1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

৪ লক্ষ টাকায় সার্জিক্যাল মাস্ক তৈরীর ব্যবসায় সর্বনিন্ম লাভ করুন মাসে ৫ লক্ষ!

কথায় আছে সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়। বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ এর মহাদূর্যোগে ব্যবসা বানিজ্যের পালা বদল শুরু হয়েছে। ইতেমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসার ধরণ পরিবর্তন করছে। অনেকে আবার ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি বনে গিয়েছেন। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতের সাথে জড়িত ব্যবসায় এক অভাবনীয় সাফল্য ধরা দিয়েছে।

করোনা মহামারীর এই দূর্যোগ চলাকালীন সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। তার মধ্যে অতীব গুরুত্বপূর্ণ হলো হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে হাত পরিস্কার রাখা। সেই সাথে যেন শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে যেন সংক্রমন ছড়াতে না পারে সেজন্য মাস্ক ব্যবহার করার নির্দেশনা। আর এর মাধ্যমেই তৈরী হয়েছে নতুন সুযোগ।

বিশ্বব্যাপী গন সচেতনার অংশ হিসেবে মানুষ অধিক পরিমানে ফেস মাস্ক ব্যবহার করা শুরু করেছে। তৈরী হয়েছে বিপুল পরিমান চাহিদা। আর যেহেতু এটা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় সেক্ষেত্রে এই সচেতনতা সাময়িক নয়। বরং দীর্ঘ মেয়াদে স্থায়ী ব্যাবসার সুযোগ করে দিয়েছে। যাই হোক কথা না বড়িয়ে চলুন জেনে নিই কিভাবে ফেস মাস্ক উৎপাদন ব্যবসায় শুরু করবেন সে সম্পর্কে।

ফেস মাস্ক বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তার মধ্যে সার্জিক্যাল ফেস মাস্ক সবেচেয়ে বেশী ব্যবহার হয়ে থাকে। সার্জিক্যাল ফেসমাস্ক শুধুমাত্র এক বারই আট ঘন্টার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে এর চাহিদা বারবার তৈরী হয়। এ ধরনের ফেস মাস্ক তৈরী হয় সাধারণত অটোমেটিক মেশিনে। প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি ঘন্টা হিসেবে হয়ে থাকে। মেশিন সম্পূর্ণ অটোমেটিক হওয়ার কারনে মেশিন প্রতি ১/২ জন লোক হলেই যথেষ্ট।

এ ধরনের মেশিনগুলো সাধারণত ২৪ ঘন্টা উৎপাদনে সক্ষম। আর মেশিনে পন্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল দেশেই খুব সহজে পাওয়া যায়। সাধারণত বড় ধরনের ফ্যাক্টরী না হলে আপনাকে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানী করতে হবে না। আমদানীকারকের কাছ থেকে পাইকারী কাঁচামাল কিনে আপনি উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারবেন।

সার্জিক্যাল ফেসমাস্ক উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল হিসেবে বিশেষ ধরনের টিস্যু কাপড় ও রাবার ব্যান্ড প্রয়োজন হয়। এ কাঁচামালের মানের উপর নির্ভর করে দামের তারতম্য হয়ে থাকে। তবে পাইকারী বিক্রেতার থেকে কাঁচামাল যে দামে কিনতে পারবেন তার থেকে কিছুটা সুলভ মূল্যে কিনতে পারবেন যদি সরাসারি আমদানীকারকের নিকট থেকে ক্রয় করেন।

যে কোন বৈধ ব্যবসায় করতে আপনাকে লাইসেন্স করতে হবে। আর এজন্য সিটি কর্পোরেশন অথবা ইউনিয়ন পরিষদ অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে ট্রেড লাইসেন্স। ব্যবসার লেনদেনগুলো করতে আপনাকে ব্যবসায়িক ব্যাংক এ্যাকাউন্ট করতে হবে। সব সময় চেষ্টা করতে হবে লেনদেনগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে। এতে করে পরবর্তীতে ব্যাংক লোন পাওয়া সহজ হয়ে যাবে।

টিআইএন এবং ভ্যাট সংক্রান্ত কাগজপত্রগুলো সংগ্রহ করে নিন। এগুলো আপনার আয়ের সচ্ছতা প্রমানের কাজগুলো সহজ করে দিবে। ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিজস্ব জমি না থাকলে ঘর ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চুক্তিপত্র অবশ্যই যথাযথভাবে সম্পন্ন করুন। চুক্তি পত্রের বিষয়গুলো দ্বিপাক্ষিক ভাবে আলোচনা করে ঠিক কের নিন। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করুন উৎপাদন চালু রাখতে।

সার্জিক্যাল ফেসমাস্ক মেশিন ক্রয়ের সময় অবশ্যই খুব ভাল ভাবে জেনে নিন বিক্রয় পরবর্তী সেবাগুলো কি কি পাবেন সম্পর্কে। মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমাতে সর্বদা ছোট খাট ত্রুটি ধরা পরার সাথে সাথেই সমাধান করে নিতে ভুল করবেন না। সার্জিক্যাল ফেস মাস্ক উৎপাদনের মেশিনগুলো সর্বনিন্ম ৩ লাখ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় কোটি টাকা পর্যন্ত দাম হয়ে থাকে। অভিজ্ঞতা থাকলে শুরুর দিকে অবশ্য কম মূল্যের মেশিন ক্রয় ও অল্প বিনিয়োগ করাটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

যে কোন ব্যবসায়ের সফলতা নির্ভর করে দক্ষ মার্কেটিংয়ের উপর। দক্ষ মার্কেটিংয়ের কারনে প্রতিষ্ঠানের সেলস বাড়ে। সেলস বাড়লে লাভের পরিমানও বাড়ে। সাধারণত এ ধরনের ব্যবসায় লাভের পরিমান নির্ভর করে উৎপাদন ও বিপননের উপর। অর্থাৎ আপনার উৎপাদন যত বেশী তার উপর মোট লাভের পরিমান তত বেশী। স্থায়ী খরচ বাদে একটা নির্দিষ্ট পরিমান উৎপাদনের পর লাভের পরিমান বেড়ে যায়।

বর্তমান চাহিদার এ বাজারে প্রতি পিচে যদি আপনার এক থেকে দেড় টাকা পরিমান লাভ হয় আর উৎপাদন যদি প্রতি ঘন্টায় সর্বনিন্ম ১০০০ পিচ হয় তাহলে ২৪ ঘন্টায় আপনার উৎপাদন হবে ২৪ হাজার পিচ। অর্থাৎ তাহলে লাভের পরিমান গিয়ে দাড়াবে দিন শেষে ২৪ হাজার থেকে থেকে ৩৬ হাজার টাকা। যা মাসিক হিসেবে দাড়ায় ৭ থেকে ১০ লক্ষ টাকার অংকে।

শ্রমিক, বিদ্যুৎ ঘরভাড়া সহ যাবতীয় খরচ বাদে আপনি সর্বনিন্ম হলেও মাসে ৫ লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন এ ব্যবসা থেকে। প্রথমদিকে পরিচালন দক্ষতার অভাবে আয় কম বেশী হতে পারে। যে কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা পাওয়ার একটা গোপন সূত্র হচ্ছে লেগে থাকা। বেশীরভাগ মানুষ লেগে থাকার ধৈর্য্য হারা হয়। ফলে লোকসানের খাতে পড়ে যায়। আপনার কষ্টের অর্থ বুঝে শুনে বিনিয়োগ করুন। সফলতা পাওয়া সময়ের ব্যাপার। শুভকামনা।

More News Of This Category