1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

ব্যবসা পরিচালনায় সব সময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো

সমাজে ব্যবসাকে অনেকে খুব সহজ ও সাধারণ বিষয় বলে মনে করেন। আবার কারো কারো কাছে তা খুবই কঠিন একটি কাজ। ব্যবসার রয়েছে বিভিন্ন ধরন। কেউ কেউ পণ্য কেনা-বেচা করে বা আমদানি-রপ্তানি করে। কেউবা পণ্য উৎপাদন করে তা বিপণনের ব্যবস্থা করে। যিনি মেধা খাটিয়ে পণ্য উৎপাদন করেন তিনি হচেছন উদ্যোক্তা। বিষয়টিকে একটু খতিয়ে দেখা যাক।

বিভিন্ন বিষয়ের উপর ব্যবসার সাফল্য নির্ভর করে। এসব বিষয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ন হচেছ ব্যবসায়িক কলাকৌশল, পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন। ব্যবসা শুরু করার পূর্বে এসব জানা প্রয়োজন। সর্বপ্রথম প্রয়োজন ‘আমি ব্যবসা করব’ এ ধরণের মানসিক প্রস্তুতি। এরপর সঠিক দিকনির্দেশনা, মূলধন ও সম্পদের প্রাপ্যতা নিয়ে ভাবনা ও পরিকল্পনা।

একটি সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে একজন উদ্যোক্তা/ব্যবসায়ীকে তার লক্ষ্যের দিকে পৌছতে সাহায্য করবে। মূলধন ও সম্পদ ব্যবসার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলেও মুখ্য বিষয় নয়, কেননা সঠিক দিকনির্দেশনা অনুযায়ী অগ্রসর না হলে তাতে বিনিয়োগের সমূহ ক্ষতির আশংকা থাকে।একজন উদ্যোক্তা/ব্যবসায়ী হতে হলে কিভাবে ব্যবসা আরম্ভ করতে হবে তা সবার আগে জানতে হবে।

কিভাবে ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক একাউন্ট, কোম্পানি রেজিষ্ট্রেশন, বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স, ভ্যাট নিবন্ধন, এলসি খোলা, যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিজ আমদানি ও স্থাপন, প্রজেক্ট প্রোফাইল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিযোগাযোগ, জনশক্তি, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি করতে হবে সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। এছাড়াও পণ্য উৎপাদন, পণ্য বিপণন, রপ্তানিকরণ, শুল্ক প্রদান ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে জানাও একজন ব্যবসায়ীর জন্য অত্যাবশ্যক।

বাংলাদেশে একজন উদ্যোক্তা/ব্যবসায়ী হতে হলে আপনাকে পর্যায়ক্রমে যে কাজগুলো করতে হবে সেগুলো নিম্নরূপঃ একঃ প্রথমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ‘আপনি ব্যবসা করবেন’। দুইঃ এরপর আপনাকে ঠিক করতে হবে কী ধরণের ব্যবসা করবেন? ট্রেডিং না উৎপাদনমূলক। শিল্প না কমিশনভিত্তিক ব্যবসা। তিনঃ ব্যবসার ধরণ ঠিক করার পর আপনার ব্যবসা করার জন্য অফিস বা কারখানা করার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করতে হবে।

চারঃ স্থান বা অফিস ঠিক করার সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি একক ব্যবসা করবেন না যৌথ মালিকানাধীন ব্যবসা করবেন।পাঁচঃ একাকী বা যৌথ মালিকানাধীন যে ব্যবসাই করুন না কেন, আপনাকে আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিক করতে হবে। যৌথ মালিকানাধীন ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে ঠিক করতে হবে কাকে পার্টনার হিসেবে নিবেন। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মাধ্যমে আপনি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ছয়ঃ ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা বিধিসম্মত নয়। ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা হচেছ ব্যবসা শুরুর প্রাথমিক কাজ।

১.১ ট্রেড লাইসেন্স (Trade License) যথাযথ কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে আপনি আপনার ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ট্রেড লাইসেন্স নেয়ার পূর্বে দু’টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিন: ১.যথাযথ কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের জন্য ব্যবসার অবস্থান নির্ধারন এবং ব্যবসার প্রকৃতি নিরূপন।

২. আপনার ব্যবসার অবস্থান অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ নির্বাচন করুনঃ একঃ যদি আপনার ব্যবসার অবস্থান সিটি কর্পোরেশন এলাকা যেমনঃ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশালে হয় তা হলে আপনাকে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন হতে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।

দুইঃ যদি আপনার ব্যবসার অবস্থান কোন মিউনিসিপ্যালিটি (পৌরসভা) এলাকায় হয়ে থাকে তাহলে ঐ এলাকার মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষ হতে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। তিনঃ অন্যান্য ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ যেমনঃ ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।

ট্রেড লাইসেন্স পেতে হলে নিম্নলিখিত ধাপসমূহ অনুসরন করতে হবেঃ একঃ নির্দিষ্ট দরখাস্ত ফরম পূরণ করতে হবে। এখানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নমুনা ফরম পরিশিষ্টে দেয়া আছে [পরিশিষ্ট-১.১]। দুইঃ যে ঠিকানায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য আবেদন করবেন সেই অফিস বা ফ্যাক্টরির লে-আউট প্ল্যান দাখিল করতে হবে।

তিনঃ আপনার প্রতিবেশী দুইজনের (কমপক্ষে) অনাপত্তিপত্র দরখাস্তও সঙ্গে দাখিল করতে হবে। অর্থাৎ ঐ স্থানে ফ্যাক্টরি বা অফিস করতে আপনার প্রতিবেশীর কোন আপত্তি নেই। ঘর ভাড়ার রসিদ বা চুক্তিপত্রের কপি সঙ্গে জমা দিতে হবে।

চারঃ যদি আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লিমিটেড কোম্পানি হয় তবে অবশ্যই মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন এবং আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশনসহ রেজিষ্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কর্তৃক ইস্যুকৃত ইনকর্পোরেশন (কোম্পানির নিবন্ধন) সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। যাবতীয় কাগজপত্র দাখিলের পর কর্পোরেশন- এর ইন্সপেক্টর প্রয়োজনে সরেজমিনে তদন্ত করার পর নির্দিষ্ট পরিমান ফি আদায় করে আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করবেন। ট্রেড লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়।

১.২ কোম্পানির রেজিষ্ট্রেশন (Company Registration) একঃ যদি পাবলিক বা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিভিত্তিতে ব্যবসা করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন, তখন রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে গিয়ে প্রথমে আপনার প্রতিষ্ঠানের নামের ছাড়পত্র নিতে হবে
এবং এ ছাড়পত্রের ভিত্তিতে এক মাসের মধ্যে কোম্পানির রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে নিতে হবে।

দুইঃ কোম্পানি রেজিষ্ট্রেশন হওয়ার পর আপনি যে এলাকার, ঐ এলাকার মিউনিসিপ্যালিটি বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট হতে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহন করতে হবে। তিনঃ ট্রেড লাইসেন্স নেয়ার পূর্বে আপনার প্রতিষ্ঠানের লে-আউট প্ল্যান, আয়কর দফতর হতে টিন নম্বর সংগ্রহ করতে হবে এবং প্রতিবেশীর নিকট হতে অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

চারঃ বর্তমানে পরিবেশ পরিদপ্তর থেকেও অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করতে হয়। পাঁচঃ আপনাকে একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলতে হবে। ছয়ঃ আপনার ফার্মের লেটার প্যাড, বিল, চালান, ক্যাশ মেমো, ডেবিট ভাউচার প্রভৃতি ছাপানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

একটি পাবলিক লিমিটেড বা প্রাইভেট লিমিটেড রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য যে সকল ডকুমেন্ট প্রয়োজন তা নিম্নরূপঃ একঃ প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিচালক নির্ধারণ করার পর কোম্পানির মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেল ছাপাতে হবে। দুই-এর অধিক হলে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি করা যায়। প্রাইভেট লিমিটেড ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি করার জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম কানুন ও আইন মেনে মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশন তৈরী করতে হবে। এটি এখন বাংলা ও ইংরেজিতে করা যায়।

দুইঃ যখন প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি করবেন তখন নিশ্চয় আপনি কোম্পানির একটি নাম ঠিক করেছেন। পূর্বাহ্নে ঐ নামের অনাপত্তিপত্র জয়েন্ট স্টক অফিস থেকে নিতে হয়। রেজিষ্ট্রেশন আবেদন পেশ করার সময় ঐ অনাপত্তিপত্র সংযুক্ত করে দিতে হবে।

তিনঃ জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিকট আবেদনের সময় প্রাইভেট কোম্পানির ক্ষেত্রে ( Form no: I, VI, IX, X, XII ) অবশ্যই যথাযথ পূরণ করে পেশ করতে হবে। পাবলিক লিমিটেড হলে Form no: I, VI, IX, X, XII, ঢওও, ঢওঠ পূরণ করে আবেদন করতে হবে। ফরমসমূহ জয়েন্ট স্টক অফিসে ছাপানো পাওয়া যায় [পরিশিষ্ট-১.২]।

চারঃ মূলধন অনুযায়ী স্ট্যাম্প মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস -এর প্রথম পাতায় লাগাতে হবে। এক লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা অনুমোদিত মূলধন হলে মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলের পাতায় যথাক্রমে ৫০০ টাকা ও ১৫০০ টাকার স্ট্যাম্প লাগাতে হবে। ১০ লক্ষ ১ টাকা থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত যথাক্রমে ৫০০ টাকা ও ৪০০০ টাকার স্ট্যাম্প লাগাতে হবে। তিন কোটির উর্ধ্বে হলে ৫০০ টাকা ও ১০,০০০ টাকার স্ট্যাম্প লাগাতে হবে।

পাঁচঃ মূল আবেদনের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমাকৃত রেজিস্ট্রেশন ফি চালান সংযুক্ত করতে হবে। Authorized Capital অনুযায়ী ফি নির্ধারিত রয়েছে। ছয়ঃ যখন কোন লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার ট্রান্সফার করতে হয় তখন ফরম ১১৭ পূরণ করে জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অফিসে প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প দিয়ে দাখিল করতে হয়।

সাতঃ নিয়ম অনুযায়ী ফি বাংলাদেশ ব্যাংকের চালান আকারে জমা দিয়ে মূল কাগজ আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। তবে পরবর্তী প্রতি কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধনের জন্য ১৫০০ টাকা করে চালান ফি জমা দিতে হবে। “এসএমই বিজনেস ম্যানুয়াল” অবলম্বনে লিখিত। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

More News Of This Category