1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

৬ শতাংশ সুদে অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালায় বিপাকে দেশী ব্যাংক

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক বাড়লেও অফশোর ব্যাংকিংয়ের ঋণের সুদহার ৬ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে তহবিল ব্যয়ের খুব সামান্য বেশি হারে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। এ অবস্থায় সাধারণ ব্যাংকিংয়ের মতো অফশোর ব্যাংকিংয়েও মূলধন, সিআরআর, এসএলআর ও এডিআর নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়ায় চাপের মুখে পড়ছে দেশীয় ব্যাংকগুলো।

সংশ্নিষ্টরা জানান, বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মূল কার্যক্রম দেশের বাইরে থাকায় খুব সহজে ও কম সুদে তহবিল জোগাড় করতে পারে। তবে দেশীয় ব্যাংকগুলোর এ ক্ষেত্রে অনেক বেগ পেতে হয়। এর পরও বৈদেশিক মুদ্রা ঋণের গ্রাহক ধরে রাখতে কম লাভ কিংবা কখনও লাভ ছাড়াই এ ঋণ দিচ্ছে তারা।

এর ওপর অফশোর ব্যাংকিংয়ের নতুন নীতিমালায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে স্থানীয় ব্যাংক। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ইউনিট থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশি ছয় ব্যাংকের ঋণ ২৩ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা।

ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, খুব সামান্য মুনাফায় তারা অফশোর ব্যাংকিং থেকে ঋণ বিতরণ করেন। এখন সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সিআরআর ও এসএলআর রাখতে (আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশের বিধিবদ্ধ জমা) গিয়ে ব্যাংকগুলো চাপে পড়বে। অফশোর ব্যাংকিংয়ের নতুন নীতিমালা নিয়ে শিগগিরই তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১২ সালের এক নির্দেশনার আলোকে সব ধরনের সার্ভিস চার্জসহ অফশোর ব্যাংকিং ঋণে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ নিতে পারে ব্যাংক। অথচ গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ববাজারে সুদহার বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী বহুল প্রচলিত লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার রেট বা লাইবর ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। লাইবর রেট ব্যাপক বৃদ্ধির ফলে সুদহারের সীমা বাড়ানো কিংবা ঊর্ধ্ব সীমা তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে ব্যাংকগুলো।

অফশোর ব্যাংকিং হলো- দেশের বাইরে থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় তহবিল সংগ্রহ করে রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠানের মাঝে ঋণ বিতরণ। এ জন্য অনেক ব্যাংকের আলাদা ইউনিট রয়েছে। ১৯৮৫ সালে অফশোর ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হলেও নীতিমালা জারি হয়েছে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাধারণ ব্যাংকিংয়ের মতো অফশোর ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রমেও দায়-সম্পদ ব্যবস্থাপনা (এএলএম) নীতিমালা মেনে চলতে হবে। তার মানে প্রচলিত ধারার একটি ব্যাংক একশ’ টাকা আমানতের বিপরীতে সাড়ে ৮৩ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকগুলো ৮৯ টাকা ঋণ দিতে পারবে। আর মূলধন, সিআরআর ও এসএলআর হিসাবায়নের সময় অফশোর ব্যাংকিং বিবেচনায় নিতে হবে।

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী বলেন, ব্যাংকগুলো খুব সামান্য লাভে অফশোর ব্যাংকিংয়ের ঋণ বিতরণ করে। নতুন নীতিমালার ফলে ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমে লাভ আরও কমবে। ফলে এখন সুদহারের সীমা তুলে দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, একটি ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য সিআরআর ও এসএলআর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে সুদহারের সীমা তুলে দিলে ব্যাংকগুলোর জন্য সহায়ক হবে।

More News Of This Category