1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

সাবলম্বী হতে অর্থনৈতিক জীবন যেভাবে গড়বেন!

স্বাবলম্বী হতে সবাই চায়। বস্তুত স্বাবলম্বী হওয়ার জন্যই দৈনন্দিন জীবনে আমাদের এত ব্যস্ততা! আমরা চাকরি করি, ব্যবসা করি, দিন রাত পরিশ্রম করি শুধু অর্থনৈতিক মুক্তি আর সুখে থাকার জন্য। কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি কি আপনাআপনি আসে? নিশ্চয়ই না! অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে হলে প্রয়োজন পর্যাপ্ত টাকা রোজগার করা।

আবার পর্যাপ্ত টাকা রোজগার করলেই কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি মেলে না। কেননা পর্যাপ্ত টাকা রোজগার করলে যদি অর্থনৈতিক মুক্তি ও শান্তি মিলত, তাহলে অসংখ্য মানুষ ভালো চাকরি করার পরও অসুখী জীবনযাপন করতো না। আসলে শুধু টাকা রোজগার করলেই হবে না, তার সাথে থাকতে হবে একটি পরিকল্পিত অর্থনৈতিক জীবন।

এক্ষেত্রে আপনার রোজগারের পরিমাণ মুখ্য বিষয় নয়। মুখ্য বিষয় হলো উপার্জিত অর্থ আপনি কেমন পরিকল্পনার আওতায় খরচ করছেন। আপনার অর্থনৈতিক জীবনের পরিকল্পনা যত ভালো হবে, আপনার জীবন তত বেশি সুখী এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। আজকের নিবন্ধে আলোচনা করব, কীভাবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক জীবন গড়া যায় তা নিয়ে। আমার বিশ্বাস এই নিবন্ধটি পড়ার পর আপনি আপনার অর্থনৈতিক জীবন পুনঃ নির্মাণ করতে সক্ষম হবেন।

১. ঋণের তালিকা: অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে ঋণমুক্ত হতে হবে। সুতরাং আপনার সকল ঋণের তালিকা প্রস্তুত করুন। হাতের কাছে থাকা কোনো নোটবুক, অথবা আপনার ল্যাপটপে একটা পেজ খুলে বসুন, আর একে একে আপনার সকল ঋণের বিস্তারিত তথ্য লিখে ফেলুন। যেমন ঋণের পরিমাণ, ঋণের ধরণ; অর্থাৎ সুদের পরিমাণ, ঋণ নেওয়ার তারিখ, পরিশোধ করার সর্বশেষ তারিখ এবং এ সম্পর্কিত তথ্য।

সুদের ভিত্তিতে নেওয়া ঋণগুলো বর্তমানে পরিশোধ করলে সুদসহ কত টাকা প্রদান করতে হবে। আর এক বছর বিলম্ব হলে আরো কত টাকা সুদ যোগ হতে পারে ইত্যাদি বিষয়েও গবেষণা করুন, এবং তা নোট করুন। এই তালিকা সব সময় হালনাগাদ করুন। প্রতিবার কোনো একটি ঋণ শোধ করার পর তালিকা থেকে তা মুছে ফেলুন। প্রতি মাসে ঋণ এবং সুদের পরিমাণ যোগ করে পূর্ববর্তী মাসের হালনাগাদকৃত তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখুন, ঋণের পরিমাণ কতটুকু কমলো।

তালিকা প্রস্তুত করার সময় জরুরী ঋণগুলো উপরের সারিতে রাখুন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি ঋণগুলো আগে পরিশোধ করুন। যেমন, উচ্চ সুদের ঋণগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে পরিশোধ করার চেষ্টা করুন। অথবা ব্যক্তি পর্যায় থেকে নেওয়া কোনো ঋণ, যা সম্মানের খাতিরে আগে পরিশোধ করা প্রয়োজন, তা আগে পরিশোধ করুন। প্রতি মাসে নিজের রোজগারের অর্থ থেকে কত টাকা ঋণ শোধ করতে ব্যয় করবেন, তার ভিত্তিতে তালিকা হালনাগাদ করুন। এভাবে পরিকল্পিতভাবে ঋণ শোধ করলে আপনি খুব দ্রুতই সকল ঋণমুক্ত হতে পারবেন।

২. সঞ্চয় পরিকল্পনা: অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ঋণ শোধের পরিকল্পনা করার পর দ্বিতীয় পরিকল্পনা করতে হবে সঞ্চয় নিয়ে। এমনকি যদি বর্তমানে আপনার হাতে কোনো টাকা নাও থাকে, অথবা আপনার কোনো চাকরি না থাকে, তবুও আপনাকে সঞ্চয় পরিকল্পনা করতে হবে। এখন টাকা নেই তার অর্থ এই নয় যে, কখনো টাকা থাকবে না। বরং পরিকল্পনা করুন এভাবে যে, যখন টাকা থাকবে, অথবা আপনি নিয়মিত রোজগার করবেন তখন রোজগারের কত শতাংশ অর্থ আপনি সঞ্চয় করবেন।

মোট কথা, আপনার এমন একটি জীবন শৈলী বেছে নিতে হবে, যেখানে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা এবং টিকে থাকার জন্য আপনি নির্দিষ্ট হারে অর্থ সঞ্চয় করতে সক্ষম হবেন। সঞ্চয় পরিকল্পনা আপনাকে দ্রুত চাকরি অথবা কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করে রোজগার করতে উদ্বুদ্ধ করবে। কেননা প্রতি মাসে আপনাকে নির্দিষ্ট হারে সেভিংস অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করতে হবে।

ইন্টারনেটের অসংখ্য টুলস ব্যবহার করে আপনি শিখতে পারবেন, কীভাবে অর্থ সঞ্চয় করা যায়। তাছাড়া আপনি চাইলে স্থানীয় কোনো সমিতি বা সংস্থার সাথে যুক্ত হতে পারেন। যেখানে আপনি প্রতি মাসে বা সপ্তাহে নির্দিষ্ট হারে অর্থ সঞ্চয় করতে পারবেন। নিঃসন্দেহে সফলভাবে অর্থ সঞ্চয় করতে পারলে অল্প দিনেই আপনার জীবন পাল্টে যাবে।

৩. নতুন চাকরি বা ব্যবসা: যদি আপনার বিদ্যমান রোজগারে কোনভাবেই ঋণ শোধ এবং সঞ্চয় করা সম্ভব না হয়, তবে অবশ্যই আপনার নতুন চাকরির সন্ধান করা উচিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতিতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে চাকরি ছেড়ে দেয়। তারপর নতুন চাকরির সন্ধান শুরু করে। যেহেতু নতুন চাকরি পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না, তাই চাকরি ছাড়ার পর তারা দীর্ঘদিন বেকার থাকে। ফলে অর্থনৈতিক অবস্থা পূর্বের চেয়ে আরো শোচনীয় হয়ে যায়।

সুতরাং কোনভাবেই এই ভুল করা চলবে না। নতুন চাকরি নিশ্চিত না হয়ে পূর্ববর্তী চাকরি ছাড়া যাবে না। অবশ্য আপনি চাইলে বিশেষ কোনো দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিদ্যমান চাকরির পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরির সন্ধান করতে পারেন, যা আপনাকে বাড়তি অর্থের সংস্থান করে দিবে। কোনো চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় নতুন চাকরির সন্ধান করলে পূর্ববর্তী অফিসকে কোনভাবেই নতুন চাকরির সন্ধানের খবর জানাবেন না। এতে আপনার উপর ঊর্ধ্বতনরা বাড়তি চাপ প্রয়োগ করতে পারে।

যেহেতু আপনার নতুন চাকরি নিশ্চিত হয়নি, তাই এখানে কাজের পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না। এছাড়া আপনি চাইলে ছোট কোনো সৃজনশীল ব্যবসা শুরু করতে পারেন। চাকরির পাশাপাশি অনলাইনে এবং অফলাইনে নতুন ব্যবসা আপনাকে আলোর মুখ দেখাতে পারে। কয়েক বছর চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা চালানোর পর যখন আপনার ব্যবসার রোজগার চাকরির চেয়ে বেশি হবে, তখন আপনি চাইলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে পারেন।

কিন্তু কোনভাবেই নিজের ব্যবসার স্টার্টআপ অবস্থায় চাকরি ছাড়বেন না। তাহলে আপনি দুই দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। চাকরি না থাকার কারণে দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাবেন। নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য অর্থ খুঁজে পাবেন না।কাজেই যথাযথ পরিকল্পনার ভিত্তিতে নতুন আয়ের সংস্থান করতে পারলে অল্প দিনে আপনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

More News Of This Category