1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

অনমুতি না নিয়েই অবাধে চলছে পুকুর খনন

জমির শ্রেণী পরিবর্তন না করেই পুকুর খনন করা হচ্ছে সিরাজগঞ্জে। বিশেষ করে চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়ায় এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। অনুমতি না নিয়ে পুকুর খনন বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে এ ধরনের অভিযান সত্ত্বেও থেমে নেই পুকুর খনন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অবাধে পুকুর খননের কারণে যেমন জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তেমনি কমছে আবাদি জমি। জেলা মৎস্য অফিস কার্যালয় সূত্র জানায়, রায়গঞ্জ উপজেলায় মোট পুকুর রয়েছে ৪ হাজার ৪৫৩টি। এর মধ্যে সরকারি ১৬০টি। বাকি ৪ হাজার ২৯৩টি ব্যক্তিগত। তাড়াশ উপজেলায় মোট পুকুর ১ হাজার ৯১৪টি।

যার মধ্যে সরকারি ৭৫৮টি ও ব্যক্তিগত ১ হাজার ১৫৬টি। এছাড়া উল্লাপাড়ায় মোট পুকুর ২ হাজার ৬২৫টি। এর মধ্যে ২৩৫টি সরকারি ও ব্যক্তিগত ২ হাজার ৩৯০টি। দুই বছরে সরকারি হিসাবে এ তিন উপজেলায় নতুন করে খনন হয়েছে শতাধিক পুকুর। এর মধ্যে তাড়াশে ৪০টি, রায়গঞ্জে ৫০টি ও উল্লাপাড়ায় ১৫টি নতুন করে খনন করা হয়েছে।

তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ, পাচান, গোয়াল, মহিষলুটি, মাগুড়া বিনোদপুর, বারুহাস, সাকইদীঘি, নাদো শহিদপুর, কহিত, উল্লাপাড়া উপজেলার দবিরগঞ্জ, রামকৃষপুর, কইচার বিল, উনুখা, বাঙ্গালা ইউনিয়নের বড়ঘোনা, ঘোনা এবং রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছি ও ধামাইনগর ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকায় ফসলি জমিতেই পুকুর খনন করা হচ্ছে। দ্রুত পুকুর খনন শেষ করতে কেউ কেউ এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করছেন।

স্থানীয়রা জানায়, প্রশাসনের অনুমতি বা শ্রেণী পরিবর্তন না করেই বেশির ভাগ পুকুর খনন করা হচ্ছে। একটি চক্র সাধারণ কৃষককে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের জমি লিজ নিয়ে পুকুর খনন করছে। খনন করার কারণে আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বাস্তুসংস্থানে। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে ফসল উৎপাদনে।

পুকুর খননে বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি গ্রামের কৃষক আবদুর রহিম বলেন, মাঠের মধ্যখানে পুকুর খনন করলে আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে ওইসব জমিতে ফসল আবাদ করা যায় না। পুকুর খননে একপক্ষ লাভবান হলেও আমরা সাধারণ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. সাহেদ আলী সিরাজগঞ্জে নতুন পুকুর খননের প্রবণতা বেড়েছে জানিয়ে বলেন, মত্স্য চাষ লাভজনক হলেও আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে ফসলি জমি নষ্ট করে তা খনন করার ফল ভালো হয় না। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নতুন যেসব পুকুর খনন হচ্ছে, তার তালিকা সংগ্রহের কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জে মোট জমির পরিমাণ ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৭ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদি জমি ১ লাখ ৮৩ হাজার ২২০ হেক্টর। কর্মকর্তারা জানান, অনুমতি না নিয়ে খননকৃত পুকুরের হিসাব জেলা মৎস্য অফিস বা জেলা প্রশাসনের কাছে নেই। এ কারণে কী পরিমাণ আবাদি জমি কমেছে, তার সঠিক হিসাব বলা সম্ভব নয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল হক বলেন, সিরাজগঞ্জে অবাধে ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করা হচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়। এতে খাদ্য উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়বে, ফসল উৎপাদন কমে যাবে। তবে আমাদের কিছু করার নেই। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনকেই উদ্যোগী হতে হবে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, এক শ্রেণীর অসাধু লোক তিন ফসলি আবাদি জমিকে নিচু ও জলাভূমি দেখিয়ে পুকুর খনন করছে। আবার এক শ্রেণীর লোক জমি লিজ নিয়ে বা কিনে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছে। আবার অনেকে জমি কেটে পুকুর তৈরি করার জন্য আমাদের কাছে আবেদনই করছে না।

বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অবাধে পুকুর খনন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তাড়াশ ও উল্লাপাড়ায় ১০টি পুকুর খনন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তথ্যসূত্র: বাণিক বার্তা।

More News Of This Category