1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

৭১৮ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে শাওমি

চীনভিত্তিক স্মার্টফোন নির্মাতা শাওমি পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ফাইভজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ও ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটি) মতো প্রযুক্তিতে আগামী পাঁচ বছরে ৫ হাজার কোটি চাইনিজ ইউয়ান (৭১৮ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করবে। এসব প্রযুক্তি খাতে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বড় অংকের এ বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।

শাওমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লেই জুন প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা চিঠিতে জানান, তারা আগামী পাঁচ বছরে ফাইভজি, এআই ও আইওটির মতো ক্রমবর্ধমান নতুন প্রযুক্তিতে উল্লিখিত অর্থ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিনিয়োগ বিষয়ে কর্মপন্থা নির্ধারণে কাজ করছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।

বৈশ্বিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এ বিনিয়োগ শাওমির উপস্থিতি দৃঢ় করবে। নতুন বিনিয়োগ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, আমরা শাওমির অগ্রগতি ধরে রাখা এবং নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনতে কাজ করছি। এরই অংশ হিসেবে নতুন প্রযুক্তিতে উপস্থিতি বাড়ানোয় জোর দিচ্ছি।

এর মাধ্যমে আমাদের স্মার্টফোনসহ অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারকারীকে একটি ইকোসিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। এর ফলে শাওমির ডিভাইস ব্যবহারকারীরা আরো উন্নত প্রযুক্তিগত সেবা পাবেন। ২০১০ সালে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে প্রবেশ করে শাওমি। এরপর আর প্রতিষ্ঠানটিকে ফিরে তাকাতে হয়নি।

বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে কার্যক্রম শুরুর পর পরই বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উদীয়মান স্টার্টআপের তকমা দখলে নিতে সক্ষম হয় প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া কয়েক বছরের মাথায় বিশ্বের সবচেয়ে দামি স্টার্টআপের তকমাটিও দখলে নিতে সক্ষম হয়। শাওমির উত্থানে বিনিয়োগকারীরাও খুশি ছিলেন। যে কারণে শুরু থেকে তারা অর্থের জোগান দিয়ে আসছেন।

বৈশ্বিক স্মার্টফোন ডিভাইস বাজারে প্রবেশের পাঁচ বছর পর কিছুটা খারাপ সময় পার করেছে শাওমি। তবে সে জটিলতা বেশিদিন স্থায়ী ছিল না। তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে উন্নত ফিচার ও ক্যামেরা-সংবলিত স্মার্টফোন দিয়ে নিয়মিত বাজার আধিপত্য বৃদ্ধি করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীদের হতাশ হতে হয়নি।

শাওমির উত্থানের অংশীদার হতে ফাইভজি, এআই ও আইওটির মতো নতুন প্রযুক্তি খাতে ব্যবসা জোরদারে বিনিয়োগ বাড়াতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।বিশ্বের বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার ভারতে স্যামসাংকে হটিয়ে শীর্ষ অবস্থান দখলে নিয়েছে শাওমি। ক্রমবর্ধমান বাজারটিতে আধিপত্য ধরে রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য বিস্তৃত পরিসরে ক্রেডিট সার্ভিস চালু করেছে শাওমি। মি ক্রেডিট নামের এ সেবার আওতায় শাওমির স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ভারতীয় গ্রাহকদের ৫ মিনিটের মধ্যে ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে ভারতীয় গ্রাহকরা শাওমির মি পে সেবা উপভোগ করতে পারতেন। শাওমির নিজস্ব এ অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে অর্থ স্থানান্তরের সুবিধা ছিল।

মি ক্রেডিট মি পের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সেবা দেবে। এ সেবা ব্যবহার করে সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১ লাখ রুপি (ভারতীয় মুদ্রা) ঋণ পাবেন। ভারতের শীর্ষ কয়েকটি ব্যাংক এ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ২০১৮ সালে ফাইভজি, এআই ও আইওটি খাতে আগামী পাঁচ বছরে ১ হাজার কোটি ইউয়ান বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল শাওমি। এবার তা বাড়িয়ে ৫ হাজার কোটি ইউয়ানে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়া হলো।

চীনে স্মার্টফোন বাজারে শাওমির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হুয়াওয়ে। চীনের বাজারে হুয়াওয়ের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে চাপে রয়েছে শাওমির মতো অন্য স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো। চীনের স্মার্টফোন বাজারের ৪২ শতাংশ এককভাবে দখলে রেখেছে হুয়াওয়ে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে ফাইভজি অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রযুক্তি উন্নয়নেও নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৈশ্বিক তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে টিকে থাকতে এ বিপুল অংকের অর্থ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত শাওমির। গত অক্টোবরে শাওমির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জানিয়েছিলেন, চলতি বছর তারা ১০টি ফাইভজি ফোন উন্মোচন করবেন। অর্থাৎ শুধু ফাইভজি প্রযুক্তিতেই নয়, এ প্রযুক্তির সুবিধা দিতে গ্রাহকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তথ্যসূত্র: বনিকবার্তা

More News Of This Category