1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :
সফলতার গল্প :

১১ লাখ ৩ হাজার ২৬০ কোটি টাকা দিয়ে কি করবেন বাফেট?

ওরাকল অব ওমাহা খ্যাত বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেটের প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের কাছে বর্তমানে প্রায় ১৩ হাজার কোটি ডলার বা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১১ লাখ ৩ হাজার ২৬০ কোটি টাকার নগদ অর্থ রয়েছে। বাফেটের কাছে যখন পর্যাপ্ত নগদ অর্থ থাকে তখন সাধারণত তিনি বড় ধরনের অধিগ্রহণের দিকে অগ্রসর হন।

গত বছর শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে বাফেট বড় আকারের অধিগ্রহণের আভাসও দিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বর্তমানে শেয়ারের দাম বেশ বাড়তির দিকে আর বাফেট সাধারণত অতিমূল্যায়িত শেয়ারে কখনই বিনিয়োগ করেন না। ফলে কম দামে ভালো শেয়ার না মিললে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের একটি অংশ হয়তো বাফেট তার কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ হিসেবে দিতে পারেন বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

যদিও বাফেট তার জীবনে একবারই লভ্যাংশ দিয়েছিলেন এবং তিনি লভ্যাংশ দেয়ার চেয়ে নিতেই বেশি পছন্দ করেন। বাফেটের অধিগ্রহণ আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি প্রকাশ পায় গত বছর যখন তিনি শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে জানান, তিনি এবং তার কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান চার্লি মাঙ্গার বড় আকারের অধিগ্রহণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং এ ধরনের কিছু ঘটার সম্ভাবনা তার ও চার্লির হূত্স্পন্দনের গতি বাড়িয়ে দেবে।

বাফেট সর্বশেষ বড় কোনো প্রতিষ্ঠানকে অধিগ্রহণ করেছিলেন ২০১৫ সালে। সে বছর তিনি অ্যারোস্পেস যন্ত্রাংশ উত্পাদক প্রিসিশন কাস্টপার্টসকে ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে অধিগ্রহণ করেন। সম্প্রতি বাফেট জুয়েলারি রিটেইলার টিফানিকে অধিগ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। যদিও এক্ষেত্রে তিনি এলভিএমএইচএর সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কুলিয়ে উঠতে পারেননি। বাফেটের চেয়ে বেশি দর হেঁকে টিফানিকে অধিগ্রহণ করতে সক্ষম হয় এলভিএমএইচের প্রতিষ্ঠান বার্নার্ড আর্নল্ট, যিনি বাফেটের চেয়ে সম্পদের দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

বাফেটের সর্বশেষ বড় অধিগ্রহণের বিষয়টিকে মাথায় রেখে অনেকের মনে ধারণা জন্মে যে তিনি হয়তো এয়ারক্রাফট জায়ান্ট বোয়িংয়ের শেয়ার অধিগ্রহণ করতে পারেন। যদিও কেবিডব্লিউর বিশ্লেষক মেয়ার শিল্ডসের মতে, বোয়িংয়ের অধিগ্রহণ ছোট আকারের বিনিয়োগ হিসেবেই গণ্য হবে কারণ বার্কশায়ার এরই মধ্যে ইউনাইটেড, সাউথ ওয়েস্ট, অ্যামেরিকান ও ডেল্টার এয়ারলাইনসের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে। তাছাড়া নেট জেটসের মতো প্রায় সব বেসরকারি কোম্পানির শেয়ার রয়েছে বার্কশায়ারের কাছে।

শিল্ডসের মতে, নতুন চুক্তি করার জন্য বাফেট যতই মুখিয়ে থাকুন না কেন বেশি দাম দিয়ে তিনি কিছুই কিনবেন না। যখন সবকিছুর দাম বাড়তির দিকে থাকে তখন কোনো কিছু না কেনাই হচ্ছে সঠিক সিদ্ধান্ত। যদি পেছনে ফেরার সুযোগ থাকত তাহলে বার্কশায়ার হয়তো তার পোর্টফোলিওতে থাকা কোনো একটি এয়ারলাইনসের সব শেয়ার কিনে নিত।

বাফেট পরিবহন খাতকে পছন্দ করেন এবং বার্কশায়ার এরই মধ্যে বার্লিংটন নর্দান সান্তা এফই রেলরোডে বিনিয়োগ করেছে। সিএফআরএর রিসার্চ অ্যানালিস্ট ক্যাথি শিফার্টের মতে, বার্কশায়ার ও বাফেট যেসব ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে ভালো জানেন সেখানেই বিনিয়োগ করবেন। যদিও ক্রাফট হেইঞ্জ ও প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম থ্রিজিতে বার্কশায়ারের বড় আকারের বিনিয়োগ সফল হয়নি।

অ্যাপলের প্রতি বাফেটের দুর্বলতার কারণে অনেকেই মনে করছেন যে বাফেটের পরবর্তী বড় অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে টেক কোম্পানিই এগিয়ে থাকবে। গত বছর সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ডিস্ট্রিবিউটর কোম্পানি টেক ডাটা অধিগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিল বার্কশায়ার। কিন্তু প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি।

অ্যাপোলো টেক ডাটার প্রতিটি শেয়ার ১৪৫ ডলারে কিনেছে, যদিও প্রথমে তারা শেয়ারপ্রতি ১৩০ ডলার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু বাজারে গুঞ্জন রয়েছে যে বার্কশায়ার শেয়ারপ্রতি ১৪০ ডলারে শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিলে বাধ্য হয়ে অ্যাপোলোকে বেশি দর হাঁকতে হয়েছে।

বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ারহোল্ডার ট্যাঙ্গলার ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ন্যান্সি ট্যাঙ্গলারের মতে, সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানিগুলো বার্কশায়ারের বিশাল ইন্স্যুরেন্স ব্যবসার জন্য মানানসই হতে পারে এবং এক্ষেত্রে ক্রাউডস্ট্রাইক কিংবা সাইবার আর্ক সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে। তবে বর্তমানে টেক কোম্পানিগুলো বাফেটের পছন্দের শীর্ষে নাও থাকতে পারে, এমন সম্ভাবনাকে তিনি উড়িয়ে দেননি।

বার্কশায়ারের তরুণ বিনিয়োগ কর্মকর্তা টেড ওয়েসলার ও টড কম্বসের প্রভাব বাড়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে ট্যাঙ্গলার বলছেন, কম্বস সম্প্রতি বার্কশায়ারের অটো ইন্স্যুরার জেইকোর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। ফলে তিনি বাফেটের হয়ে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সামনের সারিতে রয়েছেন। কম্বসের দায়িত্ব বাড়ার বিষয়টির অন্তর্নিহিত তাত্পর্য হচ্ছে যে একসময় কোম্পানির জন্য যা নিষিদ্ধ ছিল সেসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগে বর্তমানে বার্কশায়ার আগ্রহী।

বার্কশায়ার ও বাফেটের পরবর্তী বড় অধিগ্রহণ কী হতে পারে এ নিয়ে বিশ্লেষকদের জল্পনাকল্পনার শেষ নেই। গত বছর অভিজাত খুচরা ফার্নিচার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আরএইচের শেয়ার প্রথমবারের মতো কেনে বার্কশায়ার। এতে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদরে বড় ধরনের উল্লম্ফন হয়। তাছাড়া নেব্রাস্কা ফার্নিচার মার্ট, আরসি উইলি হোম ফার্নিশিং, জর্ডার্নস ফার্নিচার এবং স্টার ফার্নিচার রিটেইল চেইনের বার্কশায়ারের বিনিয়োগ থাকার কারণে অনেকেই মনে করছে যে বাফেট আসবাবপত্রের ব্যবসা পছন্দ করেন।

আবার কেউ কেউ মনে করছেন যে বাফেট হয়তো ফেডেক্স কিংবা ডিসকাউন্টে পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান ডলার জেনারেলের শেয়ার কিনতে আগ্রহী হবেন। সম্প্রতি বার্কশায়ার ফেডারেল রিজার্ভের কাছে ব্যাংক অব আমেরিকার ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার কেনার জন্য অনুমোদন চেয়েছে। অনুমোদন পেলে ব্যাংক অব আমেরিকায় বার্কশায়ারের বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়বে।

গত বছর বার্কশায়ার ও বাফেটের জন্য খুব একটা ভালো যায়নি। এ সময় বার্কশায়ারের শেয়ারের রিটার্ন ও এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচকের রিটার্ন ২০০৯ সালের তুলনায় ছিল সর্বনিম্ন। ফলে হাতে থাকা বড় অংকের নগদ অর্থ কাজে লাগানোর পাশাপাশি বার্কশায়ারের শেয়ারদর চাঙ্গা করতে বড় ধরনের অধিগ্রহণই সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মানছেন বিশ্লেষকেরা।

অবশ্য বিশ্লেষকরা সব ধরনের বিকল্পকেই বিবেচনায় রাখতে চাইছেন। যেমন উপযুক্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজে না পেলে বার্কশায়ারের নগদ অর্থের ভান্ডার হয়তো আরো বাড়তেই থাকবে কিংবা অন্য কোথাও হয়তো বিনিয়োগ করা হতে পারে। এই যেমন সম্প্রতি বার্কশায়ার তেল কোম্পানি অক্সিডেন্টালের প্রেফারেন্স শেয়ারে ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।

গত বছর শেয়ারবাজারে বার্কশায়ারের শেয়ারদর ছিল নিম্নমুখী। এ কারণে কেউ কেউ মনে করছেন যে শেয়ারদর চাঙ্গা করার জন্য বাফেট হয়তো সঞ্চিত অর্থের কিছু অংশ তার কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয়ার জন্য ব্যয় করতে পারেন। যদিও এ পর্যন্ত মাত্র একবার ১৯৬৭ সালে বাফেটের প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার তার শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়েছিল।

বাফেট নিজে লভ্যাংশ দিতে আগ্রহী না হলেও অ্যাপল, কোকাকোলা কিংবা ব্যাংক অব আমেরিকার মতো কোম্পানি, যেগুলো ভালো লভ্যাংশ দেয় সেগুলোতে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন। সিএনএন বিজনেস ও মার্কেট রিয়েলিস্ট ডটকম অবলম্বনে

More News Of This Category