1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

জ্বালানী তেলের বাজারে মন্দা, ইতিহাসের সর্বনিন্ম দাম

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারে বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোমবার জ্বালানি পণ্যটির দাম ইতিহাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে। এরপর দু’দিন জ্বালানি পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দাভাব বিরাজ করে। তেলের দাম ১৯৯৯ সালের আগের অবস্থানে নেমে আসে। খবর রয়টার্স, বিবিসি।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় সব দেশেই চলছে লকডাউন। এ কারণে উৎপাদনসহ প্রায় সব কর্মকাণ্ড বন্ধ। এতে তেলের চাহিদা একেবারেই নেই। ফলে হু হু করে বিশ্ববাজারে কমছে জ্বালানি তেলের দাম। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সোমবার মার্কিন তেলের দাম শূন্যের নিচে নেমে গেছে।

এর অর্থ হল- উৎপাদকরা তেল কেনার জন্য উল্টো ক্রেতাদের অর্থ দিচ্ছেন। এদিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম কমে প্রতি ব্যারেল হয়েছে মাইনাস ৩৭ দশমিক ৬৩ ডলার। এ দামকে প্রাতিষ্ঠানিক ভাষায় ‘মাইনাস প্রাইসিং’ কিংবা ‘ডিসকাউন্ট প্রাইস’ বলছেন।

তবে সহজ ভাষায় বলা যায়, এ সময় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আদতে বিনামূল্যে দেয়া হলেও ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। জ্বালানি পণ্যটির বাজারে এ চিত্র আগে কখনই দেখা যায়নি। তবে মঙ্গলবার মাইনাস প্রাইস থেকে ধনাত্মক ধারায় উঠেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। তবে তা এখনও ইতিহাসের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে মন্দার মুখে দাঁড়িয়ে থাকা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত বলছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে জুনে যে ডব্লিউটিআই তেল সরবরাহ করার কথা ছিল, তার দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১১ ডলারে ঠেকেছে। অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২৪ শতাংশ কমে হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১৫ ডলার ৯৮ সেন্টে। যা ১৯৯৯ সালের জুনের পর জ্বালানি পণ্যটির সর্বনিম্ন দাম।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, বিশ্বজুড়ে লকডাউন অব্যাহত থাকলে জুনে যেসব তেল সরবরাহ করার কথা, তার দাম আরও কমতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংরক্ষণাগারগুলো অতিরিক্ত তেলের চাপ আর নিতে পারছে না। এতে দাম আরও কমে যাচ্ছে। মার্চের শেষে ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে দাম।

জ্বালানি তেলের দামে চলমান বিপর্যয়ের মধ্যে এক মাস ধরে উৎপাদন কমানো নিয়ে তর্কবিতর্ক চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আলোচনা শুরু হয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে। ১৩ এপ্রিল নানা আলোচনা জল্পনার পর ওপেক প্লাস ও তেল উৎপাদক মিত্র দেশগুলো উৎপাদন কমানোর ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছায়।

দৈনিক ৯৭ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর ব্যাপারে একমত হয়েছে শীর্ষ তেল উৎপাদক ও রফতানিকারকদের এই জোট, যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের ১০ শতাংশ। ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন মাত্রায় উৎপাদন কমানো হবে।

More News Of This Category