1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

বাংলাদেশ থেকে পাট আমদানী বাড়াবে পাকিস্তান!

বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি পরিমান পাট আমদানির পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিত হওয়ার কারণে বিপাকে পড়া পাটকলগুলোকে চালু রাখতে এবং বিশ্ব বাজারে পাটপণ্যের চাহিদা পূরণে প্রধানত বাংলাদেশ থেকে পাট আমদানির কৌশল নির্ধারণ করছে ইমরান খানের সরকার।

পাকিস্তানি পত্রিকা ডন-এর এক প্রতিবেদনে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পাকিস্তানে পাটশিল্প গড়ে ওঠে উনিশ শতকের সত্তুরের দশকে। কিন্তু বিশেষ করে প্যাকেজিংয়ে প্লাস্টিকের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হওয়ায় চাহিদা অনেক কমে যায়। বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয়টি কারখানা চালু আছে।

এসব পাটকল থেকে উৎপাদিত পাটজাত পণ্যে দেশের চাহিদা মেটানো হয় এবং হাতেগোনা কয়েকটি দেশে রফতানি করা হয়। বিশ্বে পাটের প্রধান উৎপাদক দেশ বাংলাদেশ এবং ভারত। কিন্তু সীমান্ত উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিত করেছে পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে শুল্কমুক্ত পাট আমদানির চিন্তাভাবনা চলছে।

এ লক্ষ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষীক সম্পর্ক বৃদ্ধির প্রচেষ্টাও চলমান। পাকিস্তান অবশ্য বাংলাদেশ থেকে পাট আমদানি করে। ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তির আওতায় হ্রাসকৃত শুল্কে পাট আমদানি করে পাকিস্তান। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে আলাপও করেছেন।

এই আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষীক আঞ্চলিক ইস্যুতে স্থবিরতা কাটবে বলে আশা করছে পাকিস্তান। এদিকে করোনা মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশও বিশেষ করে পোশাক ও পাট খাতের জন্য নতুন বাজার খুঁজছে। পাকিস্তান আমদানি শুল্ক মওকুফ করলে বাংলাদেশ থেকে রফতানি বাড়বে বলে আশা করা যায়।

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে পাকিস্তান সরকার পাট আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক বাতিল করেছে। বিশ্ব বাজারে স্থানীয় পাটশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতেই সরকারের এ উদ্যোগ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এরই মধ্যে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত পাটপণ্যের ক্রয়াদেশ তারা পেয়ে গেছেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আবদুল রাজ্জাক দাউদ বলেছেন, এক বছরের মধ্যে পাটপণ্য রফতানি দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বিশেষ করে ইতালি, সুইজারল্যান্ড, গ্রিস, ‍তরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইরাক এবং মালয়েশিয়ার বাজারে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানি পাটপণ্য প্রবেশ করায় রফতানিতে এই উল্লম্ফন। ফলে পাকিস্তানের এখন আরো অনেক বেশি পরিমান কাঁচামালের দরকার হবে। সেই সঙ্গে নতুন পাটকল স্থাপনের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে শিগগিরই।

২০১৯-২০ অর্থবছরে পাকিস্তানের পাট রফতানি ছিল ৬ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ডলার। যেখানে আগের বছর রফতানি হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। পাকিস্তানি পাটপণ্যের প্রধান ক্রেতা সুদান। এরপরেই রয়েছে যথাক্রমে মিশর, তুর্কমেনিস্তান, ইতালি, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, জর্ডান, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিস এবং বেলজিয়াম।

More News Of This Category