1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

গাড়ি তৈরীর ব্যবসায় ভারতে নজিরবিহীন ধস

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকে ভারতজুড়ে পালন হচ্ছে কঠোর লকডাউন। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে এ পদক্ষেপ। লকডাউনের মধ্যে দেশটিতে উৎপাদনমুখী বিভিন্ন খাতের মতো গাড়ি নির্মাণ শিল্পও বিপাকে পড়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় ভারতের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতারা গত মাসে স্থানীয় ডিলারদের কাছে একটি গাড়িও সরবরাহ করতে পারেনি। খবর ব্লুমবার্গ।

ভারতের সড়ক-মহাসড়কে যত গাড়ি চলে, তার অর্ধেকেরই উৎপাদক মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া লিমিটেড। আর দেশটিতে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) নির্মাণে সবার শীর্ষে রয়েছে মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা লিমিটেড। গত মাসে স্থানীয় বাজারে একটি গাড়িও বেচতে পারেনি কোম্পানি দুটি। একই অবস্থা হুন্দাই মোটরস ইন্ডিয়া লিমিটেডেরও।

ভারতে অর্থবছর হিসাব করা হয় এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত। সে হিসাবে নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসেই এমন বিপর্যয় দেখতে হলো ভারতের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতাদের। এর বেশির ভাগ দায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের। কারণ গত অর্থবছরে তাদের বিক্রি বেশ ভালো ছিল। গত অর্থবছরে ভারতের স্থানীয় গাড়ি নির্মাতারা প্রতি মাসে ২৮ লাখের বেশি কার, এসইউভি ও কাভার্ড ভ্যান বিক্রি করেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য দেশের চেয়ে যা বেশি।

১২ মাস হিসাব করলে তাদের মোট বিক্রি দাঁড়ায় ৩ কোটি ৩৬ লাখ ইউনিট, যেখানে চীনের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ২ কোটি ২৪ লাখ ইউনিট। অবশ্য লকাডাউনের আগে থেকেই ভারতের গাড়ি নির্মাণ শিল্প কিছুটা সমস্যার মধ্যে ছিল। লকডাউনের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সে সংকট বহুলাংশে বেড়েছে।

৩১ মার্চ পর্যন্ত এক বছরে ১ কোটি ২০ লাখ কার বিক্রি করেছে মারুতি। কোম্পানিটির চেয়ারম্যান আরসি ভার্গব বলেছেন, ‘সবকিছুর ক্ষেত্রেই প্রথমবার বলে একটা কথা রয়েছে। আমি বলতে পারছি না চলতি মাসে কী হবে। উৎপাদন শুরু করতে পারব কি পারব না, তা আগে থেকে বলা যাচ্ছে না।’

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ভারতের জাতীয় অর্থনীতিতে নজিরবিহীন পতনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে গাড়ি নির্মাণ খাত ভালো করবে, সে আশা করাও ভুল। সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্সের হিসাব অনুযায়ী, কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ২ হাজার ৩০০ কোটি রুপি (৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার) রাজস্ব হারাচ্ছে কোম্পানিগুলো।

এ সংকট মোকাবেলায় খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আর্জি জানিয়ে সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে গাড়ি নির্মাতা ও অটোমোবাইলসের যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারীরা বলেছে, ‘অটোমোটিভ খাতের বর্তমান রুগ্ণ দশা এবং অতীতে দেশের অর্থনীতিতে আমাদের অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করে পুরো শিল্প খাতের ভ্যালু চেইন উন্মুক্ত করা ও উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরুর অনুমতি দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা।’

আজ থেকে আরো দুই সপ্তাহের জন্য লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়েছে মোদি প্রশাসন। ফলে ভারতের গাড়ি নির্মাণ শিল্পের জন্য সামনে আরো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে, তা নিশ্চিতভাবেই বলে দেয়া যায়। অবশ্য স্থানীয় বাজারে কোনো গাড়ি বিক্রি না হলেও গত মাসে গুজরাটের একটি বন্দর চালুর পর সে পথে ৬৩২টি গাড়ি রফতানি করেছে।

এছাড়া মাহিন্দ্রা ৭৩৩টি ও হুন্দাই ১ হাজার ৩৪১টি গাড়ি রফতানি করেছে। উল্লেখ্য, এগুলোর সবই পাইকারি সরবরাহের উপাত্ত। ভারতের গাড়ি নির্মাতারা কখনই খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশ করে না। তবে করোনার কারণে এ শিল্পের ভবিষ্যতে একটি ইতিবাচক দিক দেখছেন মারুতির চেয়ারম্যান আরসি ভার্গব।

তিনি বলেন, লকডাউন প্রত্যাহারের পর ভারতে ব্যক্তিগত গাড়ির বিক্রি করোনা-পূর্ব সময়ের চেয়ে বেড়ে যেতে পারে। কারণ ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্বের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। আর গণপরিবহনে তা নিশ্চিত করাটা বেশ কঠিন। এ কারণে লকডাউন শেষ হলে গ্রাহকরা চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়িকেই অগ্রাধিকার দেবেন।

More News Of This Category