বাইসাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশ তৃতীয়!

২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে আমদানিকৃত বাইসাইকেলের ১১ শতাংশই বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে। এছাড়া ওই দেশগুলোর আমদানিকৃত বাইসাইকেলের ২৪ শতাংশ সরবরাহ করেছে তাইওয়ান, কম্বোডিয়া সরবরাহ করেছে ১৮ শতাংশ আর ফিলিপাইন সরবরাহ করেছে ১০ শতাংশ। সেই হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বাইসাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়।

বাংলাদেশে উৎপাদিত বাইসাইকেল মূলত যুক্তরাজ্য, জার্মানি, হল্যান্ড, ইতালি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, বেলজিয়াম ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, পর্তুগালে রপ্তানি হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য মতে, ২০১৬ সালে সংস্থাটির ২৮টি দেশ মোট ১ কোটি ৭০ লাখ বাইসাইকেল আমদানি করেছে। এর মধ্যে ৫৮ শতাংশই সদ্যদেশগুলো থেকে আমদানি করেছে ওই ২৮ দেশ। আর বাকি ৪২ শতাংশ আমদানি করেছে ইউনিয়নের বাইরে থেকে।

এছাড়া এই সময়ে ওই ২৮ দেশ ১ কোটি ১০ লাখ বাইসাইকেল রপ্তানি করেছে বলে ইউনিয়ন প্রকাশিক তথ্যে দেখা গেছে। এদিকে সাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশের বড় বাজার ইউরোপের দেশগুলো। প্রতি মাসে দেশ থেকে গড়ে ৮০-৮৫ কোটি টাকার সাইকেল রপ্তানি হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, বাংলাদেশের শ্রমবাজার সস্তা হওয়ায় তাইওয়ানের কোম্পানি আলিতা বাংলাদেশ লিমিটেড স্বল্প পরিসরে সাইকেল রপ্তানি শুরু করে।

পরে এ ধারায় যুক্ত হয় মেঘনা গ্রুপ ও আরএফএল গ্রুপ। এখন আরো কিছু প্রতিষ্ঠানও সাইকেল উৎপাদন করছে। এর মধ্যে এইস বাইসাইকেল লিমিটেড, ট্রান্সওয়ার্ল্ড বাইসাইকেল কোম্পানি, সিরাজ বাইসাইকেল লিমিটেড, জার্মানি-বাংলাদেশ বাইসাইকেল, নর্থ বেঙ্গল সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজসহ অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মাউন্টেন বাইক, সিটি বাইক, ফ্রি স্টাইল, ট্র্যাকিং, ফোল্ডিং, বিচ ক্রুসার ও কিডস বাইক জাতীয় সাইকেল তৈরি হচ্ছে। এর একটি অংশ দেশের বাজারে ও বাকি অংশ রপ্তানি হচ্ছে।

বর্তমানে ফ্রিস্টাইল, মাউন্টেন ট্র্যাকিং, ফ্লোডিং, চপার, রোড রেসিং, টেন্ডমেড ধরনের বাইসাইকেল রপ্তানি হচ্ছে। এসব সাইকেলের কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি করা হলেও বেশির ভাগ যন্ত্রাংশই দেশে তৈরি হচ্ছে। বিশেষত চাকা, টিউব, হুইল, প্যাডেল, হাতল, বিয়ারিং, আসন তৈরি করছে দেশীয় এইসব প্রতিষ্ঠান।

তথ্যসুত্র: অর্থসূচক।

SHARE