1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

কসমেটিক উৎপাদন ও বিপনন ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে

কসমেটিক ব্যবসা অতীতে যেমন লাভজনক ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতে আরো লাভজনক হবে। কারণ, মেয়েদের পাশাপাশি এখন ছেলেরাও নানা ধরণের কসমেটিক্স বা বিউটি প্রোডাক্টস্ ব্যবহার করছে তাদের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্যে। ফলে, কসমেটিক্স ব্যবসার বিকাশ ঘটছে প্রতিনিয়তই।

পৃথিবীর জনসংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে সৌন্দর্য্য সচেতনতা। প্রতিটি মানুষই, হোক সে মেয়ে কিংবা ছেলে, নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে চাইছে। যারফলে, উন্নত থেকে অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল প্রতিটি দেশেই কসমেটিক্স ব্যবসার প্রসার ঘটছে।

মার্কেট রিসার্চ ডট কমের একটি জরিপ থেকে জানা গিয়েছে যে, ২০১৮ সালে শুধু যুক্তরাজ্যেই ৬২ বিলিয়ন ডলারের কসমেটিক্স বিজনেস হয়েছে। এর একটি বড় অংশ নিয়েছে আমেরিকার সেরা ৫টি কসমেটিক ব্র্যান্ড। একইভাবে ইউরোপের প্রতিটি দেশেই ২০১৮ সালে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হয়েছে। আর পৃথিবী জুড়ে কসমেটিক্স বিক্রি হয়েছে ৪২৯.৮ বিলিয়ন ডলারের। জরিপের ভবিষ্যৎ বাণী ইন্ড্রাস্ট্রি এক্সপার্টদের তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের কসমেটিক ব্যবসা হবে পৃথিবীতে।

অ্যান্টি-এইজিং ক্লিনিক, অ্যারোমা থেরাপি, বিউটি সেলুন, বিউটি স্পা, হেয়ার সেলুন, ম্যাকওভার সেলুন, ন্যাচারাল বিউটি সেলুন, ইত্যাদি নানা নামেই সৌন্দর্য্য ব্যবসা চলছে। আর প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই কসমেটিক্সের ব্যবহার রয়েছে। ফলে, কসমেটিক্স আমদানি, কসমেটিক্স সাপ্লাই এবং বিক্রি হয়ে উঠছে একটি লাভ জনক ব্যবসা। আর ব্যবসায় যোগ দিতে পারেন আপনিও, জেনে নিন কিভাবে শুরু করবেন।

কসমেটিক ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে: আপনি যদি কসমেটিক ব্যবসা করার জন্যে মনস্থির করে থাকেন, তবে আপনাকে কিছু বিষয় আগে ভাল করে জেনে নিতে হবে। কিছু বিষয়ে ভাল করে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। কিছু বিষয়ে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে। আসুন, সে বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে রাখা যাক।

স্টাডি করুন, বর্তমান ট্রেন্ড সম্পর্কে ধারণা নিন: কসমেটিক মার্কেট সম্পর্কে কিছুটা পড়াশুনা করে নিন। জানার চেষ্টা করুন, কী ধরণের কসমেটিকের বাজার ভাল, যদিও সব ধরণের কসমেটিকেরই চাহিদা রয়েছে। আপনি নিশ্চয়ই একসঙ্গে সব প্রোডাক্টস্ নিয়ে কাজ করতে পারবেন না। তাই, বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী কিছু পার্টিকুলার প্রোডাক্টস্ বাছাই করে নিন, যেগুলো নিয়ে আপনি আপনার নিজস্ব ব্যবসা শুরু করবেন।

বিশ্ব-বিখ্যাত সব কসমেটিক ব্র্যান্ডের একটা তালিকা তৈরি করুন। প্রতিটি কোম্পানীর ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস কালেকশন করুন, একটা এক্সেল শিট কিংবা নোট প্যাডে সবগুলো কোম্পানীর অফিসিয়াল ওয়েব অ্যাড্রেস টুকে রাখুন। একই সাথে, সবচেয়ে বেশি পরিচিত কসমেটিক কোম্পানীগুলোর ওয়েবসাইট সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। এতে বাজারের বর্তমান অবস্থা, কসমেটিক ট্রেন্ডসহ আরো নানা তথ্যের আপডেট জানতে পারবেন।

আরও একটা কাজ আপনাকে করতে হবে আর সেটি হচ্ছে ফ্যাশন রিলেটেড, বিউটি রিলেটেড আর্টিকেলগুলো পড়ুন। ইউটিউবে এই রিলেটেড ভিডিও দেখুন। এগুলো আপনাকে নিজের আইডিয়া জেনারেট করা এবং নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি বা ব্যতিক্রমী ব্যবসার ধারণা দেবে। মোট কথা, কসমেটিক ব্যবসা করতে হলে আপনাকে এ বিষয়ে কিছু স্টাডি করতেই হবে।

কসমেটিক্স ফর্মুলেশন সম্পর্কে জেনে রাখুন: আপনি যদি কসমেটিক প্রোডাক্ট উৎপাদন করতে চান, আপনাকে অবশ্যই কসমেটিক্স ফর্মুলেশন সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। আর যদি উৎপাদনে না গিয়ে শুধু ব্যবসা করতে চান, তবু কসমেটিক পণ্যে যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় এবং সেগুলোর ফর্মুলেশন জেনে রাখা আপনার জন্যে সহায়ক হবে।

মানব দেহের জন্যে ক্ষতিকর কোনও কেমিক্যাল আপনি ব্যবহার করতে পারবেন না। কিংবা এমন কোনও কসমেটিক প্রোডাক্টের ব্যবসাও আপনি করতে পারবেন না, যেগুলোতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল রয়েছে। এটা প্রতিটি দেশেরই কমন একটি আইন এবং এ আইনটি খুবই কড়া।

সবচেয়ে ভাল হয় আপনি যদি কসমেটিক কেমিস্ট্রির উপর একটি প্রাইভেট ডিগ্রি নিয়ে নিতে পারেন। আর যদি সেটা সম্ভব না হয়, তবে একজন কসমেটিক কেমিস্ট হায়ার করতে পারেন। আপনি যখন কোন কসমেটিক্স প্রোডাক্ট ডেভেলপ করবেন, তখন আপনার অবশ্যই একজন কেমিস্টের সহযোগীতা লাগবে। আর আপনি যদি প্রোডাক্ট ডেভেলপিংয়ে না গিয়ে শুধু কসমেটিকের ব্যবসা করতে চান, তবে প্রয়োজন নেই।

দেশের ব্যবসা বিষয়ক আইন-কানুন জানুন: যদি আপনি নিজে কোন কসমেটিক্স উৎপাদন করতে চান, তবে কেমিক্যাল আইন সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। অর্থাৎ, কী ধরণের কেমিক্যাল ব্যবহার করা যাবে আর কোনগুলো ব্যবহার করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ আছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন। আর সাধারণ কসমেটিকের দোকান কিংবা কসমেটিক আমদানির জন্যে এটা আপনার প্রয়োজন নেই। তবে, আমদানির ক্ষেত্রে অবশ্যই এটা জানা প্রয়োজন যে কোন ধরণের কসমেটিক প্রোডাক্ট আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

প্রোডাক্টস্ বাছাই করুন: হাজার হাজার কসমেটিক প্রোডাক্টস্ আছে কিন্তু সবগুলো নিয়ে এক সাথে নামলে আপনি সামলে উঠতে পারবেন না। তাই, কিছু প্রোডাক্টস্ বাছাই করে নিন। এক্ষেত্রে আপনি ২টি ফর্মুলা ইউজ করতে পারেন। হয় সবচেয়ে বেশি পরিচিত বা বেশি চলমান প্রোডাক্টগুলো নিয়ে শুরু করুন। অথবা যে প্রোডাক্টগুলো এখনো বাংলাদেশে আসেনি, সেগুলো নিয়ে ভাবুন।

আপনি তো ইতিমধ্যেই বিশ্ব সেরা কসমেটিক কোম্পানী এবং তাদের প্রোডাক্টগুলোর একটা লিস্ট তৈরি করে ফেলেছেন। এবার সেখান থেকে দেখুন কোন দেশের কোন প্রোডাক্টগুলো বাংলাদেশে তেমন একটা চলমান নয়। আপনি সেই প্রোডাক্টগুলো বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করতে পারেন। একবার যদি সেগুলো আপনি গ্রাহকদের কাছে পরিচিত করে তুলতে পারেন, তবে খুব সহজেই আপনার ব্যবসা দাঁড়িয়ে যাবে।

ব্যবসার ধরণ ঠিক করুন: কসমেটিক ব্যবসার মধ্যেই নানা ধরণ রয়েছে। যেমন, কসমেটিক পণ্য উৎপাদন, কসমেটিক শপ, কসমেটিক আমদানি, অনলাইনে বিক্রি, ইত্যাদি। এখান থেকে ঠিক করে নিন আপনি কোনটি করবেন। আপনার যদি কসমেটিক কেমিস্ট্রির উপর পড়াশুনা থাকে, তবে আপনি একটি কসমেটিক উৎপাদন কোম্পানী করতে পারেন।

যদি আপনার আমদানি-রপ্তানি সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকে এবং সেই সাথে মার্কেটিং সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞান থাকে, তবে আপনি বিভিন্ন দেশ থেকে কসমেটিক আমদানি করে হোলসেল সাপ্লাই এবং খুচরা সেল করতে পারেন। অথবা বিভিন্ন বিউটি সেলুন, ম্যাকওভার সেলুন এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত কসমেটিক সরবরাহ করতে পারেন।

যদি আপনি কসমেটিক রিলেটেড একটি সাধারণ ব্যবসা দাঁড় করাতে চান, তবে আপনি একটি কসমেটিক স্টোর দিতে পারেন। হতে পারে এটা আপনার নিজ মহল্লায় কিংবা বড় কোনও শপিং সেন্টারে। যেখানেই দিন না কেন, খেয়াল রাখবেন জায়গাটি যেন এমন হয় যেখানে মেয়েদের প্রচুর ভিড় থাকে। কারণ, আপনার কসমেটিক ব্যবসার মূল ক্রেতা হবে কিন্তু মেয়েরাই।

প্রয়োজনীয় পুঁজির ব্যবস্থা করুন: পুঁজি ছাড়া কিছু ব্যবসা করা গেলেও বিনাপুঁজিতে কসমেটিক্স ব্যবসা করা যায় না। তাই, আপনার অবশ্যই কিছু পুঁজি লাগবে। আর পুঁজির অংকটা কেমন হবে, সেটা নির্ভর করছে আপনার ব্যবসার ধরণের উপর। আপনি যদি কসমেটিক উৎপাদন করতে চান, তাহলে আপনার একটি ফ্যাক্টরী স্থাপন করতে হবে।

সেই সাথে আপনার একটি অফিসও লাগবে। ফ্যাক্টরি এবং অফিসের জন্যে কিছু লোকজন নিয়োগ দিতে হবে। কাজেই, মোটা অংকের পুঁজি লাগবে। আপনি যদি বিভিন্ন দেশ থেকে কসমেটিক পণ্য আমদানি করতে চান আর সেগুলোকে হোল সেলে বিক্রি করতে চান, তবে সেখানেও মোটামুটি ভাল পুঁজি লাগবে। কারণ, ভাল ব্যবসার জন্যে আপনাকে একবারে অনেক পণ্য আনতে হবে।

অল্প অল্প করে বারবার পণ্য আনতে গেলে খরচ বেড়ে যাবে। আর যদি আপনি কোনও শপিং মলে কিংবা নিজের মহল্লায় একটি কসমেটিকের দোকান দিতে চান, তবে আপনার তুলনামূলকভাবে কম পুঁজি লাগবে। এক্ষেত্রে, দোকানের পজিশন নেয়ার অ্যাডভান্স, ডেকোরেশন এবং পণ্য কেনা এই তিনভাগে খরচ হবে।

কাগজ-পত্র তৈরি করুন: কসটেমিক ব্যবসা হোক, আর যে ব্যবসাই হোক, আপনাকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র গুছিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের আইন-অনুযায়ী ব্যবসা করতে হলে প্রথমেই আপনার একটি ট্রেড লাইন্সেস লাগবে। এরপর আপনি যদি দেশের বাহির থেকে কসমেটিক্স আনতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই আমদানি লাইসেন্স করিয়ে নিতে হবে।

প্ল্যান তৈরি করুন: আপনি যদি ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যে, কসমেটিক ব্যবসা করবেন, তবে এবার একটি সুন্দর প্ল্যান তৈরি করে ফেলুন। আপনার টোটাল কতগুলো কাজ করতে হবে, সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি করুন। এবার তালিকা থেকে সিরিয়াল করুন অর্থাৎ কোন কাজটি আগে আর কোনটি পরে করতে হবে, সেগুলো ঠিক করুন।

এবার নেমে পড়ুন: আপনার সবকিছু গোছানো হয়ে গেছে, এবার ব্যবসায় নেমে পড়ুন। প্ল্যান অনুযায়ী একটার পর একটা কাজ করতে থাকুন, সামনের দিকে এগুতে থাকুন। আর উপভোগ করুন আপনার কসমেটিক ব্যবসা, সাফল্যের পথে আপনাকে স্বাগতম।

More News Of This Category