1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

নতুন কিছু করতে হলে সাধারণভাবে চিন্তা করো

আমার বাবা ছোটবেলায় তাঁর পিতাকে হারিয়েছেন। বাবার জন্য তাঁর মা-ই ছিলেন তাঁর পৃথিবী। দাদি যদি কোনো ব্যবসা করতে নিষেধ করতেন, যত মুনাফাই থাকুক, বাবা সেই ব্যবসা করতেন না। বাবা আমাদের অনেক কিছুই শিখিয়েছেন। তাঁর মধ্যে একটি বিষয় উনি সব সময় বলতেন। সেটি হলো, নতুন কিছু করতে হলে সাধারণভাবে চিন্তা করো।

বড় সমস্যার সহজ সমাধান করো। তিনি অনেক কাজই করেছেন, সেগুলোর মধ্যে মালা শাড়ি, কাঁটাচামচ, সানশাইন কেব্​লস—এমন অনেক পণ্য তিনি প্রথমবারের মতো দেশকে উপহার দিয়েছেন। এ সবকিছুর পেছনেই ছিল সাধারণ চিন্তা। ষাটের দশকে মালা শাড়ি আসার আগেও দেশে নারীরা শাড়ি পরত। বিয়ে হতো।

বাবা ঠিক করেছিলেন, দেশে সাড়ে সাত কোটি মানুষের মধ্যে তিন কোটি নারী। তাঁদের একটা করে হলেও শাড়ি দরকার। তিনি এর সহজ সমাধান আনলেন মালা শাড়ি দিয়ে। তাঁর মাথায় ছিল সাধারণ মানুষের বাজার। একইভাবে বাবা যখন মানোয়ার কাটলারিজ প্রতিষ্ঠা করলেন, তখন লক্ষ্য ছিল, প্রতিটি পরিবারের কাছে অন্তত পাঁচটি করে চামচ বিক্রি করা।

কারণ, খাবার হাত দিয়ে তোলার বদলে চামচ দিয়ে তুলে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। খুব সাধারণ চিন্তা করে তিনি সফলতা পেয়েছিলেন।বাবা আমাদের শিখিয়েছেন যে মানুষের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। প্রত্যেক মানুষ—সরবরাহকারী হোক অথবা কর্মচারী হোক—কেউ ভুল করলে তার ওপর রাগ করা যাবে, বকুনি দেওয়া যাবে; কিন্তু অসম্মান নয়। কাজের প্রতি সম্মান, সততা ও নিষ্ঠা ছিল তাঁর প্রধান মূল্যবোধ।

বাবার ব্যবসায়িক কৌশল ছিল, কেনার সময় জিততে হবে। তিনি যেহেতু আমাদের হাতে ধরে ব্যবসা শিখিয়েছেন, সেহেতু তিনি শুরুতে আমাদের কোনো কোম্পানির পণ্য কেনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় আমাকে তিনি গাড়িতে তেল নেওয়া শিখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শুধু তেল নিলেই হবে না, কত লিটার নিলাম, আগেরবার তেল নেওয়ার পর কত কিলোমিটার চলেছে, কোথায় কোথায় গেছে—এসব হিসাব নিতে বলেছেন।

ব্যবসায় আমাকে তিনি শুরুতে মনিহারি পণ্য কেনার দায়িত্ব দেন। এরপর একটি কোম্পানির কাঁচামাল কেনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে আন্তর্জাতিক ক্রয়ের কাজ করিয়েছেন। সব জায়গায় কাজ ছিল কেনা, যাতে ক্রয়ের সময় ঠকে না যাই। যখন আমি কিনতে শিখেছি, তখন আমি জানি কী কিনেছি, কত দামে বিক্রি করতে হবে। বাবা বলতেন, যে ব্যক্তি কিনতে গিয়ে ঠকে যায়, তিনি বিক্রি করতে গিয়ে জিততে পারেন না।

বাবার লক্ষ্য ছিল মানুষের কর্মসংস্থান করা। এ জন্য আমরা কত টাকার পণ্য বিক্রি করলাম, সেটা দিয়ে ব্যবসার মূল্যায়ন করি না। আমরা দেখি, কত লোক কাজ পেল। এ জন্য নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছি। বাবা তিন-চার বছর ধরে বিশ্রামে আছেন। তবে তিনিই কোম্পানির চেয়ারম্যান। তাঁর মূল্যবোধ অনুযায়ী আমাদের ব্যবসা পরিচালিত হয়। তথ্যসূত্র: প্রথমআলো।

More News Of This Category