1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

সহজ শর্তে কিস্তিতে পাঠাও বাইকারদের বাইক দেবে রানার

পাঠাও বাইকারদের সহজ শর্ত ও কিস্তিতে মোটর বাইক দেবে রানার। দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যেকার এক সমঝোতা চুক্তির আওতায় পাঠাও এ রাইড শেয়ার করা বাইকারদের জন্য এই সুবিধা দেবে দেশীয় মোটর সাইকেল প্রস্তুতকারক ও বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান রানার। রাজধানীর তেজগাঁও এ রানার মোটরসের প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিপত্রে রানার এর পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আমিদ সাকিফ খান এবং পাঠাও এর পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুসেইন এম ইলিয়াস স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন, রানার অটোওমোবাইলসের ব্যবস্থা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকেশ শর্মা, হেড অফ করপোরেট সেলস আশিক আহমেদ এবং পাঠাও এর হেড অফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স রুজান সারওয়ারসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই চুক্তির আওতায়, পাঠাও এ নিবন্ধিত বাইকার রানার থেকে বাইকের মূল্যের ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট হিসেবে জমা দিয়ে বাইক কিনতে পারবেন। আর বাকি ৮০ শতাংশ মূল্য ১২ অথবা ১৮ মাসের মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন গ্রাহকেরা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, “পাঠাও আমাদের শহরের মবিলিটির (যোগাযোগ) ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে। আর আমরা সুলভ মূল্যে দেশের মানুষের কাছে মোটর বাইক পৌঁছে দিয়েছি। পাঠাও এ যিনি বাইক চালান তিনি একজন উদ্যোক্তা। এমন একটি উদ্যোগের সাথে থাকতে পেরে আমরা রানার পরিবার আনন্দিত। এই দুই প্রতিষ্ঠান একসাথে কাজ করাতে এই খাতে আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সামনেও আমরা একসাথে কাজ করার আশা করছি আমরা”।

এসময় পাঠাও এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুসেইন এম ইলিয়াস বলেন, “বাইকার ও গ্রাহকদের জন্য নতুন নতুন দিক আমরা সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করি। তারই অংশ হিসেবে রানারের সাথে আমাদের এই বন্ধন স্থাপন। আমরা আশা করি এর মাধ্যমে দেশে রাইড শেয়ারিং খাতে আমরা দুই প্রতিষ্ঠান আরও বড় পরিসরে ভূমিকা রাখতে পারব। আর আমাদের বাইকারদের জন্য বাইক কেনা আরও সহজ হয়ে আসলো”।

রানার বাইকের খুচরা যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা না থাকা এবং নতুন বাইকের সাথে দেওয়া শো-রুম পেপারস নিয়ে করা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজুর রহমান খান বলেন, “যেকোন প্রতিষ্ঠানের জন্যই স্পেয়ার পার্টস (খুচরা যন্ত্রাংশ) শতভাগ নিশ্চিত করা কঠিন। তবুও আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছি। কিছু জায়গায় সমস্যা হচ্ছে তবে তাও দ্রুত সমাধান হয়ে যায়। আর শো-রুম পেপারসের সাথে বিআরটিএ-সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর জড়িত। তাই অনেক সময় কাগজ পেতে দেরি হতে পারে”।

অন্যদিকে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা এবং পাঠাও এর ভাড়া ও কমিশন নিয়ে যাত্রী ও বাইকারদের অসন্তোষের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পাঠাও এর পক্ষ থেকে বলা হয়, “এটা ঠিক যে, রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা অনুযায়ী, কোন নতুন বাইক কেনার এক বছরের আগে তা রাইড শেয়ারিং এর কাজে ব্যবহৃত হতে পারবে না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সেবার চাহিদা অনেক। তাই এমন শর্ত শিথিল করা দরকার। এরজন্য আমরা বিআরটিএ-সহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা করে যাচ্ছি”।

তবে যাত্রী ও বাইকারদের অসন্তোষে নিজেদের দায় অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠানটি। যাত্রীদের দূরত্ব ও সময়ের ওপর ভিত্তি করে যাত্রা শুরুর আগে দেখানো ভাড়া এবং যাত্রা শেষের ভাড়ার মধ্যে তারতম্য হয় বলে জানায় করে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও বাইকারদের কমিশন ও অফারের টাকা দ্রুত পরিশোধের জন্য দিনে চারবার পেমেন্ট সম্পূর্ণ করা হয় বলেও দাবি করা হয় পাঠাও এর পক্ষ থেকে।

More News Of This Category