1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

সীমিত বেচাকেনা ও পুঁজি সংকটে ছোট ব্যবসায়ীরা

বড় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারমুখী ছোট ব্যবসায়ীদের জন্যও তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ব্যবসায়ীদের এ সংগঠনটি বলেছে, সীমিত বেচাকেনা ও পুঁজিসংকটের কারণে ছোট ব্যবসায়ীরা খুব খারাপ সময় অতিবাহিত করছেন। তাদের অনেকেই সময়মতো শ্রমিক বা কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে পারছেন না, যা বেকারত্ব বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ঢাকা চেম্বার এসব ছোট ব্যবসায়ীকে ঋণ দিতে একটি তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে, যার সুদের হার হবে ১ ও ২ শতাংশ। যাদের বার্ষিক লেনদেন এক কোটি টাকার বেশি, তারা ২ শতাংশ এবং যাদের লেনদেন এর কম হবে, তারা ১ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। এ ছাড়া তাদের কিছু প্রস্তাব রয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব প্রস্তাব দেয় ডিসিসিআই।

প্রস্তাবে বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের অর্থনীতি, রপ্তানিমুখী শিল্পুকলকারখানা, স্থানীয় বাজারনির্ভর উত্পাদন খাত, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প খাত, সেবা খাত, অতি ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায়, ট্রেডিং নির্ভর ব্যবসা, পরিবহন ব্যবসা, হোটেল, রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, ভাসমান অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকান মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

রপ্তানি খাতকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সহায়তায় নেওয়া পদক্ষেপগুলোর জন্য ডিসিসিআই সরকারকে ধন্যবাদ জানায়। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক ও অনুষ্ঠানিক খাতের অতি ক্ষুদ্র, ক্ষু্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের (এমএসএমই) সুরক্ষায় স্বল্প ও ধ্যেমেয়াদি আর্থিক ও অনার্থিক নীতি সহায়তার দেওয়ার অনুরোধ জানায়।

তহবিল গঠন ছাড়া ঢাকা চেম্বারের প্রস্তাবগুলো হলো- এমএসএমইর ঋণের সুদ এক বছরের জন্য মওকুফ করা, তাদের স্বল্প সুদে ও সহজতর জামানতে বিদ্যমান পুনঃ অর্থায়ন (এসএমই রিফিন্যান্সিং) তহবিলকে পূর্ব-অর্থায়ন (এসএমই প্রিফিন্যান্সিং) তহবিলে রূপান্তর করা ও কম্পানি আইনের আওতায় নিবন্ধিত সীমিত দায়বদ্ধ কম্পানির ব্যাংক গ্যারান্টির শর্তকে আগামী ছয় মাসের জন্য শিথিল করা।

ডিসিসিআই বলছে, এমএসএমইর জন্য স্বল্প সুদে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ঋণের সুদ আগামী ছয় মাসের জন্য মওকুফ করতে ব্যাংকব্যবস্থায় পর্যাপ্ত তারল্যের প্রয়োজন। এ বাস্তবতা বিবেচনা করে নগদ সঞ্চয় অনুপাত বা ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) ও নীতি সুদের হার বা পলিসি রেট কমিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

পাশাপাশি রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ পুনঃপরিশোধ সময়সীমা বৃদ্ধি এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এ জন্য তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে সাধুবাদ জানায়। ডিসিসিআই মনে করে, আগামী ছয় মাসের জন্য বিধিবদ্ধ নগদ জমা বা স্টেটিউটরি লিকুইডিটি রেশিও (এসএলআর) কমানো এবং ঋণ আমানতের অনুপাত বা অ্যাডভান্স ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) শিথিল করা যেতে পারে।

ঢাকা চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত এমএসএমইর ওপর করের বোঝা লাঘব করতে তাদের ২০১৯-২০ অর্থবছরের আয়কর জমা এ বছর স্থগিত রেখে তা আগামী তিন বছরে সমান তিনটি কিস্তিতে ভাগ করে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া, বিসিক শিল্পনগর ও রপ্তানি ইপিজেড এলাকায় অবস্থিত ছোট কারখানায় ছয় মাসের জন্য ভাড়া মওকুফ, বাণিজ্যিক ভাড়া, বিদ্যুত্, গ্যাস ও পানির বিল এবং লাইসেন্স নবায়নের ওপর প্রযোজ্য মূল্যে সংযোজন কর বা ভ্যাট আগামী ছয় মাসের জন্য মওকুফ করার পরামর্শ দিয়েছে।

সংগঠনটি আরও বলেছে, আমদানি ও স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত দ্রব্য, মেডিক্যাল সরঞ্জামাদি, রপ্তানিমুখী উৎপাদনকারী কারখানার ক্ষেত্রে সরকার অগ্রিম কর (এটি) ও ভ্যাট আগামী ছয় মাসের জন্য অব্যাহতি দিতে পারে, যা অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আবার স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের অপ্রচলিত ব্যবসায়িক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে ডিসিসিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব খাতে ব্যবসায়ীরা তাদের পুঁজি ও শ্রমিকেরা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই বাস্তবতা বিবেচনায় পুঁজি ও চাকরি হারানো ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের আওতায় নিয়ে আসার জন্য ডিসিসিআই সরকারকে আহ্বান জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সমুদ্র ও স্থলবন্দরে কনটেইনার খালাস কার্যক্রম শ্লথ হয়ে গেছে। বিলম্বে খালাসের জন্য আমদানিকারকদের অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হচ্ছে। বন্দরের সীমিত কার্যক্রম বিবেচনায় রপ্তানিমুখী ও আমদানিকারক এমএসএমই ব্যবসায়ীদের জন্য বিলম্ব জরিমানা ও ব্যাংক চার্জ ওেকুফ করা দরকার। তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ।

More News Of This Category