1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

সাফল্য সহজলভ্য নয়, তাই ঝুঁকি নিতেই হবে!

মানুষের জীবনে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তবে কোন মূলমন্ত্র নেই। সব মানুষের সফলতার পেছনে আছে ভিন্ন ভিন্ন কাহিনি ও সংগ্রামের দাগ-চিত্র। সব মানুষ সমান নয়। আপনি আপনার আশেপাশে একটু তাকিয়ে দেখুন। খেয়াল করলে দেখবেন, আপনার পাশের লোকটি আপনার চেয়ে কতটা ভিন্ন। সে হোক চেহারায়, উচ্চতায়, ব্যক্তিত্বে, ধর্মে, সচ্ছলতায় বা চরিত্রে। তা সত্ত্বেও সফল মানুষেরা তাদের নিজেদের বিজয়ী হিসেবে রূপান্তর করতে কিছু ইতিবাচক চিন্তাধারা অবলম্বন করে থাকে। আর সেগুলো হচ্ছে—

এক. নিজেকে অসাধারণ বা ভিন্ন ভাবা: না, এখানে অহংকারকে বোঝানো হচ্ছে না। অহংকার পতনের মূল—এটি সত্য। যাই হোক, সে বিষয়ে আর বিস্তারিত নাই বা বললাম। জীবনে চলার পথে আপনাকে মানুষ নানাভাবে বিরক্ত করবে, সমালোচনা করবে এবং আপনাকে নিয়ে কটূক্তি করবে। সফল মানুষেরা এসব লোক-সমালোচনা বা কটূক্তি বিন্দুমাত্র আমলে নেয় না।

তারা যথাসম্ভব এসব মানুষকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। অন্যদিকে যারা অন্যের সমালোচনা শুনে নিজেকে সংশোধন করে বা অন্যের কথা মতো নিজের জীবন চালায়, তারা কোনো দিন সফল হয় না। এরা শুধু শুধু অন্যের কথায় খুব দুঃখ পায় এবং তাদের কথামত সমাজে চলার চেষ্টা করে। সফল ব্যক্তিরা অন্যের সমালোচনাকে একদম কানে নেয় না এবং তাদের নিজেদের জীবন থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখে।

যেমন—কোন ব্যক্তি তাদের নামে ফেসবুকে কটূক্তি করলে তারা সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে ব্লক করে দেয়। অথবা, কোন ব্যক্তি তাদের সামনে হিংসাত্মক মন্তব্য করলে তাদের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে। এর কারণ হচ্ছে, আপনি যতই ওই সব ব্যক্তির আশপাশে থাকবেন, আপনার জীবন তত নেগেটিভ হয়ে যাবে। আপনার সৃষ্টিশীলতা কমে যাবে। নিজের প্রতি আপনার আত্মবিশ্বাস কমে যাবে।

সারা জীবন আপনি শুধু অন্যদের খুশি করতে তাদের কথামত জীবনযাপন করতে ব্যস্ত থাকবেন। এতে আপনি আপনার নিজের ক্যারিয়ার বা জীবনের উন্নতির পেছনে সময় ব্যয় করতে পারবেন না। আপনার জন্ম কিন্তু অন্যকে খুশি করতে হয়নি। সেটা মনে রাখা জরুরি। সফল ব্যক্তিরা জানে, নিন্দুকেরা কখনো কারও ভালো চায় না। নিন্দুকেরা অন্যের ভালো একদম সহ্য করতে পারে না।

কবি বলেছেন, ‘নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো।’ সেটা ঠিক আছে, যদি আপনি নিন্দুকের নিন্দা শোনার পর সেটা বিবেচনা করে তার সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তা না হলে আপনি যত নিন্দুকের আশপাশে থাকবেন, নিজেকে ততই দুর্বল মনের বা অক্ষম মনে হতে পারে। কথায় আছে ‘সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে।’

একবার চিন্তা করুন, আপনি যদি নিন্দুকের কথামত তার পাশে চলাফেরা করেন, তাহলে আপনার কী অবস্থা হতে পারে। তাই যতটা সম্ভব এদের এড়িয়ে চলা উচিত। সে যেই হোক না কেন, নিন্দুকেরা সাধারণত বন্ধু, আত্মীয় বা প্রতিবেশী হয়। কেননা একজন অপরিচিত ব্যক্তি কখনো আপনার নিন্দা করবে না। সফল ব্যক্তিরা জানে, নিন্দুক ও শত্রু দুই–ই কাছের মানুষ হয়। তাই জীবনে সফল হতে হলে আপনার সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা উচিত। কারণ সফল ব্যক্তিরা জানে, তারা অন্যের চেয়ে অসাধারণ তাই নিন্দুকের কাতারে না যাওয়া উত্তম।

দুই. নিজের প্রতি আস্থা রাখা: সফল ব্যক্তিরা নিজের প্রতি দারুণ আস্থা রাখে। তারা কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে না। মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস থাকা জরুরি, কিন্তু অন্ধভাবে কাউকে বিশ্বাস করাটা বোকামি। কাউকে বিশ্বাস করার আগে তাদের সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণ যাচাই করা উচিত। সফল ব্যক্তিরা অন্ধভাবে শুধু নিজেকেই বিশ্বাস করে।

আপনার জীবন পথে ভালো কিছু করতে গেলে অন্যরা আপনাকে কাঁকড়ার মতো নিচে টেনে আনার চেষ্টা করবে। অথবা, আপনাকে নানা ধরনের কথা বলে আপনার চিন্তা–ধারণার সম্পর্কে সন্দেহ জাগানোর চেষ্টা করবে। কেউ যদি আপনাকে বলে, ‘আমি আপনার ভালোর জন্য বলছি।’ তখন আপনাকে যাচাই করতে হবে যে, আসলে কি সেই ব্যক্তিটি আপনার ভালো চায়? মানুষ স্বভাবতই অন্যের ভালো কামনা করে না। আর যদি বা করে, তার পেছনে কিছু স্বার্থ থাকে।

আর সেই স্বার্থ যদি খারাপ হয়, তখন সফল ব্যক্তিরা এদের এড়িয়ে চলে। সফল ব্যক্তিরা সমাজে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করে। এতে তাদের নানা সমালোচনা বা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। যারা মানুষের কথা শুনে নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, তারা কোনো দিন উন্নতি করতে পারে না। এর মানে এই নয়, অন্যের কথায় একদম কান দিতে হবে না। অন্যদের কথা শুনে তার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য যাচাই করা উচিত। কিন্তু নিজের ওপর বিশ্বাস হারানো একদম উচিত নয়।

তিন. সব সময় খুশি থাকা: সফল ব্যক্তিরা সব সময় হাসি-খুশি থাকার চেষ্টা করে। আপনি সব সময় মনমরা থাকলে অন্যরা আপনার দুর্বলতার সুযোগ নেবে। হাসি-খুশি মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। কারণ হাসি-খুশি থাকা মানুষের স্বভাব একটি মহৎ গুন। একবার চিন্তা করুন, যদি একটি বিষাক্ত সাপ মনমরা হয়ে মাটিতে পড়ে থাকে, তাহলে তার কী অবস্থা হবে। হ্যাঁ, সঠিক আন্দাজ করেছেন। একটি সাপ মনমরা হয়ে মাটিতে পড়ে থাকলে অন্যরা তার ওপর অত্যাচার শুরু করে দেবে। কারণ সাপের ফণা তোলা বা ফোঁস ফোঁস করাটাই স্বভাব।

আপনি হাসি খুশি থাকলে অন্যরা দ্বিধায় পড়ে যাবে। আপনাকে হাসি খুশি দেখে তারা হিংসা করবে নিশ্চয়, কিন্তু ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ প্রকৃতপক্ষে তারা জানে, আপনাকে নিয়ে কী করতে হবে। কিন্তু আপনি মনমরা থাকলে তারা আপনাকে কুযুক্তি দেবে এবং নানা কথা ‘উপদেশ’ হিসেবে বিনে পয়সায় দিয়ে যাবে। আসল সেগুলো উপদেশ নয়। আপনার জীবনকে বরং আরও দুর্বিষহ করে তুলবে। তাতে তাদের লাভ কি? এ প্রশ্ন পাঠকের মনে জাগতেই পারে।

মানুষ সারা জীবনে সুখের পেছনে ঘোরে। কিন্তু সব মানুষের জীবনে নানা কষ্ট–দুঃখ পরিপূর্ণ থাকে। শত চেষ্টা করেও তারা সুখের সন্ধান পায় না। তাই তারা আপনাকে যত কষ্টে দেখবে, তারা তত সুখ পাবে। তাদের মানসিক সুখের জন্যই আপনার অমঙ্গল কামনা করবে। অন্যদিকে যারা আপনার অমঙ্গল কামনা করে না, তারা বাস্তবে আপনার দুঃখের গল্প শুনতে চায় না। কিন্তু আপনার দুঃখের গল্প শোনার অভিনয় করে যাবে।

চার. নিষ্কাম কর্ম করা: সফল মানুষেরা ফলাফল নিয়ে চিন্তা না করে শুধু কর্ম করে যায়। কারণ তাদের ফলাফল নিয়ে চিন্তা করার সময় থাকে না। তারা জানে, কাজ করলে ফল আসবেই। অন্যরা যখন তাদের সামান্য সাফল্যকে উদ্‌যাপন করতে ব্যস্ত থাকে, তখন সফল ব্যক্তিরা শুধু কাজ করে যায়। মানুষের কোন কাজ বিফলে যায় না। ধরুন, আপনার বন্ধু আপনাকে একটি সুস্বাদু খাবার দোকান কিছু খাবার কিনে আনতে অনুরোধ করল। কিন্তু সে রেস্তোরাঁটি আপনি চিনেন না বা সেখানে কোনো দিন যাননি।

আপনার বন্ধু আপনাকে সে রেস্তোরাঁয় যাওয়ার পথ বাতলে দিল। বন্ধুর অনুরোধ রাখতে গিয়ে আপনি সে রেস্তোরাঁর পথে চললেন, কিন্তু পথে হারিয়ে গেলেন। কোনোমতে আপনি বন্ধুর বাসায় ফিরে গেলেন, কিন্তু খাবার নিতে পারেননি। এখন পাঠক বলতে পারেন, তাহলে আপনি যে এত দূর হাঁটলেন সেটাও তো একটি কাজ ছিল। তাহলে এ কাজের তো কোনো ফলই পাননি।

ফল কিন্তু আপনি অবশ্যই পেয়েছেন। আর সেটি হচ্ছে আজকের পথ দিয়ে আপনি কোনো দিন ওই রেস্তোরাঁর উদ্দেশে যাবেন না, কারণ আপনি জানেন, আজকের রাস্তাটি ভুল ছিল। অন্যদিকে, সে পথে আপনি অনেক কিছু দেখলেন ও জানলেন। ফল কিন্তু ঠিকই পেয়েছেন। তাই অলস সময় না কাটানো বুদ্ধিমানের কাজ এবং নিষ্কাম কর্ম করে যাওয়া উচিত।

পাঁচ. সময়ের সদ্ব্যবহার করা: বিজয়ীরা সময়ের সদ্ব্যবহার করে থাকেন। তারা অলস সময় একদম ব্যয় করেন না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সবার একটি সময় তালিকা করা উচিত এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা উচিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে গেলে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু বিজয়ীরা সে সব সমস্যা সমাধানের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যায়।

অন্যদিকে অনেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়লে সে অজুহাতে কাজটি আর করে না। তারা নিজেদের এ বলে সান্ত্বনা দেয়, ‘আজকে হঠাৎ করে এ সমস্যা আসল, তাই আজকের কাজটি কালকে বা পরশু করব।’ সময়ের কাজ সময়ে না করলে তার আশানুরূপ ফল মিলে না। তাই সবার উচিত, শত বাধার মধ্যেও পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা। এতে ভবিষ্যতে যত বাধাই আসবে, পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কাজ হয়ে যাবে।

ছয়. ঝুঁকি নেওয়া: বিজয়ী হতে হলে আপনাকে ঝুঁকি নিতে হবে। জীবনে কোনো কিছুই সহজলভ্য নয়। যেহেতু সাফল্য সহজলভ্য নয়, তাই ঝুঁকি নিতেই হবে। ঝুঁকি না নিলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া যায় না। তাই বলে অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি নিলে হবে না। যেমন ধরুন—আজকে ইন্টারভিউ দিতে আপনাকে এক অফিসে যেতে হবে। আপনি যদি ইন্টারভিউ দিতে না চান এবং ইচ্ছে করছে বলে ঘরে বসে থাকেন, তাহলে আপনি সফল হবেন না। আর যদি ইন্টারভিউ দিতে বাড়ি হতে বের হন, তাহলে আপনাকে ঝুঁকি নিতে হবে।

রাস্তায় অনেক দুর্ঘটনা, খুন-ডাকাতি, গাড়ির ধোঁয়াসহ নানা প্রাণঘাতী ঝুঁকি থাকে। আপনি এসব ঝুঁকি উপেক্ষা করে গেলে সফল হতে পারবেন। আবার আপনি যদি ভাঙা গাড়িতে ওঠেন, হাতে বিরাট অঙ্কের টাকা থাকে বা অসাবধানে চলাফেরাসহ অহেতুক বা অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি নেন তাহলে আপনার সাফল্যের ভ্রমণ বিফলে যেতে পারে। তাই আপনাকে সব সময় ‘ক্যালকুলেটিভ রিস্ক’ নিতে হবে, যাতে সাফল্যের পথে বাধাকে কমিয়ে আনা যায়। তথ্যসূত্রধ প্রথমআলো।

More News Of This Category