সরকার কোথায় টাকা খুঁজছে; অর্থমন্ত্রী

‘সরকার কোথায় টাকা খুঁজছে? সরকার টাকা খুঁজলে কোথা থেকে পাবে? সরকারের টাকা না থাকলে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা আছে? আপনারা কেউ সরকারকে টাকা দেবেন?’

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক পরিচালক জুবিদা খেরুস অ্যালাউয়্যা সাক্ষাৎ করার পর এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের কাছে উল্টো এসব প্রশ্ন করেন অর্থমন্ত্রী।

সরকারি, আধা সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন সংস্থার কাছে ২ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে আছে—এ কথা বলে তার একটি অংশ রাষ্ট্রীয় হিসাবে আনতে সরকার একটি আইন করতে যাচ্ছে। মন্ত্রিসভা সম্প্রতি প্রস্তাবিত এ আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে।

সরকারের টাকার কোনো অভাব নেই বলে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আজ বলেন, ‘সরকারের কত টাকা থাকতে হবে সেটার একটা বেঞ্চমার্ক আছে। সেটা ছাড়িয়ে আমাদের এখন ৯২ হাজার কোটি টাকা বেশি আছে। এটা তো লুকোচুরি করার মতো কোনো ব্যাপার নয়।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটা দৈনিক পত্রিকা বলছে, সরকার টাকার খোঁজে। আজ আবার দেখলাম, এরা এডিবির (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) ইতিবাচক একটা প্রতিবেদন দিয়েছে। এটা দেখে অবাক হয়ে গেলাম। আমি বলছি, আমাদের কোনো রকম টাকার অভাব নেই।’

সাংবাদিকদের কাছে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি কোনো ব্যাংকে গিয়ে টাকা না পান, যদি ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি না করতে পারেন, আমাকে এসে বলবেন।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, টাকা তোলার উপায়টা কী? হয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি করতে হবে, নইলে যুক্তরাষ্ট্র যা করে তা করতে হবে। অর্থাৎ কোয়ানটিটেটিভ ইজিংয়ের নাম করে টাকা ছাপাতে হবে।

এদিকে বন্ড বাজারের উন্নয়ন হলে শেয়ারবাজার ভালো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিতে যেসব জায়গায় পিছিয়ে আছি, সেসব জায়গার উন্নয়নে এগিয়ে আসবে বিশ্বব্যাংক। তবে আমাদের বন্ড বাজারটার উন্নয়ন করতে হবে। বন্ড বাজারের উন্নয়নে এরই মধ্যে বিভিন্ন মাশুল কমানো হয়েছে। এ বাজারকে গতিশীল করতে আরও যা যা করা দরকার, করা হবে।’

SHARE