভাইজার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘ডলারসংকটের কারণে বুথটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শিগগির এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

SHARE