1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

৫ লক্ষ টাকার সিএনসি রাউটার মেশিনে আয় করুন দেড় লক্ষ টাকা!

গ্রামীণ বাংলায় কাঠের কারুকার্য বা নকশার ব্যাপারটা সেই প্রাচীন কাল থেকে সমাদৃত। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এই নকশা এখন শহর বন্দরে আধুনিক আসবাবপত্রেও ঠাই করে নিয়েছে। শুধু তাই নয় এ শিল্পে এসেছে আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। বেড়েছে দক্ষ জনবল। বিনিয়োগ হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। সৃষ্টি হয়েছে নতুন নতুন কর্মসংস্থান।

কাঠের নকশা শিল্পে ব্যবহৃত একটি আধুনিক মেশিন নিয়ে আজ আপনাদের সাথে কথা বলব যা স্থাপন করে আপনি মাসে আয় করতে পারবেন লক্ষাধিক টাকা। মেশিনটির নাম সিএনসি রাউটার মেশিন। এটি দ্বারা কাঠের তৈরী দরজা বা যেকোন আসবাবপত্রের ডিজাইন করতে পারবেন। অত্যাধুনিক এই মেশিনে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের মাধ্যেমে ডিজাইনগুলো ইনপুট দেওয়া হয়।

সিএনসি রাউটার মেশিন স্থাপন করে ব্যবসা করতে চাইলে প্রথমত এ ধরনের ব্যবসার বৈধ লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। অর্থাৎ ব্যবসা শুরুর জন্য ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণত যেসব এলাকায় আসবাবপত্রের দোকান ও স’মিল বেশী তেমন একটি স্থান আপনাকে নির্বাচন করতে হবে। মাঝারি আকারের একটি ঘরের মধ্যে মেশিনটি স্থাপন করতে পারবেন।

মেশিনটি পরিচালনায় সাধারণত দুই জন শ্রমিকের প্রয়োজন পড়বে। আর যেহেতু সফটওয়্যার বেইজড আধুনিক মেশিন সেহেতু মেশিনটি পরিচালনার জন্য থাকতে হবে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা। মেশিনের ব্র্যান্ড ও কোয়ালিটি অুনযায়ী দাম ও স্থায়ীত্ব কম বেশী হতে পারে। তবে মোটামুটি কোয়ালিটির একটি মেশিন কনিতে আপনাকে খরচ করতে হবে সর্বনিন্ম ৫ লক্ষ টাকা।

আর যদি শুধু কাঠ নয় আপনি প্লাষ্টিক শীট, তামা কিংবা লোহার শীটের উপর ডিজাইন কিংবা কাটিং করতে চান সেক্ষেত্রে এ ধরনের একটি সিএনসি রাউটার লেজার মেশিন কিনতে আপনাকে খরচ করতে হবে ১২ লক্ষ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত। এ ব্যবসায় স্থাপন করে সফলতা পেতে চাইলে আপনার ব্যবসায়িক ভাবে দক্ষ হতে হবে।

টার্গেট কাষ্টমারের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হবে। বিশেষ করে আপনি এলাকাভিত্তিক যেসব ছোট ছোট আসবাবপত্র তৈরীর ব্যবসায়ী আছে তারাই আপনার কাষ্টমার। সেই সাথে যারা ইন্টেরিয়র ডিজাইনিংয়ের কাজ করে তারাও আপনার কাষ্টমার। বর্তমানে বোর্ড কাটিং করে যেসব সুন্দর সুন্দর ডিজাইনগুলো করা হয় সেগুলোও এ মেশিনের দ্বারা করা হয়।

একটি ৮ ফুট লম্বা ৪ ফুট প্রস্থ কাঠ কিংবা প্লাই বোর্ড ডিজাইন অথবা কাটিং করে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। মেশিনের সক্ষমতা অনুযায়ী একটি মেশিনে ঘন্টায় ১ বোর্ড কাটিং করতে পারে। দরজা ডিজাইনের ক্ষেত্রে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত বিল নেওয়া হয়। একাটি মেশিন থেকে দিনে ৮০০০ থেকে ১০০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

এ ব্যাবসায় দুইজন অপারেটর ও একজন ডিজাইনারের বেতন সহ ঘরভাড়া, বিদ্যুৎবিল, মার্কেটিং খরচ বাদ দিয়েও মাসে দেড় লক্ষ টাকা আয় করা কঠিন কিছু নয়। একটু বুদ্ধিমত্তার সাথে এ ব্যবসায় পরিচালনা করতে পারলে সফলতা পাওয়াটা সহজ হয়। প্রথমদিকে আয় কম থাকলেও পরিচিতি বাড়ার সাথে সাথে ব্যবসার পরিধিও বাড়তে থাকে। শুভকামনা সকলের জন্য।

More News Of This Category