1. uddoktarkhoje@gmail.com : uddoktarkhoje :

৫ বছর মেয়াদী প্রবাসী বন্ডে সবচেয়ে বেশী মুনাফা

ব্যাংকে টাকা রাখলে বিশ্বের অনেক দেশে এখন গ্রাহককে বাড়তি মাশুল দিতে হয়। সুদ বা মুনাফা তো পরের কথা, টাকা জমা রাখার খরচ হিসেবে দিতে হয় এ মাশুল। সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি ব্যাংকও এমন ঘোষণা দিয়েছে। তাই ব্যাংকে টাকা রেখে বাংলাদেশের মতো এত মুনাফা উন্নত দেশগুলোতে পাওয়া সহজ নয়। যদিও দেশের চেয়ে বিদেশে বসেই বেশি মুনাফা পাওয়ার সুযোগ করে রেখেছে বাংলাদেশ সরকার।

বিদেশে অবস্থান করেন, এমন যেকোনো বাংলাদেশি চাইলেই প্রবাসী বন্ডে বিনিয়োগ করে ১২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা নিতে পারেন। এর সবই বাংলাদেশ সঞ্চয় অধিদপ্তরের চালু করা বন্ড, যেখানে দেশের ভালো ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদহার ১০ শতাংশের মধ্যে। তাই বিদেশে অবস্থান করা বাংলাদেশিরা চাইলেই এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।

এমন তিন বন্ডে এখন পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগও করেছেন প্রবাসীরা। এতে বড় হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত। প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৮ সালে চালু করে পাঁচ বছর মেয়াদি ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড। ২০০২ সালে চালু হয় তিন বছর মেয়াদি ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড।

কোথায় মিলবে: এসব বন্ড পাওয়া যায় বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস, দেশি ব্যাংকের বিদেশি কোনো শাখা ও বাংলাদেশের ব্যাংক শাখায়। আবার এসব বন্ডের বিপরীতে দেশি ব্যাংক থেকে ঋণও পাওয়া যায়। বিনিয়োগকৃত অর্থ চাইলে আবার বিদেশেও ফেরত নেওয়া যায়। এসব বন্ডের বিনিয়োগ করে (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ) সিআইপি–সুবিধা পাওয়া যায়। আবার এই আয়ে করমুক্ত–সুবিধাও মেলে।

কারা কিনতে পারবেন: নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থান করা যেকোনো নাগরিক এসব বন্ড কিনতে পারবেন। আবার সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কিন্তু বিদেশে লিয়েনে আছেন, এমন নাগরিকেরাও এসব বন্ড কিনতে পারবেন। কিনতে পারবেন বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনে কর্মরতরাও।

পাঁচ বছর মেয়াদি: সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড পাঁচ বছর মেয়াদি। এ বন্ডে ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। মেয়াদ শেষে মুনাফা পাওয়া যায় ১২ শতাংশ। প্রতি ছয় মাস অন্তর মুনাফা তোলার সুযোগ রয়েছে।

কেউ যদি ছয় মাসে মুনাফা না তোলেন, তবে মেয়াদপূর্তিতে মূল অঙ্কের সঙ্গে ষাণ্মাসিক ভিত্তিতে ১২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা প্রদান করা হয়। আট কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করলে সিআইপি–সুবিধা পাওয়া যাবে। মুনাফার হার বেশি হওয়ায় প্রবাসে অবস্থান করা বেশির ভাগই এ বন্ড ক্রয় করছেন।

তিন বছর মেয়াদি: ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড চালু তিন বছর মেয়াদি। এ বন্ডে ৫০০ ডলার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। মেয়াদ শেষে মুনাফা সাড়ে ৭ শতাংশ। প্রতি ছয় মাস অন্তর সরল সুদে মুনাফা তোলা যায়। তবে মেয়াদপূর্তির আগে বন্ড ভাঙতে চাইলে ১ থেকে দেড় শতাংশ সুদ কমে যায়। আর ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডও তিন বছর মেয়াদি। এতে সাড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়। ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক ৬টি দেশে এক্সচেঞ্জ হাউস পরিচালনা করে।

মালয়েশিয়ার এনবিএল মানি ট্রান্সফারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আকতার উদ্দীন আহমেদ বলেন, প্রবাসীরা ওয়েজ আর্নার বন্ডের ব্যাপারে সব সময়ই আগ্রহ প্রকাশ করেন। আমাদের এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো থেকে প্রতি মাসেই ওয়েজ আর্নার বন্ড ইস্যু করা হয়। তবে সবচেয়ে বেশি বন্ড ইস্যু হয় আমাদের মালয়েশিয়া, ওমান ও কাতার অফিস থেকে। তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

More News Of This Category