স্বল্প মূলধনে ব্যবসা করার চমৎকার কয়েকটি আইডিয়া!

ব্যবসা করার আগে ” পরিকল্পনা ” বিষয়টি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখা আবশ্যক।কেননা কথায় আছে “পরিকল্পনা করতে যে ভুল করল সে যেন অকৃতকার্য হওয়ার জন্য পরিকল্পনা করল”।আর সেই পরিকল্পনা যখন ব্যবসার জন্য করা হয় তখন তা অবশ্যই হতে হবে টেকসই এবং নিখুঁত।তাই সুষ্ঠ পরিকল্পনাই আপনাকে নিয়ে যাবে কাঙ্খিত নীড়ে।

এখন আসুন একটু মূলধন নিয়ে কথা বলা যাক।ব্যবসার ক্ষেএে মূলধন বলতে আমরা শুধু টাকাকেই বুঝি। কিন্তু ব্যবসার জন্য সবচেয়ে বড় যে মূলধন তা হলো” সততা”।এই সততা কে আঁকড়ে ধরে পথচলা শুরু করলে আপনি আপনার নির্দিষ্ট নীড়ে পৌঁছাতে পারবেন অনায়াসে।
তাহলে এখন আমরা জেনে নেই অল্প পুজিঁর মাধ্যমে কী কী ব্যবসা শুরু করে উদ্যোক্তা হওয়া যায়:

ফাস্ট ফুড ব্যবসা
বর্তমানে সময় ও ব্যস্ততার কারনে এই ব্যবসা এখন সবচেয়ে বেশি লাভজনক ও জনপ্রিয়। এই ব্যবসাটি করতে হলে আপনাকে যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হলো “স্থান নির্বাচন “। স্থান নির্বাচন এর পাশাপাশি ডেকোরেশনের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। ডেকোরেশন যাতে সুসজ্জিত ও মনোমুগ্ধকর হয় সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। কাস্টমারে র চাহিদা অনুযায়ী কিছু খাবার আপনি হোম ডেলেভারী দিতে পারেন। এতে আপনার ব্যবসার পরিধি বাড়বে। স্বল্প পুঁজিতে এই ব্যবসা আরম্ভ করে আপনি ও হতে পারেন একজন সফল উদ্যোক্ত।

ফার্মেসী ব্যবসা
বাংলাদেশে বর্তমানে এটি ব্যাপক জনপ্রিয় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।এই ব্যবসার জন্য ড্রাগ লাইন্সেস নেওয়া খুবই জরুরী। ড্রাগ লাইন্সেস নেওয়া ছাড়া ঔষুধ কেনা বেচা করা অবৈধ। এই ব্যবসার জন্য স্থান নির্বাচন করার ক্ষেএে আপনি বেচে নিতে পারেন কোলাহল পূর্ণ জায়গা বা ব্যস্ত নগরী।যেমন দরুন হাসপাতালের পাশে কিংবা কোনো বড় মার্কেটের পাশে নেওয়া ভালো।

এতে কেনা বেচা ও লাভ দুইটাই ভালো ভাবে করা যায়। এই সকল ব্যবসার ক্ষেএে একটি বিষয় ভালো ভাবে খেয়াল রাখতে হবে তা হলো কাস্টমারদের সাথে ভালো ব্যবহার করা।কেননা এই কাস্টমারাই আপনার ব্যবসার প্রচার ঘটাবে।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট
শাব্দিক অর্থে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বলতে বোঝোয় যে কোনো ঘটনার যাবতীয় ব্যবস্থাকে বোঝায়। উন্নত বিশ্বে এই ধারণা অনেক পুরাতন হলেও বাংলাদেশে এই ধারনা অনেকটা নতুন।তবে সময়ের তাগিদে এই ব্যবসা অনেক জনপ্রিয়। এই ব্যবসা করতে আপনি দুটি পদ্ধতির আশ্রয় নিতে পারেন।আপনি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানের প্রস্তাব নিয়ে গেলেন। তারা আপনার পরিকল্পনা যাচাই করে দায়িত্ব দিলেন। তবে এক্ষেএে আপনাকে একটু সৃজনশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত আপনার পরিচিত বন্ধু অথবা প্রতিষ্ঠানের কার্য প্রতিবেশী বন্ধু তাদের কাছে দিয়ে রাখলেন পরবর্তীতে তারা আপনাকে অনুরোধ করলো কাজটি করে দেয়ার জন্য।একটু সাহসী, বুদ্ধিমান ও আত্মবিশ্বাসী হলে অনায়াসেই এই ব্যবসা করতে পারবেন।বর্তমানে অনেকেই এটাকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেচে নিয়েছে।

মোবাইল দোকান
যতই দিন বাড়ছে ততই যেন মানুষ আধুনিকতার দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং মানুষের চাহিদা ও যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে।তার ভিতরে মোবাইলের চাহিদা মানুষের মনে অনেকাংশেই জায়গা করে নিয়েছে। বর্তমানে এটি খুবই রমরমা ব্যবসা। স্বল্প পুঁজির মাধ্যমে এই ব্যবসা শুরু করা যায়। তবে এক্ষেএে আপনাকে মোবাইল, ইন্টারনেট সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতে হবে।

দোকানের স্থান নির্বাচন এবং যাতায়াত ব্যবস্থা অব্যশ্যই ভালো রাখতে হবে।এই ব্যবসার যে পণ্য গুলা আছে চাইলে ওই গুলা মানুষের কাছে অনলাইনের মাধ্যমে পৌঁছে দিতে পারেন।কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য আপনি বিভিন্ন ধরনের কুপনের ব্যবস্থা করতে পারেন।এছাড়া সফল স্বাবলম্বী হতে হলে সততা, একাগ্রতাতা ও পরিশ্রমী হতে হবে।

ব্যবসায়ী কিংবা উদ্যোক্তা হতে হলে আপনাকে স্বপ্ন দেখতে জানতে হবে এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। যদি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন তবেই আপনি একজন সফল মানুষে পরিণত হতে পারবেন।ব্যবসা করার জন্য মূলধনের পাশাপাশি তিনটি জিনস আপনার থাকা চাই তা হলো সততা,স্বপ্ন ও সাহস।

SHARE