1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

অফিসের চাপে অসুস্থ্যতা দেখিয়ে ছুটিতে ৮৬ লাখ কর্মী

রাতে ঘুমানোর আগে অ্যালার্মটা শেষবারের মতো পরীক্ষা করে নেন চাকরিজীবীরা। কেননা অফিসে সময়মতো পৌঁছাতে হবে। পরের দিন অফিস কেমন যাবে সে দুশ্চিন্তা নিয়েই কোনোমতে কেটে যায় রাত। সকাল হতেই শুরু হয় ব্যস্ততা। অফিস আর বাসা- এই করতে করতেই কেটে যায় জীবন!

গবেষণা বলছে, গত বছর অফিসের চাপের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ৮৬ লাখ কর্মী অসুস্থতা দেখিয়ে ছুটি নিয়েছেন। কর্মস্থলের সংস্কৃতি, কাজের ধরন, সহকর্মীর আচরণ, অতিরিক্ত কাজের চাপ কর্মস্থলের ইত্যাদি নেতিবাচক বিষয় এর জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করেছেন তারা।

পালিত হলো ‘ন্যাশনাল সিকি ডে’। বছরের অন্য দিনগুলোর তুলনায় এদিনটিতেই কর্মীরা অসুস্থতা জনিত ছুটি বেশি নেন। গত বছর আনুমানিক ২ লাখ ১৫ হাজার কর্মী ছুটি নিয়েছিলেন। শারীরিক বা মানসিক দিক দিয়ে চাকরিজীবীরা এই সময়টা বেশ ধকলের মধ্যেই কাটান। তবে ১ কোটি ১২ লাখ কর্মী সত্যি সত্যি অসুস্থতা নিয়ে অফিস করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনসাইট সম্প্রতি এক জরিপে এ ধরনের তথ্য পেয়েছে। বিভিন্ন কর্মস্থলের সাংগঠনিক সংস্কৃতিতে মারাত্মক কিছু ইস্যু রয়েছে বলে সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সেই সঙ্গে কর্মস্থলে কাজের ক্ষেত্রে কর্মীদের প্রতি আরো নমনীয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা।গবেষণা প্রতিষ্ঠান কান্টারের করা একটি জরিপের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এসব পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ইনসাইট।

এ জরিপে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ২৪৬ জন কর্মী অংশ নেন। সপ্তাহব্যাপী এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। নমুনা জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বড় কর্মীগ্রুপের সামগ্রিক চিত্র পেতে অংশ্রগ্রহণকারীদের তথ্যে নির্দিষ্ট অনুপাতে ওয়েট ব্যবহার করা হয়। এভাবে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার কর্মীর অবস্থা জানার চেষ্টা করা হয়েছে।

জরিপে অংশ নেয়া কর্মীদের এক চতুর্থাংশ বলেছেন, গত বছর তাদের অন্তত একদিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটি নিতে হয়েছে কারণ অফিসের কাজ খুব যন্ত্রণাদায়ক মনে হচ্ছিল। অনেকে বলেছেন, তাদের মনে হয়েছে কাজে চাপ অত্যন্ত বেশি। আবার কেউ বলেছ্নে, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার কারণে একটি কাজ সম্পন্ন করা অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়েছে তাদের। বাকিরা সহকর্মীর সঙ্গে বিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন।

অবশ্য ৩৭ শতাংশ বলেছেন, অসুস্থতা বোধ সত্ত্বেও তাদের অফিস করতে হয়েছে। এসব কর্মী বলেছেন, অসুস্থতা নিয়ে অফিস করার বড় কারণ, এতে বেতন কাটা গেলে সামনের মাসটা চলা কঠিন হয়ে যাবে। আবার অনেকে বরাদ্দকৃত সবেতন অসুস্থতাজনিত ছুটি খরচ করে ফেলতে চাননি। অন্যরা বলেছেন, তারা সহকর্মীর বাঁকা নজরে পড়তে চাননি।

এর মধ্যে এক পঞ্চমাংশ বা প্রায় ৬৫ লাখ কর্মী বলেছেন, অসুস্থতা বোধের সময় বাসায় থেকে কাজ করতে দেয়ার সুযোগ দিলে ভালো হতো। কিন্তু প্রতিষ্ঠান তাদের সে অনুমতি দেয়নি। এদিকে অন্য আরো কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ কর্মী বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় অসুস্থতাজনিত ছুটি বেশি নেন ফেব্রুয়ারির প্রথম সোমবার। গত বছর এই দিনে ছুটি নিয়েছিলেন ২ লাখ ১৫ হাজার জন।

তবে কর্মসংস্থান আইন সংস্থা এলাস বলছে, ২০১৯ সালে এই দিনের তুলনায় অন্যান্য দিনে অনুপস্থিতির হার বেশি ছিল। সর্বাধিক অনুপস্থিতি ১০ দিন হলে, কাকতালীয়ভাবে এর মধ্যে সোমবারই ছিল সর্বাধিক। এর মধ্যে আবার সবচেয়ে বেশি কর্মী ছুটি নিয়েছেন ১৬ সেপ্টেম্বর। ছুটি নেয়ার কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে: পেটের সমস্যা (২৪%); সর্দি, কাশি এবং ফ্লু (১৬%); মাথাব্যথা (৭%)।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাকাসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা টম নিল বলেন, কর্মীদের নিরাপত্তা এবং মঙ্গলের দিকটি দেখা নিয়োগকর্তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কেননা এর মধ্যে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যও অন্তর্ভুক্ত। সত্যিকার অর্থে তারা কাজকে উপভোগ করছে কি না তা দেখতে হবে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাজের পরিবেশ ও দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এখানে খুব জরুরি।

তবে আশার কথা হচ্ছে, কাজের চাপে অসুস্থ বোধ করার মতো পরিস্থিতি থেকে কর্মস্থলের উত্তরণ ঘটছে। চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব পারসোনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের হিসাবে, অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে ছুটি নেয়ার হার ২০১৯ সালে কমে ৫ দশমিক ৯ জনে নেমেছে। মানবসম্পদ পেশাদারদের এ সংগঠনের ১৯ বছরের বাৎসরিক জরিপের ইতিহাসে এ সংখ্যা সবচেয়ে কম। তথ্যসূত্র: বিবিসি

More News Of This Category