1. uddoktarkhoje@gmail.com : uddoktarkhoje :

কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সফলতা তার!

’ছেলে আমার বড় হবে/ মাকে বলতো সে কথা/ হবে মানুষের মতো মানুষ এক/ লেখা ইতিহাসের পাতায়’-জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী জেমসের এই গানের মতোই যেনো তরুণ উদ্যোক্তা অসীমের জীবনগতি প্রবহমান। মানুষের জন্য অসীম কিছু করবেন-এমন ভাবনা থেকেই হয়তো বাবা নাম রেখেছিলেন অসীম। পুরো নাম অসীম কুমার দাশ। বাবা তাঁর মাকে বলতেনও- ‘দেখবে ছেলে আমার বড় হয়ে অনেক বড় কিছু করবে।’

৩৫ বছর আগে করা মা-বাবার সে ভাবনাটুকুকে সত্যিই অসম্মান করেননি অসীম কুমার। নিজের ভেতর গড়ে তুলেছেন অন্যরকম এক অসীমকে। মানুৃষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন যাঁর লক্ষ্য। কথার শুরুতেই যেনো তাঁর প্রমাণ দিলেন তিনি। বললেন, তরুণদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করা উচিত নয়। যে কাজে ইচ্ছে নেই, সে কাজে সফল বা সার্থক হওয়া যায় না। তিনি বলেন, আমাদের দেশের তরুণরা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তরুণদের এমন কাজ করা উচিত যে কাজ করতে সে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

অসীমের জন্ম ১৯৮২ সালে। চট্টগ্রামের আনোয়ারার বারখাইন গ্রামে। বাবা অমল কান্তি দাশ’র হাত ধরেই ব্যবসার হাতেখড়ি তাঁর। তার আগেই অবশ্য ডিঙিয়েছেন বিদ্যালয়ের গ-ি। মা বেবি রাণী দাশ পুরোপুরি গৃহিণী। প্রাথমিক পাঠ শেষ বরার পর লামা বাজার এ, এস, সিটি কর্পোরেশন বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন অসীম। তা ১৯৯৮ সালে।

এরপর ২০০০ সালে সরকারি মহসিন কলেজ থেকে এইচএসসি এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৬ বিবিএ সম্পন্ন করেন। ২০০৮ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (আইইউবি) থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও মানব সম্পদ বিভাগ হতে এমমবিএ করেন। তরুণ এই উদ্যোক্তা বলেন, বিষয়ভিত্তিক সেমিনার তরুণ সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। তাঁর মতে, দক্ষ জনশক্তির জন্য আমাদের দেশের স্কুল-কলেজগুলোতেও বিষয় ভিত্তিক সেমিনার হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, একজন প্রশিক্ষক বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে শত-শত সেমিনারে অংশগ্রহণ করে তাঁর নিজের জ্ঞানকে ঋদ্ধ করেন। একজন প্রশিক্ষক বছরের পর বছরের অর্জিত জ্ঞ্যান প্রশিক্ষনার্থীদের মধ্যে বিলিয়ে দেন এক কিংবা দুই ঘণ্টায়। আমাদের উচিত সে জ্ঞ্যানকে নিজের মধ্যে ধারণ করা।

এবার বললেন তিনি ব্যবসা প্রসঙ্গে,‘আমার দাদা প্রসন্ন কুমার দাশ ছিলেন ছিলেন ব্যবসায়ী। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গুড়ের ব্যবসা করতেন তিনি। দাদার কাছ থেকেই ব্যবসার হাতেখড়ি বাবার। আর বাবার কাছ থেকে আমার।’অসীম বললেন, খাতুনগঞ্জের আলম এন্ড ব্রাদাস’র কর্ণধার ছিলেন আমার বাবা। ১৯৮০ সালে পাইকারি গুড় (মিঠাই) বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসার যাত্রা শুরু করেন।

২০০৬ সালে বাবার সাথে ব্যবসায় যোগ দেন অসীম। দায়ীত্ব নেন অসীম এন্টারপ্রাইজ- এর। বাবার গুড়ের ব্যবসার পাশাপাশি শুরু করেন সুপাররি আমদানি। ১৯৯৯ সালে বাবার প্রতিষ্ঠা করা অসীম এন্টারপ্রাইজ এখন ব্যবসা করছে বিশ্বের ১৫টি দেশের সাথে। অসীম বলেন, এখন আমার মূল ব্যবসা হচ্ছে মসলা আমদানি। বর্তমানে ভারত, চায়না, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, তুর্কি, ইউএসএ, গুয়েতনামাসহ ১৫টি দেশ থেকে ৩২ প্রকার মসলা আমদানি করে অসীম এন্টারপ্রাইজ। গড়ে তুললেন ‘সেবা’

বংশ-পরম্পরায় ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা অসীমের মনের জমিনকে উর্বরতা দিলেও তাঁর মনের মধ্যে সবসময় ঘুর-পাক খেতো সেবাধর্মী ব্যবসা করার বিষয়টি। মূলত সেই ধ্যানধারণা থেকেই কয়েকজন বন্ধু মিলে অসীম গড়ে তুললেন আন্তর্জাতিক সার্ভিস সলিউশন প্রতিষ্ঠান ‘সেবা’। রাস্তায় ঝাড়– দেয়া থেকে শুরু করে বিমানের টিকেট সংগ্রহ করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে এখন এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। এরই স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালে সিংগাপুর এশিয়ান একাডেমি থেকে আউটস্টান্ডিং গ্রাজ্যুয়েট হিসেবে সনদ অর্জন করে ‘সেবা’। অসীম বলেন, সেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনধারা বদলে দিতে চাই আমরা।

বলতে গেলে- ৩৫ বছর বয়সেই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মহলের দৃষ্টি কেড়েছেন অসীম। দেশের প্রথম প্রতিনিধি হেসেবে ২০১৪ সালে যোগ দিয়েছেন ভারতের ওয়ার্ল্ড স্পাইস কংগ্রেস সম্মেলনে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়াতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল পিপার কমিউনিটিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে যোগ দেয়ার সুযোগ হয় তরুণ এই উদ্যোক্তার।

ইতোমধ্যে প্রায় ২০টিরও বেশি রাষ্ট্রে কনফারেন্স ও বাণিজ্য মেলাতে অংশগ্রহণ করেছেন জানিয়ে অসীম বলেন, স্পাইস (মসলা) ইন্ডাস্ট্রিকে সমৃদ্ধ করতে কাজ করছি আমি। জুনিয়র চেম্বার অব বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এই অসীম কুমার দাশ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ইতোমধ্যে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটিতে।

চলতি বছর সহসভাপতি হিসেবে ওই মানবাধিকার কমিশনে যুক্ত হন তিনি। সামজিক সংগঠনে সম্পৃক্ততার কথা বলতে গিয়ে অসীম বলেন, আপনি একজনকে ১০ টাকা দিলে সে চা খাবে । কিন্তু ১০ হাজার টাকা দিয়ে আপনি যদি কাউকে একটি গরু কিংবা সেলাইয়ের মেশিন কিনে দেন তবে এতে তার দীর্ঘস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। অসীম বলেন, আমি চাই অসহায় মানুষের জন্য দীর্ঘস্থায়ী কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি করতে। এতেই আমি আনন্দ পাই। একেই করতে চাই আমি আমার জীবনের ব্রত।

জালালউদ্দিন সাগর
তথ্যসূত্র: দ্যা ক্লিক ম্যাগাজিন ডটকম।

More News Of This Category