1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :
সফলতার গল্প :

স্বর্ণের আউন্স ১ হাজার ৬৫০ ডলার ছুঁতে পারে

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধির জের ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এক লাফে বেড়ে যায়। তবে পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি একই রকম থাকলেও মূল্যবান ধাতুটির দাম বছর শুরুর সময়ের তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে। এতেও স্বস্তি মিলছে না।

কানাডাভিত্তিক আর্থিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান টিডি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষণী নোটে বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক ইতিবাচক মোড় নিলেও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের আউন্স শিগগিরই ১ হাজার ৫৫০ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা নেই। বছরজুড়েই চাঙ্গা থাকতে পারে বাজার। এমনকি বছরের শেষার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৬৫০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। খবর কিটকো নিউজ।

টিডি সিকিউরিটিজের নোটে বলা হয়েছে, সেফ হ্যাভেন খ্যাত স্বর্ণ সবসময়ই বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। তবে ৩ জানুয়ারি থেকে স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ আরো বেড়েছে। ওইদিন ভোরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অভিমুখে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের অভিজাত কুদস ফোর্সের জেনারেল কাসেম সুলাইমানির গাড়িবহরে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

এতে নিহত হন দীর্ঘদিন ধরে পেন্টাগনের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা ইরানি জেনারেল সুলাইমানিসহ কয়েকজন। ওইদিন থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তে শুরু করে স্বর্ণের দাম। এ হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরাকে মার্কিন সেনা স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। হামলা-পাল্টা হামলায় ক্রমেই অস্থির হয়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি।

এ অস্থিরতা চাঙ্গা করে তোলে স্বর্ণের বাজারকে। দাম বাড়তে বাড়তে গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬১১ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। গত সাত বছরের মধ্যে এটাই মূল্যবান ধাতুটির সর্বোচ্চ দাম। তবে স্বর্ণের এ রেকর্ড দাম বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ না কমলেও স্বর্ণের দাম রেকর্ড অবস্থান থেকে কিছুটা কমে এসেছে।

বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৫০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। সেই হিসেবে মূল্যবান ধাতুটির দাম রেকর্ড অবস্থানের তুলনায় আউন্সে প্রায় ৭১ ডলার কমেছে। টিডি সিকিউরিটিজের বাজার বিশ্লেষকরা জানান, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫১৫ ডলার থেকে ১ হাজার ৫৫০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

তবে মূল্যবান ধাতুটির দামে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনতে হলে বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন প্রয়োজন হবে। তবে বছরের শেষার্ধে গিয়ে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৬৫০ ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। এর পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত, ২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

অনিবার্যভাবে এ নির্বাচনের প্রভাব পড়বে পণ্যবাজারে। নির্বাচনের জের ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে স্বর্ণের দামও রেকর্ড পরিমাণ বাড়তে পারে। এছাড়াও রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিলসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্বর্ণের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। ক্রমবর্ধমান এ চাহিদা বছরজুড়ে অব্যাহত থাকলে শেষার্ধে গিয়ে স্বর্ণের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা সবসময় স্বর্ণের বাজারে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। চলতি বছর ফেডের নীতিতে পরিবর্তন এলে স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে। তথ্যসূত্র: বনিকবার্তা

More News Of This Category