1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

ব্যতিক্রমী বিষয়ে যারা পড়তে আগ্রহী!

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সবে উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হয়েছেন মোহ্তারিমা মেহনাজ। উচ্চশিক্ষার জন্যও তার পছন্দের তালিকায় আছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-সংক্রান্ত কোনো বিষয়। কিন্তু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় যেহেতু আসন সংখ্যা সীমিত, তাই দ্বারস্থ হতে হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তবে পছন্দের বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সাধ্যের মধ্যে সব খরচ সম্পন্ন করাও তো কষ্টসাধ্য। সেদিক থেকে স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দেয়া ছাড়া উপায় কি? মোহ্তারিমার মতোই অগণিত শিক্ষার্থীর আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিষয়গুলো। আর কখনো কখনো সে স্বপ্নকে বিসর্জন দিতে হচ্ছে।

এবার তবে খানিকটা আশার কথা শোনানো যাক। স্বপ্নকে বিসর্জন দিতে নয় বরং তা পূরণের সুযোগই করে দিচ্ছে বেসরকারি বিদ্যায়তন প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি। গত্বাঁধা নিয়মে চলা যেন ধাতে নেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের।

একটু পরিষ্কার করে বলা হলে, যেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মাত্রই চোখ বন্ধ করে ধরে নেয়া যায় ব্যবসায় বাণিজ্য বিভাগের আধিপত্য থাকবে, সেদিক থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ভেবেছে খানিকটা ভিন্নভাবে। এখানে রাজত্ব করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-সম্পর্কিত বিষয়গুলো।

বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, এক কথায় প্রাইমএশিয়াকে ব্যতিক্রমী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বলা যায় অনায়াসেই। কেননা এটি গতানুগতিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা ভেঙে ভিন্ন পথ অনুসরণ করেই এগোচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে মূল উপপাদ্য বিষয় বিবেচনায় রেখে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমান সময়কালকে যদি ব্যাখ্যা করা হয়, তবে সাধারণভাবেই বলা যায় প্রযুক্তির আধিপত্য রয়েছে পুরো বিশ্বে। সেদিক থেকে কেন পিছিয়ে থাকবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। প্রযুক্তির শিক্ষায় আরো শিক্ষিত করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জয়জয়কার হবে বিশ্বব্যাপী, এমন চাওয়া থেকে প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা করে ২৬ আগস্ট ২০০৩ সালে।

সম্পূর্ণ নতুন ভাবনা নিয়ে, নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা, সেদিক বিবেচনায় ছাত্র সংখ্যা কম থাকাই স্বাভাবিক। মাত্র ৩৩ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে শুরু হয় পথচলা। তবে সে সংখ্যা দিন দিন বেড়েছে বৈকি কমেনি। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী।

আর হবেইবা না কেন, মানসম্মত শিক্ষা প্রদান, সীমিত খরচ আর পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ, সবকিছুই কিন্তু শিক্ষার্থী তথা সচেতন অভিভাবকের মন জয় করেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে, এখানে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক বেশ সহজ ও সাবলীল।

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভাবেন একটু উদারভাবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের সম্পর্ক খুব সহজ আমার কাছে। আমার এবং তাদের মধ্যে কোনো দরজা নেই। আমি সবসময় আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষার্থীর পাশে আছি। শিক্ষার্থীদের কাছেও কিন্তু অনেক কিছু শেখার আছে, যা আমরা ভুলে যাই।

যেহেতু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে প্রবলভাবে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব সুবিধা নিয়ে খুলে বলা ভালো। ইন্টারনেট সুবিধাসহ বিভিন্ন বিভাগে রয়েছে পৃথক পৃথক উন্নত ও আধুনিক ৫৭টি ল্যাব। যাতে শিক্ষার্থীরা আধুনিক সব সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

মূলত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, তবে এর বাইরেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে চমত্কার কিছু বিভাগ। যেটা না বললেই নয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অনেকগুলোতেই হয়তো ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ নেই।

কিন্তু প্রাইমএশিয়ার বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে এ বিভাগটি অন্যতম। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের কদর রয়েছে পুরো বিশ্বে। আমাদের দেশেও সে চাহিদা তৈরি হয়েছে। সেদিক থেকে কারো চাওয়া যদি হয় এ বিষয়ের ওপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের, তাহলে তাকে কিন্তু সেই সুযোগ করে দিচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়।

এখানকার সুদক্ষ ট্রাস্টি বোর্ড ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা, দেশ-বিদেশে পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ ১৯০ জন পূর্ণকালীন শিক্ষকমণ্ডলী, বিশ্বমানের সর্বজনীন শিক্ষা কারিকুলাম ও পাঠদান পদ্ধতি প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে করে তুলেছে অনন্য।

সৃজনশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক শিক্ষা পদ্ধতির পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মানসিক উত্কর্ষ সাধনও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া ফলাফল এবং অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ বৃত্তি দিয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

চারটি অনুষদে আছে ১২টি বিভাগ: বর্তমানে প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি অনুষদে ১২টি বিভাগ চালু রয়েছে। যার মধ্যে মোট ১৯টি শিক্ষাক্রম রয়েছে। স্কুল অব বিজনেস অনুষদের প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে বিবিএ, এমবিএ ও ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট।

স্কুল অব সায়েন্সের অধীনে আছে মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, পাবলিক হেলথ নিউট্রিশন ও ফার্মেসি। স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেকচার (স্থাপত্য) বিভাগ রয়েছে।

মাইক্রোবায়োলজি ও ফার্মেসিতে রয়েছে স্নাতকোত্তর (এমএস) ডিগ্রি লাভের সুযোগ। এছাড়া আইন বিষয়ে এলএলবি অনার্স পড়াশোনার সুযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দিয়েছে পূর্ণাঙ্গ রূপ। সারাক্ষণ পড়াশোনার কথা শুনতে কারইবা ভালো লাগে। তাই তো পড়ার ফাঁকে যদি কিছুটা সময় কাটিয়ে দেয়া যায় মনের মতো করে, তবে মন্দ হয় না।

পড়াশোনার বাইরেও শিক্ষার্থীদের যে জগৎ রয়েছে, সেটিও প্রাধান্য পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা এটিএন বাংলা-ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট ২০১৬তে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ক্লাব।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা তো রয়েছেই। ছাত্র-শিক্ষক নিয়ে গঠিত বেশ কয়েকটি সহশিক্ষা ক্লাব সক্রিয় আছে। আর যা উল্লেখ না করলেই নয়। তা হচ্ছে, উন্নত পরিবেশের একটি ইনডোর স্পোর্টস রুম রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে। যেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

উপাচার্যের কথা: ড. প্রফেসর আব্দুল হান্নান চৌধুরী, উপাচার্য, প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
‘এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিষয়গুলো’: ব্যতিক্রমধর্মী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাইমএশিয়া। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে খানিকটা ভিন্নভাবে ভাবতে পেরেছে তারা।

কেননা এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিষয়গুলো, যা এ সময়ে খুব কম বিশ্ববিদ্যালয়ই ভাবতে পেরেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় সবসময়ই খুব বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না, তবুও যেহেতু এটি যুগোপযোগী বিষয়, তাই একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবসা করা থেকে শিক্ষিত জাতি গঠনের বিষয়ে মনোযোগী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে।

আমরা এখানে চেষ্টা করছি আধুনিক বিষয়গুলো যুক্ত করার। এছাড়া যে বিষয়টি বলতে চাই, কর্মজীবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সুষ্ঠুভাবে চালানোর সুযোগও রয়েছে এখানে। এ দেশের প্রেক্ষাপটে জীবিকার তাগিদেই কখনো হয়তো কাউকে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। কিন্তু যদি কেউ চান তিনি পুনরায় পড়াশোনা করবেন, স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করবেন, তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা।

ছুটির দিনে তাদের ক্লাস এবং বিশেষ বৃত্তি সুবিধা দেয়া হয়। ভালো ফলাফলের জন্যও এ বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ বৃত্তিটুকু প্রদান করছে। সবমিলে বলা যায়, কারো যদি প্রবল ইচ্ছা থাকে পড়াশোনা করার, তার জন্য সামগ্রিক সুবিধা দিতে প্রস্তুত প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য বৃত্তিসহ উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে উন্নত বিশ্বে পড়াশোনার সুযোগসহ সব ডিগ্রিধারীকে কর্মজীবনে সফল হওয়ার জন্য উপদেশমূলক নানা কাজ করে যাচ্ছে প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সেজন্য ক্যাম্পাসে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতার উন্নতিকল্পে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

তথ্যসূত্র: বনিকবার্তা।

More News Of This Category