1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

ভারতের রপ্তানী করা চিংড়ি ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ভারতের রফতানি করা একের পর এক চিংড়ির চালান ফেরত পাঠাচ্ছে ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইউএসএফডিএ)। পরীক্ষার পর এসব চিংড়িতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সালমোনেলা এবং নিষিদ্ধ অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়ার কারণেই তা ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন ভারত নিজস্ব পরীক্ষা কার্যক্রম আরো ‘কঠোর’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকেও সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) উত্থাপিত পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে ভারত। খবর দ্য হিন্দু ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি নিয়ে নয়াদিল্লির উপস্থাপিত পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি কীভাবে সহজ করা যায়, সে বিষয়ে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বৃহত্তম চিংড়ি রফতানিকারকদের মধ্যে ভারত অন্যতম। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএর পরীক্ষা মানদণ্ড এবং অন্য পদক্ষেপগুলো আমাদের রফতানিকারকদের জন্য বোঝাসম হয়ে উঠছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, সালমোনেলার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত চিংড়ির মোট ৬৩টি চালান ফেরত পাঠিয়েছে এফডিএ। এর মধ্যে ৫৫টি চালানই ভারত থেকে রফতানি করা। এছাড়া নিষিদ্ধ অ্যান্টিবায়োটিক থাকায় ৪৩টি চিংড়ির চালান গ্রহণ করেনি যুক্তরাষ্ট্র, যার মধ্যে ভারতের রয়েছে ১৫টি।

প্রসঙ্গত, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সালমোনেলার কারণে এক ধরনের বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, যা অনেক সময় খাদ্য অথবা পানিকে দূষিত করে তোলে। এর ফলে খাদ্যসৃষ্ট সংক্রমণ হয়, যা সালমোনেলসিস নামে পরিচিত। এ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে অনেক সময় মৃত্যু পর্যন্ত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের চিংড়িচাষী ও প্রক্রিয়াজাতকারীদের সংগঠন সাউদার্ন শ্রিম্প অ্যালায়েন্সও (এসএসএ) ভারতের রফতানি করা চিংড়ি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ‘ভারতের রফতানি করা চিংড়িতে অব্যাহতভাবে সালমোনেলা অথবা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পেয়ে যাচ্ছে এফডিএ।

এ অবস্থায় ভারতের জলজচাষ ব্যবস্থায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেসিস্ট্যান্ট (এএমআর) প্যাথোজেন বেড়ে যাওয়া ও ছড়িয়ে পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভারতীয় চিংড়ি আমদানির মাধ্যমে এএমআর ব্যাকটেরিয়া যুক্তরাষ্ট্রেও সংক্রমিত হতে পারে।’

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চালান প্রত্যাহারের ঘটনাকে ভারত থেকে চিংড়ি রফতানি বেড়ে যাওয়ায় অশুল্ক বাধা হিসেবে দেখছে ভারতের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পটির সঙ্গে জড়িত অনেকে। কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চিংড়ি রফতানি দ্রুতগতিতে বাড়ছে।

সর্বশেষ আট বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের উষ্ণপানির হিমায়িত চিংড়ি রফতানি সাত গুণ বেড়ে ২০১৭ সালে ২২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিংড়ি রফতানিকারক হয়ে উঠেছে ভারত। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকৃত উষ্ণপানির হিমায়িত চিংড়ির মধ্যে ৩৫ শতাংশই ভারত থেকে এসেছে, যা ২০১০ সালের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি।

হিন্দু বিজনেসলাইনকে ভারত সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘ইউএসএফডিএ ইদানীং খুব আগ্রাসীভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। ফলে ফেরত আসা চালানের সংখ্যা বাড়ছে। এ প্রত্যাহারের কারণ প্রকাশে আরো স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করছে ভারত। এছাড়া একটি মানদণ্ড নির্ধারণে আলোচনাও করতে চাই আমরা।’

ডব্লিউটিওতে উত্থাপিত ভারতের পর্যালোচনা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে— আম, মধু ও আঙুরের মতো কৃষিপণ্যগুলোর রফতানিও পরীক্ষার মানদণ্ড এবং জটিল এসপিএস (স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি) শর্তাবলির কারণে ব্যাহত হচ্ছে।

More News Of This Category