1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

সরাসরি কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবার আগে বিরতি নিন!

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সবাই সাফল্যের দেখা পেতে চায়; কিন্তু, কজনাই বা সেই সাফল্যের স্বর্ণতোরণে পৌঁছাতে পারে? খুব সামন্য কজন, তা নায় কি? কিন্তু কেনো? সবাই তো মানুষ, যে সাফল্যের স্বর্ণতোরণে পৌঁছায় সে তো আর ভিন গ্রহের কেউ নয়! বা নয় ঐশ্বরিক শক্তি প্রাপ্ত কেউ। তাহলে সফলতা পেতে হলে কি কিছু গুণাবলি অর্জন করতে হয়? হ্যাঁ, সফলতা পেতে হলে কিছু গুণাবলি অবশ্যই অর্জন করতে হয়। আজকের লেখাটি যেকোন কাজে সফলতা পেতে এমন ৫টি গুণাবলি নিয়েই।

১.আমিই পারবো, এই কথাটি বিশ্বাস করা: যদি মনের মাঝে বিশ্বাসই না থাকে যে আমি পারবো, তাহলে কিন্তু বিপদ। দেখা যাবে, সঠিক আত্মবিশ্বাসের অভাবে নিজের সবটুকু সামর্থ্য দিয়েও কাজে ব্যর্থ হতে হবে। তাই, সবসময় ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে হবে। দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে, ‘আমি যেভাবে চিন্তা করি, সেভাবেই সবকিছু পরিবর্তন করতে পারবো। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, যারা এই ধরনের ইতিবাচক মনোভাব ধারণ করে, তারা সহজেই সফলতার দেখা পেয়ে থাকে।

২.নিজের সামর্থ্যের উপর ভরসা রাখা: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, যখন কেউ কোন একটি কাজের ব্যাপারে নিজের সামর্থ্যের উপর পূর্ণ ভরসা এবং আস্থা রাখে তখন সে ব্যক্তি তার সত্যিকারের সামর্থ্যের চাইতেও আরো ভালোভাবে সেই কাজটি সম্পন্ন করতে পারে। হ্যাঁ সত্যিই, যেকোন কাজে সফলতা পেতে হলে নিজের সামর্থ্যের উপর ভরসা রাখা খুব জরুরী।

৩.শঙ্কা-আশঙ্কা দূর করা: এই লেখাটি পড়ার পর থেকেই প্রতিজ্ঞা করো যে তুমি আর কোন ব্যাপার নিয়ে মিছে শঙ্কা বা অতিরিক্ত নেতিবাচক ভাবনা চিন্তা করবে না। জীবনের বিভিন্ন সময়ে আমাদের সাথে নানাধরণের খারাপ কিছু হতেই পারে। কিন্তু, সেসব নিয়ে অযথা ভেবে কোন কাজে পিছিয়ে আসার মানে কি! কোন সাধারণ ঘটনা থেকেই উপসংহার টেনে আনা ঠিক না।

যেমনঃ ধরো, তুমি একদিন বিকেলবেলা বাইসাইকেল চালাতে গিয়ে বাইসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছিলে। কিন্তু, তার জন্যে তুমি কি আঘাত পাবার ভয়ে বিকেলবেলা আর সাইকেল চালাবে না? জানি মোটেও তুমি তা করবে না! তাই, সফলতা পেতে শঙ্কা-আশঙ্কা আজ থেকে আর নয়।

৪. সবকিছুর জন্যে নিজেকে দায়ী ভাবা বন্ধ করা: সফলতার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সবকিছুর জন্য নিজেকে দায়ী না ভাবা। ব্যাপারটি একটু বুঝিয়ে বলছি, এটি আসলে একধরণের মনের ফাঁদ। যেমন: মনে করো খেলার মাঠে তোমরা ফুটবল খেলছো। খেলার এক পর্যায়ে তোমার পাশেই অবস্থান করা একজন বন্ধু ব্যাথা পেলো। আপাতদৃষ্টিতে সেখানে তোমার কোন দোষই নেই। এমন পরিস্থিতিতে যদি তুমি নিজেকে দায়ী ভেবে থাকো তাহলে কিন্তু মুশকিল।

অনেক সময় আমাদের মন বিভিন্ন কাজে নিজের কাছে নিজেকেই দায়ী/দোষী সাব্যাস্ত করে যার জন্যে আসলে আমরা দায়ী নই। সুতরাং, এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে – সবকিছু যুক্তি দিয়ে চিন্তা করবে। কোন ঘটনা নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায়, সবদিক বিবেচনা করে কাজ করবে।

৫. হুট করে কোন সিদ্ধান্ত না নেওয়া: কোন ব্যাপারে হুট করে কিছু সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তীতে আমাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হলেও সেই ঘটনাটি সম্পর্কে আমাদের আগের মনোভাবে কোন পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই, কোন কিছু নিয়ে উপসংহারে পৌঁছাতে চাইলে আগে প্রমাণ দেখতে হবে, যুক্তি দিয়ে মিলিয়ে সবকিছু বাছবিচার করে তবেই নিজের মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

যেমন: কোন প্রমাণ ছাড়াই বেশভুষা দেখেই কোন একজনকে যদি মনে হয় সেই ব্যক্তি ভালো নয় এবং এই মনোভাব নিয়েই যদি সে ব্যক্তির সাথে তুমি খারাপ আচরণ করো তাহলে সেটি অন্যায় হবে। আগে জানতে হবে সে ব্যক্তি সত্যিই ভালো নাকি মন্দ।

এই অভ্যাসটি গড়ে তুলবার জন্য – সরাসরি কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবার আগে বিরতি দাও। ভাবো, চিন্তা করো, তারপর সিদ্ধান্তে আসো। নিজের মনের সাথে নিজে কথা বলো, কিছু প্রশ্ন তৈরি করে প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজের কাছ থেকে নিজেই জেনে নাও। নিজেকে আগে বুঝার চেষ্টা করো।

More News Of This Category