1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

বাধ্যতামূলক হচ্ছে বীমা!

পণ্যের ‘ইন্স্যুরেন্স’ (বীমা) বা ‘গ্যারান্টি আন্ডারটেকিং’ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রেখে ট্রান্সশিপমেন্ট ও ট্রানজিট পণ্যের শুল্ক ব্যবস্থাপনা বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বর্তমানে ট্রানজিট পণ্যে কোনো ধরনের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ইন্স্যুরেন্স নেই। প্রস্তাবিত বিধিমালায় ট্রানজিট পণ্য পরিবহনে সুরক্ষায় নির্দিষ্ট গাইডলাইন দেয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে, পণ্য সিল করা থাকতে হবে। সিল অক্ষত পাওয়া না গেলে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ওই পণ্য কায়িক পরীক্ষার সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে ওই পণ্যের বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক আদায় এবং ডিক্লারেন্টের (ঘোষণাকারী) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রাখা হচ্ছে।

সম্প্রতি এ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে এনবিআর। বিষয়টি অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট পণ্য প্রধানত নৌপথে পরিবহন করা হচ্ছে। সম্প্রতি মাশুলের আওতায় নৌপথে এবং পরবর্তী সময়ে সড়কপথে পণ্য পরিবহন শুরু হয়েছে।

ট্রানজিটের আওতায় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সুরক্ষা ও চার্জ ফি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেডের (পিআইডব্লিউটিটি) আওতায় ‘ট্রান্সশিপমেন্ট ও ট্রানজিট পণ্যের শুল্ক ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০১৬-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায় যুগান্তরকে বলেন, পণ্যের ‘বীমা’ বা ‘গ্যারান্টি আন্ডারটেকিং’-এর বিষয়ে দু’দেশের জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির (জেটিসি) বৈঠকে আলোচনা করার প্রয়োজন হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর জেটিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

প্রস্তাবিত খসড়ায় পণ্যের বীমা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ট্রান্সশিপমেন্ট বা ট্রানজিট পণ্যের ক্ষেত্রে প্রতিটি চালানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিবন্ধিত অনুমোদিত বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যুকৃত ইন্স্যুরেন্স কভার নোট থাকতে হবে। ইন্স্যুরেন্স কভার নোট সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট দেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের ‘গ্যারান্টি আন্ডারটেকিং’ গ্রহণযোগ্য হবে।

জানা গেছে, ওইসব পণ্যের ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা, অবহেলা ও ইচ্ছাকৃত নাশকতা হলে ওইসব পণ্যের স্বাভাবিক আমদানির ক্ষেত্রে আরোপযোগ্য যাবতীয় শুল্ককর আদায় নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নৌপথে পণ্য পরিবহনকারী জাহাজ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কার্গো-ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. মাহবুব উদ্দীন বলেন, পণ্যের মালিক বা কর্তৃপক্ষ ইন্স্যুরেন্স কভার নোট বা ‘গ্যারান্টি আন্ডারটেকিং’ সংগ্রহের ব্যবস্থা করবেন।

আমরা শুধু পণ্য পরিবহন করে থাকি। এটি চালু হলে আমাদের পণ্য পরিবহনের ওপর কোনো ধরনের নেতিবাচব প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, বিদ্যমান পদ্ধতিতে পণ্যের ওপর বীমা নেই। কিন্তু উন্নত দেশগুলোতে ট্রানজিট পণ্যের বীমা থাকে। আমাদের দেশেও এটি চালু হলে সমস্যা হবে না। তবে নাম গোপন রাখার শর্তে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন অধিদফতরের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা বলেন, বীমা কভার নোট বা গ্যারান্টি আন্ডারটেকিং পদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনকারীরা ঝামেলায় পড়বেন।

বাংলাদেশে বীমা করতে হলে সেই দায়িত্ব পরিবহনকারী সংস্থার ওপর বর্তাবে। এসব ঝামেলার কারণে ট্রানজিটের আওতায় ভারত পণ্য পরিবহনে আগ্রহ হারাবে। উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, সম্প্রতি ভারতীয় মেশিনারিজ বহনকারী একটি জাহাজের কাছে কাস্টমস কর্মকর্তারা পণ্যের বীমার কাগজ চেয়েছেন। এতে পণ্য পরিবহনকারী এ দেশীয় এজেন্ট বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। যদিও আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা হয়েছে। যুগান্তর।

More News Of This Category