1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

সহকর্মীর সাথে বোঝাপড়া!

আপনার কাজের ধরন, কাজের দক্ষতা এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ—এ সবকিছুর সুষ্ঠ সমন্বয়ই হলো কর্মক্ষেত্রে আপনার সাফল্যের চাবিকাঠি। বিশেষ করে সহকর্মীদের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন তার উপর নির্ভর করে আপনি আপনার অফিসে কত সহজভাবে কাজ করতে পারছেন। কাজের ক্ষেত্রে সফলতা পেতে হলে সহকর্মীদের সাথে তাই আপনাকে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেই হবে।

প্রত্যেককেই কাজের জন্য কোনো না কোনো অফিসে সময় কাটাতে হয়। অফিসে থাকেন আরও কিছু সহকর্মী যাদের সাথে কাজের খাতিরে সম্পর্ক বজায় রাখা খুবই জরুরি। সফল হতে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দেওয়া যেমন জরুরি তেমনি সহকর্মীদের সাথে নেটওয়ার্কিং বা যোগাযোগ রক্ষা করাটাও খুব জরুরি।

আপনি যত ভালো কাজই জানুন না কেন, সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক না থাকলে কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পাদন করা হয়ে ওঠে না। সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ না রাখলে পিছিয়ে পড়বেন আপনি নিজেই। কাজের দক্ষতা বাড়াতেও প্রয়োজন সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক। সকলে একসাথে কাজ করতে হলে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া থাকাটা খুবই জরুরি। কিন্তু এই সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাকে সমৃদ্ধ করা এবং তাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো খুব একটা সহজ ব্যাপার নয়। এর জন্য কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলে সবার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা ও সঠিকভাবে কাজ করা সহজ হয়।

সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য কিছু পরামর্শ:
কর্মক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান গড়ে নিতে হলে উচ্চপদস্থ-নিম্নপদস্থ সব ধরনের কর্মীর সাথেই ভালো ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। সহকর্মীদের সাহায্য করুন এবং প্রয়োজন পড়লে তাদের সাহায্য নিন। সাহায্য চাওয়ার ব্যাপারে লজ্জা পাবেন না। কারণ কাজ শেখার ক্ষেত্রে বয়স, পদ বা অভিজ্ঞতা সবসময় কার্যকর নাও হতে পারে। কাজে আটকে গেলে অভিজ্ঞ সহকর্মীদের পরামর্শ যেমন প্রয়োজন হয়, তেমনি কাজে একেবারে নতুন, বয়সে ছোট সহকর্মীও আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

আপনার সহকর্মীদের মধ্যে সবাই আপনার সমমনস্ক হবে না কিন্তু সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। কারো সাথে ব্যক্তিত্বের সংঘাত যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। কারো সাথে অযথা মনোমালিন্য ও ভুল বোঝাবুঝি হয় এমন কথা ও আচরণ এড়িয়ে চলুন। কারো সাথে মতানৈক্য হতেই পারে কিন্তু নিজের ইগো নিয়ন্ত্রণে রেখে সেটা বেশিদূর এগোতে দেবেন না।

অফিসে যত ধরনের আড্ডা হয় সব ধরনের আড্ডাতেই যোগ দেওয়ার চেষ্টা করবেন। সহকর্মীদের সাথে কারো ব্যক্তিগত গিবতে যোগ না দিয়ে হালকা মেজাজে হাসিঠাট্টায় যোগ দিন। এতে মনমেজাজ ভালো থাকবে আবার অন্যদের সাথে সম্পর্কও সহজ হয়ে উঠবে। কাজের ব্যাপারে সহকর্মীদের সাথে আলোচনা করুন এবং মিটিংগুলোতে সবসময় সপ্রভিত অংশগ্রহণ বজায় রাখুন। টিম মিটিং চলার সময় কাজ নিয়ে যেকোনো কিছু জানার থাকলে প্রশ্ন করুন। এমনকি কাজ বুঝে উঠতে না পারলে সেটাও জানান।

সহকর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে পুরোপুরি নিরাসক্ত থাকবেন না। মাঝে মাঝে তাদের বাড়ির খোঁজখবর নিন। সহকর্মীর বাড়িতে কোনো সমস্যার কথা জানা থাকলে সে ব্যাপারে জিজ্ঞেস করুন এবং সমাধানের পথ জানা থাকলে তাকে জানান। নিজের চিন্তাভাবনা বা ধ্যানধারণা অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। প্রত্যেকেরই কাজের একটা নিজস্ব ধরন থাকে, সেই নিজস্বতাকে সম্মান করে চলুন।

সহকর্মীদের মধ্যে যারা ইতিবাচক মনোভাবাপন্ন তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। প্রয়োজনে তাদের সাথে আলাদাভাবে কাজের ব্যাপারে আলোচনা করুন। একসাথে অফিসের নানা সমস্যার সমাধান করুন। এতে কাজের প্রতি উৎসাহ বাাড়বে। আপনার কর্মক্ষেত্রের হয়তো একটা কাজের ধারা আছে, যেটা আপনার মনমতো নাও হতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য নিয়মের মতো এই কাজের ধারা মেনে চলাটাও আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আর যদি মনে হয় এতে বেশ বড় ধরনের কোনো সমস্যা আছে, তাহলে তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক ডটকম।

More News Of This Category