1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

অর্ধেক সময়ে চীন থেকে দেশে পণ্য পরিবহন করবে ৪ জাহাজ!

বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্পের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কাাঁচামাল আমদানি হয় চীন থেকে। এছাড়া মেশিনারি, বাণিজ্যিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আসে চীন থেকে। এসব পণ্যের বেশিরভাগই আমদানি হয় কন্টেইনার জাহাজে করে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র পথে চীন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহনে চালু হচ্ছে চারটি কন্টেইনার জাহাজ।

হংকং বন্দর থেকে এমএসসি কাইমি জাহাজ চলাচলের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন এই পরিষেবা। বেঙ্গল এক্সপ্রেস নামের নতুন এই পরিষেবার শুরুতে ৪টি জাহাজ যুক্ত হলেও শীঘ্রই আরো দুটি জাহাজ যুক্ত হবে। সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক মেডিটেরিয়েন শিপিং কোম্পানি (এমএসসি) এই সেবা চালু করছে। চীন থেকে পণ্য নিয়ে সপ্তাহে একটি করে জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়বে।

নতুন রুটে ১২-১৩ দিনেই চীন থেকে কয়েকটি বন্দর ঘুরে জাহাজে করে পণ্য চট্টগ্রামে আসবে। অন্যান্য জাহাজ ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে পণ্য উঠানামা করে চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৫ দিন। এই পরিষেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের সময় বাঁচবে প্রায় ১৩ দিন।

এমএসসির হেড অপারেশন অ্যান্ড লজিস্টিকস আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, নতুন পরিষেবার আওতায় জাহাজগুলো ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে পণ্য নামাবেনা। কিছু কন্টেইনার উঠাবে। ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টে চট্টগ্রামের জন্য কানেকশান পেতে ১০ থেকে ১২ দিন অপেক্ষা করতে হয়।

তিনি আরো বলেন, সরাসরি কন্টেইনার নিয়ে আসায় ওয়েটিং টাইম বেঁচে যাবে। তাই চীন থেকে ১৩ দিনের মধ্যে কার্গো চট্টগ্রামে চলে আসবে। এতে কম সময়ে এবং কম ভাড়ায় পণ্য পরিবহনের সুযোগ পাবে আমদানিকারকরা। আমদানি পণ্য নামানোর পর জাহাজগুলো ফিরতি পথে রপ্তানি পণ্য নিয়ে যাবে ট্রান্সপিশমেন্ট বন্দরে।

নতুন জাহাজ চালাচল শুরু এই সংবাদকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের তৈরী পোশাক শিল্প খাতসহ ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্পের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কাাঁচামাল আমদানি হয় চীন থেকে। এছাড়া মেশিনারি, বাণিজ্যিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আসে চীন থেকে। এসব পণ্যের বেশিরভাগই আমদানি হয় কন্টেইনার জাহাজে করে।

বিজিএমইএ’-র সহ সভাপতি রাবিকুল আলম চৌধুরী বলেন, “চীন থেকে পণ্য আমদানিতে ১৩ দিন কম সময় লাগার খবরটি অবশ্যই দেশের পোশাক শিল্প মালিকদের জন্য ইতিবাচক। এর ফলে বিদেশী ক্রেতাদের কাছে সঠিক সময়ে পণ্য পৌঁছাতে আরো বেশি সময় পাওয়া যাবে।”

এমএসসি সূত্র জানায়, হংকং বন্দর থেকে শুরু হয়ে চীনের ইয়ানতিন ও সেকু বন্দরে কনটেইনার পণ্য বোঝাই করবে এই সেবার আওতায় পরিচালিত জাহাজগুলো। এরপর সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বন্দরে থেকে আরও কনটেইনার বোঝাই করে চট্টগ্রামে ফিরবে এসব জাহাজ। একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে এসব বন্দর হয়ে চীনে যাবে।

বর্তমানে চীন থেকে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে পণ্য পরিবহন করছে ১৯টি জাহাজ। এসআইটিসি কন্টেইনার লাইনস ও সিএনসি যৌথভাবে পাঁচটি জাহাজ দিয়ে চায়না বাংলাদেশ এক্সপ্রেস নামে একটি সেবা পরিচালনা করছে। কসকো শিপিং লাইন তিনটি জাহাজ দিয়ে চীন থেকে কনটেইনার পণ্য আনা-নেওয়া করছে।

চীন থেকে আসা জাহাজগুলো কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে নামানোর পর সেখান থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য কন্টেইনার বোঝাই করে। এজন্য ১০ থেকে ১২ দিন বাড়তি সময় লাগে। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের আমদানি পণ্যের বৃহৎ একটি অংশ আসে চীন থেকে। পণ্য আমদনিতে ১৩ দিন সময় কমে আসা দেশের অর্থনীতির জন্য পজিটিভ। আমি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।” তথ্যসূত্র: দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

More News Of This Category