1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

২২ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দের আবদার

আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। মেগা প্রকল্প আরো দৃশ্যমান করতে চূড়ান্ত সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) সরকারি খাতে ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দের আবদার করা হয়েছে। তবে ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ কমছে বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পে।

মূল আরএডিপিতে মোট বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকারি খাতে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৫১ হাজার কোটি টাকা। ১ হাজার ৪৫২টি উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে এসব বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে চূড়ান্ত হবে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি)। শেরে বাংলা নগরের এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরএডিপি চূড়ান্ত করবেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের বিপরীতে চাহিদা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে বরাদ্দ চাহিদার স্তূপ জমা হয়েছে।

এসব চাহিদার সমন্বয় করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে পরিকল্পনা কমিশন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ছয় মাস আগে এডিপিতে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। এখন এই খাতে ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় এই বাড়তি বরাদ্দের আবদার করা হয়েছে। এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা ৬০ হাজার কোটি টাকা। তবে চূড়ান্ত আরএডিপিতে এই খাতে ৯ হাজার কোটি টাকা কম চাওয়া হয়েছে। ফলে সরকারি বরাদ্দ বাড়লেও কমছে বৈদেশিক খাতে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে বেশি বেশি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তবে বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পে কম বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দ চাওয়ার বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যেন— কামানের গুলি চাইলে বন্দুকের গুলি কপালে জোটে! অহেতুক এমন বরাদ্দ পাওয়া যাবে না জেনেও চোখ বুঝে এমন বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তবে অহেতুক বরাদ্দ চাইলেই লাভ হবে না। প্রধানমন্ত্রী জেনে বুঝে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেবেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১০ মে শেরে বাংলা নগর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়। ছয় মাস পরে এডিপি সংশোধন করা হবে। সরকারি-বৈদেশিক খাত মিলে বরাদ্দ বাড়ছে ১৩ হাজার কোটি।

আরএডিপিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ এবং রেল সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়েছে। আরএডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। এছাড়া অগ্রাধিকার বিবেচনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ বিদ্যুৎ এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ভৌত পরিকল্পনা-পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে।

আগামী অর্থবছরের জন্য ১৭টি খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১০টি খাতে। এরমধ্যে অন্যতম পরিবহন খাতে ৪৫ হাজার ৪৪৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। এই খাতেও আরএডিপিতে আরো ৫ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ খাতে ২২ হাজার ৯৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা মোট এডিপির ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। এই খাতেও আরএডিপিতে ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ছে।

তৃতীয় সর্বোচ্চ ভৌত-পরিকল্পনা-পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে ১৭ হাজার ৮৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা এডিপির ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এখাতেও ২ হাজার ২৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধির আবদার করা হয়েছে।

এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনয়ন এবং অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চতুর্থ সবোচ্চ পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৬ হাজার ৬৯০ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই খাতেও ৪ হাজার ৭০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের আবদার করা হয়েছে।

শিক্ষার প্রসার ও গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৬ হাজার ৬২০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। এই খাতেও ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দের আবদার করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ তথ্য প্রযুক্তির প্রসারে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ১৪ হাজার ২১০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় ,যা ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এই খাতেও আরো ১১শ’ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।

নদী ভাঙন রোধ ও নদী ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পানিসম্পদ সেক্টরে ৪ হাজার ৫৯২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই খাতেও ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দের আবদার করা হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ৩৪ প্রকল্পের আওতায় মূল এডিপিতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয় ১১ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা। এখন সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ চাওয়া হচ্ছে ৭ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। ফলে রেলে বরাদ্দ কমছে ৩ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। অথচ মূল প্রকল্প থেকে প্রকল্প সংখ্যা বাড়ছে ১২টা। প্রকল্প বাড়লেও কমছে বরাদ্দ।

মূলত রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মেগা প্রকল্প বিশেষ করে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমদুন পর্যন্ত ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প। ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন গতি কম।

৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের আওতায় রাজধানী ঢাকা থেকে পদ্মা বহুমুখী সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত নতুন ব্রডগেজ রেলওয়ে ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে, যার দৈর্ঘ্য হবে ১৬৯ কিলোমিটার। লুপ সাইডিং (লাইন বদলের জন্য) এবং ডাবল লাইনসহ মোট ট্র্যাক হবে ২১৫ দশমিক ২২ কিলোমিটার। এ প্রকল্পেরও অগ্রগতি কম।

মূলত প্রকল্প বাস্তবায়ন গতির ওপর ভর করে বরাদ্দ কম এবং বরাদ্দ বেশির আবদার করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এই প্রসঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মন্ত্রণালয়-বিভাগগুলো প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ কম-বেশি চাইতেই পারে। প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ চাওয়া হচ্ছে অন্যদিকে আমাদের কাজ আমরা করছি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন গতি ভালো হলে বরাদ্দ বেশি চাওয়া কোনো সমস্যা দেখি না, তাদের মোস্ট ওয়েলকাম। তবে প্রকল্পের গতি যদি কম হয় আর বরাদ্দ বেশি চাওয়া হয় তখনই আমরা যাচাই-বাছাই করবো। সব কথার এক কথা চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে আরএডিপি চূড়ান্ত হবে এনইসি সভায়। সেই সভায় প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি দেখেই তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত দেবেন বরাবরের মতো। তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ।

More News Of This Category