1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

সামান্য পুঁজি নিয়ে বীজের শুরু করি!

২০ বছর আগে প্রতিবেশি এক বীজ ব্যবসায়ীর সাথে একটু আধটু সময় দিতেন আর ফাঁকে ফাঁকে বীজের গুনগন মান সর্ম্পকে জানার চেষ্টা করতেন। এভাবে কেটেছে প্রায় ২ বছর। তারপর সামান্য পুঁজি নিয়ে ছোট পরিসরে বীজের ব্যবসা শুরু করেন দোহার উপজেলার বানাঘাটা গ্রামের গিয়াস উদ্দিন বেপারী।

সেই থেকে বীজ ব্যবসায় পথ চলা শুরু আর এখন দোহার উপজেলার একজন প্রতিষ্ঠিত বীজ ব্যবসায়ী হিসেবে সবার পরিচিত মুখ তিনি। কৃষক পর্যায়ে ভাল মানের বীজ সরবরাহ করার লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে বীজ ব্যবসা করছেন ।

তাইতো দোহার, নবাবগঞ্জ, শ্রীনগর ও ফরিদপুরের সদরপুর ও নগরকান্দা উপজেলার কৃষকদের কাছে উৎকৃষ্ঠমানের বীজ বিক্রি করছে।
গিয়াস উদ্দিনের বীজের সংগ্রহশালায় রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির শাক সবজি ও শস্য বীজ। এর মধ্যে শশা, লাউ, কুমড়া, ডাঁটা, লাল শাক, ঢেড়ঁস, বরবটি, ঝিড়া, ধুন্দল, ধনিয়া, শিম, পেপে, মরিচ, সরিষাসহ রবি শস্যেসহ বিভিন্ন প্রজাতির ঘাসের বীজ।

মাঠ পর্যায়ের কৃষকের কথা মাথায় রেখে সব সময়ই ভাল মানের বীজ সরবরাহের চেস্টা করে থকেন। গিয়াস উদ্দিন বেপারী এক সময়ে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় হাটের দিনগুলাতে বীজ বিক্রি করে থাকলেও বর্তমানে জয়াপাড়া বাজারে স্থায়ীভাবে দোকান নিয়ে গড়ে তুলেছেন জাবির বীজ ভান্ডার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এখানেই নানা ধরনের বীজ নিয়ে কাটে তার ব্যস্ত সময়।

গিয়াস উদ্দিনের সংগ্রহে রয়েছে দেশের প্রত্যায়িত বীজ কোম্পানীর বীজ ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা দেশীয় প্রজাতির বীজ। এরমধ্যে হাইব্রীড ও দেশীয় উন্নত জাতের বীজ বিক্রি করে থাকেন। এক সময়ে স্থানীয়ভাবে বীজ সংগ্রহ করে বিক্রি করলেও বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নত জাতের বীজ উদ্ভাবিত হওয়ায় ও অল্প দিনে ফলন পাওয়ার কৃষকরা হাইব্রীড বীজের দিকে বেশি ঝুঁকছেন বলে জানা যায়।

তবে গিয়াস উদ্দিনের কথা শখের বশে অনেকে কৃষি কাজ করেন থাকেন তারা বীজ থেকে বীজ সংগ্রহের পর যদি ভাল ফলন না পায় তাহলে কৃষি কাজে অনাগ্রহ দেখা দিবে। যে কারনে ভাল মানের বীজ রাখার চেষ্টা করি।

শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া এলাকা থেকে বীজ নিতে আসা জয়নাল আবেদীন জানান, আমি গত ১০ বছর ধরে এই জাবির বীজ ভান্ডার থেকে বীজ সংঘ্রহ করে বিভিন্ন সবজি চাষ করে থাকি। এখানকার সংগৃহীত বীজ থেকে বরাবরই ভাল ফলন পেয়ে থাকি। যে কারনে আস্থা তৈরি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি।

জাবির বীজ ভান্ডারের মালিক গিয়াস উদ্দিন বেপারী বলেন, বীজ বিক্রির পর সেই বীজ রোপন করার পরে ক্রেতারা যখন এসে ভাল ফলনের গল্প শোনান তখন খুব ভাল লাগে। আর কৃষকদের অনুপ্রেরণা নিয়ে এ ব্যবসায়ের সাথে যুক্ত থাকার কথা জানান তিনি।

বীজ ব্যবসায়ীদের যাতে সরকার সহজ শর্তে ব্যাংক ঋনের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেন তাহলে বীজ ব্যবসায়ীরা ভালভাবে ব্যবসা করতে পারবেন। এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হক জানান, কোন বীজ ব্যবসায়ী যদি আমাদের কাছে সহযোগিতার জন আসে তাহলে সাধ্যমতো সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

তথ্যসূত্র: ডেইলি নয়াদিগন্ত ডটকম।

More News Of This Category